কলারোয়ার কামারশালায় টুংটাং শব্দে ঈদের আগমনী বার্তা
আরিফ মাহমুদ: ঈদুল আজহার আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। এখনই চারদিকে ছড়াতে শুরু করেছে কোরবানির আমেজ। আর এই আমেজ সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে কলারোয়ার কামারশালাগুলোতে। কয়লার দগদগে আগুনে পুড়ছে লোহা, আর হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে ধারালো সব সরঞ্জাম। ‘টুংটাং’ শব্দের সেই চিরচেনা ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে, দুয়ারে কড়া নাড়ছে উৎসব।
কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রস্তুত করা-সবখানেই অপরিহার্য দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। তাই বছরের অন্য দিনগুলোতে অলস সময় পার করলেও এখন দম ফেলার ফুসরত নেই কামারদের। কলারোয়া পৌর সদরের হাসপাতাল রোড থেকে শুরু করে উপজেলার চন্দনপুর, ফজলেপুর, বসন্তপুর, দেয়াড়া, কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়িয়া ও কেরালকাতাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদের কামারশালাগুলো এখন মুখর। কেউ পুরোনো সরঞ্জামে শান দিচ্ছেন, কেউ বা ফরমাশ অনুযায়ী লোহা পিটিয়ে তৈরি করছেন নতুন দা-বটি।
সরেজমিনে বিভিন্ন কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, আগুনের তীব্র তাপে ঘেমে নেয়ে একাকার কারিগররা। একহাতে হাঁপর টেনে আগুন জ্বালিয়ে রাখছেন, অন্যহাতে লাল টকটকে লোহা পিটিয়ে নিখুঁত রূপ দিচ্ছেন কাক্সিক্ষত অস্ত্রের। তবে কারিগরদের চোখে-মুখে ক্লান্তির চেয়ে ব্যস্ততার আনন্দই বেশি। বছরের এই একটা সময়েই যে তাঁদের সুদিন ফেরে!
তবে এবারের বাজারে উপকরণের বাড়তি দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই। কামারদের ভাষ্য, লোহা ও কাঠের কয়লার দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি, যার প্রভাব পড়ছে তৈরি পণ্যের দামেও।
বামনখালী ফজলেপুর গ্রামের কারিগর উত্তম সেন কর্মকার বলেন, “আমরা মূলত গাড়ির স্প্রিং ও সাধারণ লোহা দিয়ে দা, বটি ও ছুরি তৈরি করি। স্প্রিংয়ের লোহার তৈরি জিনিসের টেকসই ও ধার বেশি হয়, তাই দামও একটু বেশি। এবার ভালো একটি দা ওজন ও মানভেদে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বটি ৩৫০ টাকা এবং ছোট-বড় ছুরি মিলছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।”
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে, কামারশালাগুলোর এই ব্যস্ততা আর হাতুড়ির আওয়াজ ততই তীব্র হবে। চেনা এই টুংটাং শব্দ যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর কোরবানির ঈদ আর মাত্র কয়েক দিন দূরে।












