চলে গেলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান গদাই
নিজস্ব প্রতিনিধি: মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধের দুঃসাহসী নায়ক আতিয়ার রহমান গদাই আর নেই। রবিবার সকাল ছয়টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়াস্থ নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে তাহজ্জত হোসেন হিরু একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, মেজো ছেলে সাহাদাৎ হোসেন হিরু বিসিএস ক্যাডার (আনসার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার) এবং ছোট ছেলে মিথুন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারুলিয়ার মৃত এজাহার আলী সরদারের কনিষ্ঠ পুত্র আতিয়ার রহমান এলাকায় ‘গদাই’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এই মানুষটি আজীবন সাধারণ জীবনযাপন করেছেন এবং দানশীলতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তরুণ বয়স থেকেই অভাবী ও অসহায় মানুষকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া ছিল তাঁর মানবিক স্বভাব।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। রণাঙ্গনের সহযোদ্ধা ও দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বারী মোল্ল্যা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “গদাই চাচা ছিলেন অসীম সাহসী ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক বজ্রকঠিন ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালে দেশের টানে কাউকে না জানিয়ে আমাদের নিয়ে তিনি সীমান্ত পাড়ি দেন এবং ভারতের বিহার, দেরাদুন ও হাবলঙে প্রশিক্ষণ নেন। সাতক্ষীরা ও দেবহাটার একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে তিনি জীবনপণ লড়েছেন। একবার যুদ্ধের মাঠে গুলি ফুরিয়ে গেলে তিনি এক পাকিস্তানি সেনাকে অস্ত্রসহ জাপটে ধরে বন্দি করেছিলেন। তাঁর এই বীরত্ব বহু মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছিল।”
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আতিয়ার রহমান গদাই জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বীর উত্তম মেজর জলিল, আ স ম আবদুর রব এবং তাত্ত্বিক নেতা সিরাজুল আলম খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সাতক্ষীরায় ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের সহযোগী হিসেবে জাসদ গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হন।
রাজনৈতিক কারণে একাত্তর-পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের সময়ে তিনি নানাভাবে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকারও হয়েছিলেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।












