বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবস: নিজের যতœ, সুস্থ জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবস: নিজের যতœ, সুস্থ জীবন

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সুস্বাস্থ্য। সুস্থ শরীর, স্থিতিশীল মন এবং সুষম জীবনযাপন একজন মানুষকে কর্মক্ষম, উৎপাদনশীল ও সুখী করে তোলে। কিন্তু আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, প্রযুক্তিনির্ভরতা, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আত্ম-যতœ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৪ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবস।

দিবসটির সূচনা করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেলফ-কেয়ার ফাউন্ডেশন। ২৪ জুলাই বা ২৪/৭ তারিখটি প্রতীকীভাবে নির্দেশ করে যে সুস্থতা রক্ষায় দিনে ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহের ৭ দিনই নিজের যতœ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত পালিত ‘সেলফ-কেয়ার মান্থ’-এর সমাপনী দিন হিসেবেও দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা এবং দৈনন্দিন জীবনে এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা, যা সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।

আত্ম-যতেœর ধারণা আধুনিক বিশ্বের সৃষ্টি নয়; এর শিকড় মানবসভ্যতার বহু পুরোনো ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সমাজে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নানা পদ্ধতি ও রেওয়াজ গড়ে উঠেছে। জাপানের ‘ইকিগাই’ দর্শন জীবনের উদ্দেশ্য ও আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়, আর ‘শিনরিন-ইয়োকু’ বা বনভ্রমণ মানসিক প্রশান্তির একটি স্বীকৃত চর্চা। চীনের ঐতিহ্যবাহী ‘ইয়ান শেং’ দর্শনে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ভেষজ উপাদান এবং ‘তাই চি’র মতো ধীরগতির ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামীণ সমাজেও ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় হাঁটা, সুষম ও দেশীয় প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান গ্রহণ, ঋতুভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস এবং সামাজিক মেলবন্ধনের সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত, যা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ভেতর দিয়েই আত্ম-যতেœর এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলে।

দর্শনশাস্ত্রেও আত্ম-যতœ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাচীন গ্রিক ও স্টোইক চিন্তাবিদরা মনে করতেন, মানুষের প্রকৃত উন্নতি নির্ভর করে তার আত্মনিয়ন্ত্রণ, চিন্তা, আচরণ ও অভ্যাসের ওপর। পরবর্তীকালে ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো ‘কেয়ার অব দ্য সেলফ’ ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে দেখান যে আত্ম-যতœ কেবল শরীরের পরিচর্যা নয়; এটি আত্মসচেতনতা, আত্মসমালোচনা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের একটি চলমান প্রক্রিয়া।

পৃথিবীর ধর্মীয় ঐতিহ্যগুলোতেও শরীর ও মনকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, পরিমিত আহার, বিশ্রাম, আত্মসংযম, মানসিক প্রশান্তি এবং মানবকল্যাণ-এসব বিষয় বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। ফলে আত্ম-যতœ কেবল স্বাস্থ্যগত নয়, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গেও সম্পর্কিত একটি ধারণা।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান আত্ম-যতœকে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং মানসিক সুস্থতার চর্চা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, অন্যদিকে নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতা উন্নত করে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ ও কর্মজীবীদের মাঝে প্রযুক্তিগত অতিরিক্ত আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য সচেতন মানসিক বিরতি অত্যন্ত জরুরি।

আত্ম-প্রভাব কার্যকর ভিত্তি গড়ে ওঠে কয়েকটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ওপর। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো, ডিজিটাল মাধ্যমের অতিনির্ভরতা কমানো এবং পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখাÑএসবই আত্ম-যতেœর অংশ। একই সঙ্গে বই পড়া, সৃজনশীল কাজে অংশ নেওয়া, ব্যক্তিগত শখ চর্চা এবং নিজের জন্য কিছু নিরিবিলি সময় রাখা মানসিক সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দৈনন্দিন রুটিন থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট নিজের শারীরিক ও মানসিক কল্যাণে ব্যয় করার ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে আমাদের সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

আজকের বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, কর্মব্যস্ত জীবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতার মধ্যে আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবসের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দিবসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সুস্থতা কেবল রোগমুক্ত থাকার নাম নয়; বরং এটি শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত কল্যাণের একটি সমন্বিত অবস্থা। তাই নিজের যতœ নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি সচেতন দায়িত্ব। ব্যক্তি পর্যায়ে আত্ম-যতেœর সংস্কৃতি গড়ে উঠলে পরিবার হবে আরও সুস্থ, সমাজ হবে আরও মানবিক এবং জাতি হবে আরও কর্মক্ষম ও সমৃদ্ধ।

 

 

Ads small one

মশার দাপট, ডেঙ্গু আতঙ্কে ঘুম হারাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
মশার দাপট, ডেঙ্গু আতঙ্কে ঘুম হারাম

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে গ্রাম থেকে শহর—সবত্রই মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বর্ষার মৌসুম শুরু হতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। তবে মশা দমনে স্থানীয় প্রশাসন বা পৌরসভার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনের জমে থাকা পানি ও আবর্জনার কারণে মশার বংশবৃদ্ধি চরম আকার ধারণ করেছে। মশার কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও রেহাই মিলছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি মাসে সদর উপজেলায় দুজন এবং তালায় একজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার জন্ম হয়। এ বিষয়ে গৃহস্থালি সচেতনতার পাশাপাশি ব্যাপক প্রচার দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত তিন মাসে পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা মারতে কোনো ওষুধ ছিটানো বা ফগিং করা হয়নি। কোথাও কোথাও লোকদেখানো ওষুধ দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পৌরসভার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত কর দেওয়ার পরও পৌরসভা থেকে মশা নিধনে কার্যকর সেবা মিলছে না।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে সতর্ক ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ফগিং নয়, মশা দমনে ড্রেন পরিষ্কার ও নালা-নর্দমার জমা পানি নিষ্কাশন করা জরুরি। দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

দেবহাটার কোমরপুরে ঠিকাদার কাজ না ফেলে নিখোঁজ, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটার কোমরপুরে ঠিকাদার কাজ না ফেলে নিখোঁজ, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

সীমান্ত প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর দক্ষিণ পাড়া ও ভাতশালা স্লুইসগেট সংলগ্ন মোড় থেকে ঢেবখালি মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন গ্রামের মানুষ। রাস্তাটির কাজ শেষ না করে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সেলিম, আইয়ুব আলী ও রমজান আলী জানান, শহরমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ২০২৫ সালে আধাকিলোমিটার অংশের বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ পাওয়ার পর ঠিকাদার আনু মাস্টার রাস্তার দুই পাশে প্রায় দুই ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি ফেলে রেখে চলে যান। এরপর আর কাজ হয়নি। বর্ষা শুরু হতেই সেই গর্তে পানি ও হাঁটুসমান কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বন্ধের পাশাপাশি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হীরা জানান, কাজ শেষ করার জন্য বারবার যোগাযোগ করা হলেও ঠিকাদার আনু মাস্টার গত এক বছর ধরে বালুসংকটের অজুহাত দেখাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির কারণে ঠিকাদার আনু মাস্টারের লাইসেন্স বাতিল করে তাঁকে শাস্তির আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে রাস্তাটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।

আশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৮

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খানের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—একটি মামলার আসামি বুধহাটা গ্রামের খলিল ও মহসিন গাজী; শ্রীউলা গ্রামের কেনা গাজী ও তৌফিক গাজী; পারিবারিক পরোয়ানা মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বাইনতলা গ্রামের হাফিজুল সানা; আশাশুনি থানার মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত কোদ-া গ্রামের কুলসুম; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আসামি রাম নগর গ্রামের রিফাত গাজী এবং বুধহাটা গ্রামের রফিকুল ইসলাম।