সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তি কি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তি কি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত হিসেবে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার দাবিতে অটল থাকবেন। রবিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে দুই নেতার মধ্যকার ফোনালাপের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া এবং ইরানি ভূখণ্ড থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিতে তিনি আলোচনায় অবিচল থাকবেন। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তিনি কোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।’

তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এবং তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফরের পর শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে’ এবং এখন শুধু তা আনুষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর পরেই মূলত পারমাণবিক বিষয় নিয়ে এই ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে এলো।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার বলেছেন, পারমাণবিক বিষয়টি প্রাথমিক কোনও রূপরেখার অংশ ছিল না। এটি পরবর্তী পর্যায়ে ‘পৃথক আলোচনার বিষয়’ হিসেবে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত করা ইসরায়েল এখানে একটি চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার ভূমিকা নিতে পারে। এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের পারমাণবিক নথিপত্র মার্কিন প্রশাসনের দেখভালের পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির মধ্যে কোনও যোগসূত্র তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ‘প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘোষণা করা হবে, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘এই ব্যবস্থার অধীনে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ইসরায়েলও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

ইরানি গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে যে, তেহরান প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক বা এক ধরনের রূপরেখা চুক্তি তৈরি করতে চায়, যার পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে। তবে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা মনে করে যে ‘ইরানিরা মূলত সময়ক্ষেপণ করছে এবং ৬০ দিন পর তেহরান কোনও ধরনের ছাড় দিতে তাদের অনীহার কথা জানিয়ে দেবে।’

এই পরিস্থিতির মধ্যেই, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতির খবরের মধ্যে রবিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের বৈঠক বসার কথা রয়েছে বলে কেএএন জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওয়াশিংটন চলমান আলোচনা সম্পর্কে তেল আবিবকে প্রতিনিয়ত অবহিত রাখছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসরায়েল ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যেকোনও হুমকির বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখবে।’

এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে চুক্তিটি গড়ে উঠছে তা অত্যন্ত ‘খারাপ’। সূত্রটি চ্যানেলটিকে বলে, এটি মূলত এই বার্তাই দেয় যে হরমুজ প্রণালি হলো ‘ইরানের হাতে থাকা একটি অস্ত্র, যা কোনও পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে কম কার্যকর নয়’।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় শর্ত রাখা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরান বা তার মিত্রদের ওপর আক্রমণ করবে না এবং এর বিনিময়ে ইরানও তাদের ওপর কোনও আগাম বা প্রতিরোধমূলক হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ বেনি গান্তজ বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত ভুল হবে, যেখানে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও তেল আবিব এখনও বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই সব আলোচনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন যে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফোনালাপ ‘খুব ভালো’ হয়েছে।

আর রবিবার নেতানিয়াহু সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পারমাণবিক হুমকি দূর করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পারমাণবিক হুমকি দূর করার অর্থ হলো, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা বা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেশটির ভূখণ্ড থেকে সব সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া।

তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে তেহরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি।

ওই সূত্র মতে, ‘পারমাণবিক ইস্যুটি মূলত একটি চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় সমাধান করা হবে এবং সে কারণে এটি বর্তমান চুক্তির অংশ নয়। ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার বা স্থানান্তরের বিষয়ে কোনও ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি।’

ততক্ষণে ট্রাম্প আবার নিজের অবস্থান কিছুটা পাল্টে ফেলেছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ‘সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে অগ্রসর হচ্ছে’ বলে দাবি করলেও তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের তাড়াহুড়ো না করতে নিজের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি আমার প্রতিনিধিদের চুক্তির জন্য তাড়াহুড়ো না করতে জানিয়ে দিয়েছি এবং সময় এখন আমাদের পক্ষেই রয়েছে।’

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Ads small one

লাঙ্গলদাড়িয়ায় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
লাঙ্গলদাড়িয়ায় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় ডিডকৃত (চুক্তিভিত্তিক লিজ) ও পৈতৃক সম্পত্তির একটি মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘের ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী জানান, তিনি লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় পৈতৃক ও ডিডকৃত ২১০ বিঘা জমিতে ২০২১ সাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করে আসছেন। ২০২৬ সালে হিসাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অংশ বাদ দিয়ে ১৭৬.৫৭ বিঘা জমি তার পাওনা হয়, যার মধ্যে ১৫৯ বিঘা জমি তিনি বুঝে পেয়ে গত ৬ মাস ধরে ভোগদখল করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই হিসাব চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু গত ১৪ জুন অধ্যাপক সিরাজুল কবির ঘেরের জমি নিজের দাবি করে আকস্মিক দখলের চেষ্টা চালান এবং ১৫ জুন শ্রমিক নিয়ে ঘেরে নামেন।
এই বিষয়ে শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অধ্যাপক সিরাজুল কবিরের জমি আগেই তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইউসুফের ঘেরে তার নতুন কোনো জমি নেই। দখলের চেষ্টা করা হয়ে থাকলে তা অন্যায় হয়েছে।
তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক সিরাজুল কবির জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এর আগে কোনো সালিস-মিমাংসা হয়নি বা কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি ইউসুফের ঘের দখল করতে যাননি।

কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে মায়ের হত্যাকারী ও আপন চাচার করা ‘মিথ্যা’ মামলা ও জীবননাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুই এতিম ভাই-বোন। সোমবার সকালে কাশিমনগর বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ইটভাটার শিশু শ্রমিক মো. রিফাত গাজী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিফাত গাজী বলেন, ২০২১ সালে তাদের বাবা এনামুল গাজী মারা যান। এরপর ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তার মা রাশিদা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রিফাত বাদী হয়ে চাচা মহিদুল গাজীকে আসামি করে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সেদিনই মহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পেয়েই মহিদুল মামলা তুলে নেওয়ার জন্য রিফাত ও তার ছোট বোন তাসমিরা খাতুনসহ (১৪) সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১১ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রিফাত।
রিফাত আরও অভিযোগ করেন, মায়ের হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে চাচা মহিদুল গাজী উল্টো তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। সম্প্রতি তিনি পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিফাতসহ ৭ স্বজনের নাম উল্লেখ করে একটি ‘মিথ্যা’ মামলা (সিআর-৪০৪/২৬) দায়ের করেছেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে—তার মা আত্মহত্যা করেছেন এবং রিফাত ও অন্যরা মিলে চাচার ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, পুকুরের মাছ ও কলাসহ প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চুরি ও ক্ষতিসাধন করেছে। রিফাত এই দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, রাশিদা বেগম আত্মহত্যা করেছেন। ফলে মামলাটি হত্যা (৩০২ ধারা) থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার (৩০৬ ধারা) অপরাধে রূপ নেয়।
রিফাত গাজীর দাবি, তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে চাচা মহিদুল তার মাকে নানাভাবে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস হলেও মহিদুল উপস্থিত হননি। ঘটনার রাতে তার মাকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘরের বাইরে থেকে শিকল আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে লিচু গাছ থেকে মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও সুরতহাল রিপোর্টে শরীরের নানা অসঙ্গতি ছিল। তাই মায়ের মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটনে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই এতিম তরুণ।

 

 

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।