রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কলারোয়ায় সাফল্য ছড়াচ্ছেন সাত্তার: ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিংয়ে কৃষিতে বিপ্লব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় সাফল্য ছড়াচ্ছেন সাত্তার: ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিংয়ে কৃষিতে বিপ্লব

সংবাদদাতা: একসময়ের সাধারণ কৃষক আব্দুস সাত্তার সানা এখন কলারোয়ার গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনুকরণীয় রোল মডেল। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি এখন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার অন্য কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে। কলারোয়া উপজেলার যুগীখালী ইউনিয়নের কামারালী গ্রামের এই সফল কৃষকের উদ্যোগে এলাকায় শুরু হয়েছে নিয়মিত ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিং ও কৃষি সমাবেশ, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

শূন্য থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রথম কৃষিকাজে হাত দেন আব্দুস সাত্তার সানা। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি এলাকায় গড়ে তোলেন এক বিশাল ‘সবজি সমারোহ মাঠ’। সবজি চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের পর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। একে একে গড়ে তোলেন মৎস্য ঘের এবং গরু-ছাগলের খামার।

কৃষির উপার্জনেই তিনি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেকে একটি মুদি দোকান করে দিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন। শুধু তাই নয়, নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে নতুন কৃষি জমি ক্রয় ও বন্ধক রেখে বর্তমানে তিনি এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

‘কৃষক প্রেমিক দল’ ও স্বেচ্ছাশ্রম নিজে স্বাবলম্বী হয়েই ক্ষান্ত হননি সাত্তার সানা। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা কলারোয়ার সাধারণ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি গঠন করেছেন ‘কৃষক প্রেমিক দল’। এই দলের ব্যানারে তিনি নিয়মিত আয়োজন করছেন কৃষি পরামর্শ সভা ও সমাবেশ। তার সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়ে এলাকার সাধারণ কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠের পর মাঠ সবজি চাষ শুরু করেছেন। ফলে পুরো যুগীখালী ইউনিয়ন এখন কৃষিখাতে এক উর্বর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাশ্রমের কাজেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কৃষক। সম্প্রতি যুগীখালী ইউনিয়নের ওফাপুর মাঠপাড়া মাঝের খালের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে ১৬৮০ মিটার দৈর্ঘ্য, ২৫ ফুট প্রস্থ এবং ৮ ফুট গভীরতার এক বিশাল খাল পুনঃসংস্কার করেন। এতে করে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এখন তিনি রিজারভার ও খাল খনন করে এলাকার চাষিদের পানির চাহিদা মেঠাচ্ছেন।

এছাড়া ৬বিঘা মিশ্র মৎস্য ঘেরের পাড়ে পড়ে থাকা আইল বা জমিতে ছিম সহ বিভিন্ন সবজির ফসল করে এলাকাবাসীর ত্যাগ লাগিয়েছেন। আর এ কাজে সার্বক সহযোগীতা করে আসছেন-টেকসই কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ এবং আন্তার্জাতিক সংস্থা সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আব্দুস সাত্তার সানার নিঃস্বার্থ পরামর্শ এবং খালের জলাবদ্ধতা দূর করার দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে তারা এখন নির্বিঘ্নে ফসল ফলাতে পারছেন। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে পুরো এলাকার কৃষির চিত্র বদলে দিতে পারেন, সাত্তার সানা তার বাস্তব প্রমাণ। এলাকার কৃষকরা এখন তাকে একজন ‘কৃষক বন্ধু’ হিসেবেই দেখছেন।

 

Ads small one

শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের বিচার দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের বিচার দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন

সংবাদদাতা: রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং চট্টগ্রামে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৪ মে (রবিবার) বেলা ৩টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট (জিকা) এই কর্মসূচির আয়োজন করে। ‘কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচী– সিআরইএ’ প্রকল্পের আওতায় এবং লিডার্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও এ্যাম্বাসি অব সুইডেনের সহযোগিতায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্ষণ, নিপীড়ন ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং শিশু রামিসার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি সংবলিত ফেস্টুন দেখা যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও নারী সহিংসতার ঘটনা সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়ছে। শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সমাবেশ থেকে শিশু রামিসার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবির পাশাপাশি দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

 

চলে গেলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান গদাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
চলে গেলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান গদাই

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধের দুঃসাহসী নায়ক আতিয়ার রহমান গদাই আর নেই। রবিবার সকাল ছয়টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়াস্থ নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

 

মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে তাহজ্জত হোসেন হিরু একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, মেজো ছেলে সাহাদাৎ হোসেন হিরু বিসিএস ক্যাডার (আনসার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার) এবং ছোট ছেলে মিথুন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারুলিয়ার মৃত এজাহার আলী সরদারের কনিষ্ঠ পুত্র আতিয়ার রহমান এলাকায় ‘গদাই’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এই মানুষটি আজীবন সাধারণ জীবনযাপন করেছেন এবং দানশীলতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তরুণ বয়স থেকেই অভাবী ও অসহায় মানুষকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া ছিল তাঁর মানবিক স্বভাব।

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। রণাঙ্গনের সহযোদ্ধা ও দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বারী মোল্ল্যা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “গদাই চাচা ছিলেন অসীম সাহসী ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক বজ্রকঠিন ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালে দেশের টানে কাউকে না জানিয়ে আমাদের নিয়ে তিনি সীমান্ত পাড়ি দেন এবং ভারতের বিহার, দেরাদুন ও হাবলঙে প্রশিক্ষণ নেন। সাতক্ষীরা ও দেবহাটার একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে তিনি জীবনপণ লড়েছেন। একবার যুদ্ধের মাঠে গুলি ফুরিয়ে গেলে তিনি এক পাকিস্তানি সেনাকে অস্ত্রসহ জাপটে ধরে বন্দি করেছিলেন। তাঁর এই বীরত্ব বহু মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছিল।”

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আতিয়ার রহমান গদাই জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বীর উত্তম মেজর জলিল, আ স ম আবদুর রব এবং তাত্ত্বিক নেতা সিরাজুল আলম খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সাতক্ষীরায় ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের সহযোগী হিসেবে জাসদ গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হন।

 

রাজনৈতিক কারণে একাত্তর-পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের সময়ে তিনি নানাভাবে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকারও হয়েছিলেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

 

কয়রার ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
কয়রার ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ, দলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত এক নেতার স্থায়ী বহিষ্কার এবং খুলনা জেলা ছাত্রদলের কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে সাতক্ষীরার কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলা ছাত্রদল।

 

রবিবার বিকেলে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে কপোতাক্ষ কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মধুর মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আরিফ বিল্লাহ সবুজ, সদস্যসচিব মো. মাহমুদ হাসান, ছাত্রনেতা ইমরান হোসেন, মামুন হোসেন, তাজমিরুল, ইয়াসিন আরাফাত, কপোতাক্ষ কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি তামিম আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল, খান সাহেব কোমরউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি নূর আলম, কয়রা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মাশরাফি আজাদ, মহারাজপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান, বেদকাশি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন এবং মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়েজকুরনি প্রমুখ।