রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদ: সেজেছে দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ঈদ: সেজেছে দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন সাজে সেজে উঠেছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার টাউনশ্রীপুরে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র “রূপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট”। ইছামতি নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সীমান্তঘেঁষা নিরিবিলি পরিবেশ ও মনোরম আবহ সৃষ্টি করায় বিনোদন কেন্দ্রটি ইতোমধ্যেই পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের বাড়তি ভিড় সামলাতে এবং আনন্দ দিতে পুরো এলাকাজুড়ে নানামুখী সৌন্দর্যবর্ধন ও সাজসজ্জার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী টাউনশ্রীপুরের সেই পুরনো জৌলুস অনেকটাই হারিয়ে গেলেও এখানকার বিখ্যাত ব্যক্তিদের বাসস্থান, পুরাতন স্থাপনা ও বিভিন্ন প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন এখনো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের মতে, শুধুমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট নয়, পুরো টাউনশ্রীপুর এলাকাকে কেন্দ্র করেই এখানে একটি বিশাল পর্যটন সম্ভাবনা গড়ে তোলা সম্ভব।

পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ইছামতি নদীর মনোরম পরিবেশ। নদীর একপাশে বাংলাদেশ এবং অন্যপাশে ভারত— মাঝখানে শান্ত ইছামতি নদী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিরিবিলি সময় কাটাতে সব বয়সী মানুষের কাছেই জায়গাটি বেশ প্রিয়।

দর্শনার্থীরা জানান, সুন্দরবনের আদলে তৈরি এই কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ ফরেস্টে এসে স্বল্প খরচে সুন্দরবন ভ্রমণের অনুভূতি পাওয়া যায়। বিশেষ করে ঈদ বা বিভিন্ন সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দূরে না গিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটানোর জন্য এটি এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র। এছাড়া নারী ও শিশুদের জন্য স্থানটি অত্যন্ত নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব হওয়ায় প্রতিদিন এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণ দিনেও এখানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। আর ঈদ, পূজা বা বড় কোনো ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়ে যায় ৩ থেকে ৪ হাজারে।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিলন সাহা বলেন, “রূপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বর্তমানে জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পর্যটকদের জন্য কেন্দ্রটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।”

Ads small one

আইলার ১৬ বছর: লোনা পানি আর স্বজন হারানোর ক্ষত আজও শুকায়নি উপকূলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আইলার ১৬ বছর: লোনা পানি আর স্বজন হারানোর ক্ষত আজও শুকায়নি উপকূলে

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির): আজ ভয়াল ২৫ মে। ২০০৯ সালের এই দিনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হেনেছিল শতাব্দীর অন্যতম প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’। দেখতে দেখতে দীর্ঘ ১৬টি বছর পার হয়ে গেলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনির জীর্ণ বেড়িবাঁধ আর লোনা পানির গ্রাসে থাকা লাখো মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। লোনা পানির আগ্রাসন, সুপেয় পানির তীব্র সংকট আর স্বজন হারানোর ক্ষত নিয়ে এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন উপকূলীয় এই জনপদের বাসিন্দারা।

২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার প্রভাবে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতার আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই ল-ভ- হয়ে গিয়েছিল সাতক্ষীরার উপকূল। ভেসে গিয়েছিল মানুষ, গবাদিপশু আর ঘরবাড়ি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সে সময় সাতক্ষীরায় ৭৩ জন নিহত, দুই শতাধিক আহত এবং প্রায় ৬ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। ১৬ বছর পর সরকারি নথির সেই পরিসংখ্যানের হিসাব মিললেও, উপকূলের মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তব চিত্রটা বদলায়নি একটুও।

শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার ৯ নম্বর সোরা গ্রামের মাজেদ শেখের পরিবারের কাছে আইলার স্মৃতি আজও এক জীবন্ত নরক। জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে নৌকাডুবিতে তিনি তিন মেয়ে ও গর্ভবতী পুত্রবধূসহ পরিবারের ছয়জনকে হারান। চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দুজনের খোঁজ আর কোনোদিন মেলেনি। স্বজন হারানোর সেই ধাক্কা আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি মাজেদ শেখ ও তাঁর স্ত্রী আমেনা খাতুন। একটি জীর্ণ খড়ের কুঁড়েঘরে কাটছে তাঁদের জীবন। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। পুনর্বাসন আর স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশনের সরকারি-বেসরকারি শত প্রতিশ্রুতি থমকে গেছে তাঁদের মাত্র এক ফুট উঁচু, তালপাতার বেড়া দিয়ে তৈরি ব্যবহারের একমাত্র টয়লেটের কাছেই।

একই এলাকার সালমা খাতুনের গল্পটি আরও মর্মস্পর্শী। জলোচ্ছ্বাস শুরু হলে পরিবারের ১৯ জনকে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন তাঁরা। কিন্তু মাঝনদীতে প্রচ- স্রোতে নৌকাটি উল্টে গেলে মুহূর্তেই প্রাণ হারান পরিবারের ১১ জন। প্রচ- স্রোতের মধ্যে পিঠে বড় মেয়ে আর কোলে দুধের শিশুকে নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা পানিতে ভেসেছিলেন সালমা। বড় মেয়েকে বাঁচাতে পারলেও তাঁর চোখের সামনে লোনা পানি আর ঠান্ডায় নিথর হয়ে যায় কোলের শিশুটি। ১৬ বছর পরও মে মাস এলেই সেই নদী, স্রোত আর সন্তানের শেষ মুহূর্তের আকুতি তাড়া করে ফেরে সালমাকে।

আইলা-পরবর্তী দিনগুলোর স্মৃতি আজও এই জনপদের মানুষকে শিউরে তোলে। চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল লাশ। অনেকের শরীর এতটাই পচে গিয়েছিল যে শেষ গোসলটুকু পর্যন্ত করানো সম্ভব হয়নি। বস্তায় ভরে, বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কাদার ভেতরেই দাফন করা হয়েছিল অনেককে।

১৬ বছর পার হলেও এই জনপদের মানুষ পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। স্থানীয় সংকটের পাশাপাশি এখন বড় হয়ে উঠেছে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। লবণপানির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতিতে নষ্ট হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, কমেছে কর্মসংস্থান এবং তীব্র আকার ধারণ করেছে সুপেয় পানির সংকট।

প্রতি বছরই টেকসই বাঁধের নামে কোটি কোটি টাকার বাজেট ও বরাদ্দ থাকলেও উপকূলের মানুষের ভাগ্য বদলানোর মতো স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, উপকূলজুড়ে জলবায়ু সহনশীল ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, দীর্ঘ সময় পর এবার গাবুরাতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ মাঠপর্যায়ে চলমান রয়েছে। তবে বছরের পর বছর ধরে চলা এই ধীরগতির উন্নয়ন উপকূলের মানুষের লোনা পানির আতঙ্ক পুরোপুরি দূর করতে পারছে না। আইলার দীর্ঘ ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও মাজেদ শেখের নিখোঁজ সন্তানদের শেষ দাফনটুকু করতে না পারার আফসোস কিংবা সালমা খাতুনদের বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস আজও মুছতে পারেনি কোনো উদ্যোগ। উপকূলাবাসীর একটাই দাবি—ত্রাণ বা অনুদান নয়, তাঁরা বাঁচতে চান একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে।

আশাশুনি সদরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনি সদরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনি সদর ইউনিয়নে অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাশ এবং সদর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম হোসেনুজ্জামান হোসেনের উপস্থিতিতে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ৬৯৪ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে পৃথক পৃথক স্থানে মোট ৬ মেট্রিক টন ৯৪০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

দুর্যোগ সচেতনতায় তালায় ঐতিহ্যবাহী পটগান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
দুর্যোগ সচেতনতায় তালায় ঐতিহ্যবাহী পটগান

তালা প্রতিনিধি: দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ে গ্রামীণ জনপদের মানুষকে সচেতন করতে সাতক্ষীরার তালায় ৪টি ঐতিহ্যবাহী ‘পটগান’ পরিবেশন করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড কনসার্নের আয়োজনে উপজেলার খলিলনগর ও তালা সদর ইউনিয়নে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উজির হোসেনের পরিচালনায় ১৪ থেকে ২০ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গোনালী এফবিসিবি চার্চ, আটারই হোপ চার্চ, মুড়াকলিয়া এমকে হাইস্কুল মাঠ এবং মাছিয়াড়া গ্রামের দাসপাড়ায় এই পটগানগুলো অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার সুশীলন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পী লিজা পারভীন, সাথী বিশ্বাস, লাবনী রায়, শেখর বৈরাগী ও পবিত্র রায়সহ অন্যান্যরা এই পরিবেশনায় অংশ নেন।