একান্ত সাক্ষাৎকারে বিসিবি’র এজ গ্র“পের প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ তসলিমউদ্দিন খান তুহিন, ভেন্যু হিসেবে সাতক্ষীরা সম্ভাবনাময়


প্রকাশিত : এপ্রিল ২৪, ২০১২ ||

দক্ষিণে বাংলার অপরুপ সৌন্দর্য সুন্দরবন। প্রকৃতির এই সুন্দর লীলাভূমি বেষ্টিত সাতক্ষীরা জেলা। জেলা সদরে অবস্থান সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের। সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র প্রাণসায়ের খালের পাশে অবস্থিত এই স্টেডিয়াম সত্যিই অতুলনীয়। গ্যালারি আর ড্রেসিং রুম এখনও অসম্পন্ন থাকলেও স্টেডিয়ামের সবুজ বুক আর ক্রিকেটের লাল-সাদা বল মাঠে গড়ানোর জন্য সর্বাপেক্ষা অবশ্যক বিষয় উইকেট (পিচ) দেখে বিমোহিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড’র এজ গ্রুপ (বয়স ভিত্তিক)’র প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ তসলিমউদ্দিন খান তুহিন। জেলার ক্রিকেট সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স এ্যান্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্য দেবাশিস বসু (শেখর)’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তসলিমউদ্দিন খান তুহিন।

গত ১০ এপ্রিল থেকে সাতক্ষীরায় শুরু হয় ইয়ং টাইগার্স অনুর্ধ-১৪ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। এই চূড়ান্ত পর্বের জন্য বাংলাদেশের দুটি জেলাকে বেছে নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেটার বাছাইসহ ক্রিকেটের মান উন্নয়নে এজ (বয়স) গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাধারণত ঢাকাতে ইতোপূর্বে এ ধরনের জাতীয় আয়োজন করা হতো। সম্প্রতি ক্রিকেট বোর্ড হান্টিংসহ বিভিন্নভাবে খেলোয়াড় বাছাই করে তাদেরকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বয়স ভিত্তিক খেলা, ক্যাম্পিং ও স্কুল ক্রিকেটের আয়োজন। খেলোয়াড়দের ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে খেলায় অভ্যস্ত করতে বিসিবি সচেষ্ট। জাতীয় এই আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলার পারফরমেন্স আকাঙ্খার চেয়েও অনেক ভাল বলে মন্তব্য করে তসলিমউদ্দিন বলেন, মাঠ পরিচর্যা ও উইকেট সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। অপূর্ণতা রয়েছে ড্রেসিং রুম ও বাউন্ডারি রোপ এর। তিনি এ বিষয়ে সাজেক্রীস সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি’র পরিচালক সহিদুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। গ্যালারির পূর্ণতা আসলে এই স্টেডিয়াম দেশের অন্যতম ক্রিকেট স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাতক্ষীরার আবাসন সম্পর্কে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিসিবি’র এজ গ্রুপ এর প্রোগ্রাম অফিসার বলেন, এখানে আরও কিছু আবাসিক হোটেল প্রয়োজন। যেগুলো আছে সেগুলো দিয়ে এই ধরনের আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু আরও বড় আয়োজনের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে আরও আন্তরিক হলে জেলার সরকারি রেস্ট হাউজসমূহ জাতীয় এ ধরনের আয়োজনে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় ম্যাচ উপভোগকারী প্রবীণ এই কর্মকর্তা সাতক্ষীরার আম্পায়ারিং এর মানের প্রশসংসা করে বলেন, বয়সভিত্তিক খেলা হিসেবে আম্পায়াররা মাঠে যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন। তাঁর কাছে মনে হয়েছে যে ৫ জন অভিজ্ঞ আম্পায়ার মাঠ পরিচালনা করেছেন তারা শাসক নয়, সহযোগী হিসেবে ক্ষুদে ক্রিকেটারদের মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন ও ক্রিকেটের আইন প্রয়োগ করেছেন। তাঁরা সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের আন্তরিকতায় ১৪ বছরের ক্ষুদে টাইগাররাও খুশি বলে তিনি জানতে পেরেছেন যা দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।

আয়োজক হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভূমিকাও প্রশংসনীয় বলে এই কর্মকর্তা বলেন, সাতক্ষীরার আতিথেয়তায় তিনি খুশি। সমন্বয়ক হিসেবে আল আমিন কবির চৌধুরী ডেভিডের বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতাকে ফোকাস করে তিনি সুন্দরবন ভ্রমণকে আয়োজক জেলার এক অনবদ্য সফলতা বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইতোপূর্বে এ ধরনের এক আয়োজনে সেই সময় সাতক্ষীরা ভ্রমণকারী দলগুলো নিজ খরচে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছিল। কিন্ত এবার এখানকার আতিথেয়তা ও আন্তরিকাতায় আগত সকল টিমের কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও বিসিবি’র কর্মকর্তারা আনন্দিত। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভেন্যু ম্যানেজার আল আমিন কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে আয়োজক জেলার ব্যয়ে সাতক্ষীরা ভেন্যুতে অংশগ্রহণকারী মোট ৭টি বিভাগীয় দলই দুইটি ভাগে দুইবার সুন্দরবন ভ্রমণ করেছে যা ভ্রমণকারী সকলের জীবনে মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে সুন্দরবন সাতক্ষীরাকে হাইলাইট করে রাখবে। এখানকার পরিবহন ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেন, এই জেলায় খাওয়া-দাওয়াও মানসম্মত। জেলাবাসী অনেক সচেতন।

সর্বোপরি, বিসিবি’র এই কর্মকর্তা আগামীতে সাতক্ষীরাতে এ ধরনের জাতীয় আয়োজনের বিষয়ে বিসিবি’র দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয নিশ্চিত করে বলেন, ভেন্যু হিসেবে সাতক্ষীরা সম্ভাবনাময়। ক্রিকেটে সাতক্ষীরা অনেক উন্নত। ২০০১ সালে তিনি মাইলো টুর্ণামেন্ট এ সাতক্ষীরা এসেছিলেন। বর্তমানে এই জেলায় সার্বিক দিক থেকে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বয়স ভিত্তিক খেলাসহ জেলার খেলাগুলো সম্পন্ন করার জন্য এই ভেন্যু খুবই ভালো। আগামীতে বয়স ভিত্তিক আবাসিক ক্যাম্প পরিচালনার জন্য তিনি সুপারিশ করবেন বলে জানান। সাতক্ষীরার একাধিক সম্ভাবনামুখ দেশের ক্রিকেটে অনেক উচ্চ পর্যায়ে তাদের অবদান রেখেছে। তাই সাতক্ষীরার ক্রিকেটের উন্নয়নে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অবশ্যই আন্তরিকভাবে সহায়তা করবে।