ফিংড়ীতে নিজস্ব জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, বিচার দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৪ নম্বর ফিংড়ী ইউনিয়নে প্রকৃত নকশা (ম্যাপ) অনুযায়ী সরকারি রাস্তা না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফিংড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পরিতোষের মিল থেকে গ্রীন পার্ক পর্যন্ত ইটের রাস্তাটি প্রশস্ত করে পিচের রাস্তায় রূপান্তরের কাজ চলছে। চলমান এই রাস্তার পথিমধ্যে আসমানী বেগম (৬০) ওরফে আসমা খাতুন নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর ১২ শতক জমির মধ্যে ৬ শতকের ওপর দিয়ে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। বিআরএস দাগ নম্বর ৩৩ ৬৬-এর ওই জমির মালিক আসমানী বেগম জমি রক্ষায় ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা জজ কোর্টে দেওয়ানি মামলা (নং-৭৭৯, তারিখ: ২০-০৪-২০২৩) দায়ের করেছেন। যেখানে সরকারি রাস্তার প্রকৃত দাগ নম্বর ২২৩৮।
আসমানী বেগমের অভিযোগ, জোরপূর্বক জমি দখলের পাশাপাশি স্থানীয় তৈয়েবুর রহমান (৫৪) ও সোহাগ সরদার (৫০) তাঁর জমি থেকে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের গাছগাছালি কেটে নিয়েছেন। গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তাঁকে ও তাঁর ছেলে শুকুর আলীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে সিআর মামলা (নং ৮১০, তারিখ: ০৬-০৭-২০২৬) করেছেন।
এর আগে আসমানী বেগম প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী সরকারি দাগে রাস্তা নির্মাণের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে আবেদন করেন। আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হয়ে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে গেলে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) তদন্ত করে আসমানী বেগমের পক্ষে এবং সরকারি দাগে রাস্তা তৈরির প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী কাজ হলে দখলকৃত জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় তৈয়ব ও সোহাগ প্রতিনিয়ত তাঁকে মিথ্যা মামলা ও হুমকি দিয়ে হয়রানি করছেন। অবশ্য এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ হোসেন বলেন, “প্রকৃত দাগের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান জানান, ম্যাপ অনুযায়ী সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর সুপারিশ পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আসমানী বেগম।









