পত্রদূত রিপোর্ট: “কালই জমি দখল নেব, কত ক্ষমতা আছে ঠেকাস”—এমন হুমকি দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাবাসপুর মৌজায় এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা, লেখক ও গবেষকের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি, অশালীন গালাগাল ও বেড়া ভাঙচুরের মুখে পড়ে আতঙ্কে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভুক্তভোগী শেখ সিদ্দিকুর রহমান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করেছেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, শেখ সিদ্দিকুর রহমান ২০১০ সালে রেজিস্টারকৃত দলিলের মাধ্যমে হাবাসপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং-৪৭১, দাগ নং-১২৩৫-এর ১৬.৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। নামজারি সম্পন্ন করে ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি ভোগদখল করছিলেন। সীমানা নির্ধারণে সিসি পিলার স্থাপনের পাশাপাশি সেখানে তিনি ফলজ ও বনজ গাছও রোপণ করেন।
সম্প্রতি একই এলাকার মো. খলিলুর রহমান ওই দাগের পশ্চিম পাশে ৩.৩০ শতাংশ জমি কেনার পর শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে তাঁর জমির মধ্য থেকে ৪ শতাংশ ছেড়ে দিতে চাপ দেন। পূর্বে কেনা ৮ শতাংশ ও নতুন ৩.৩০ শতাংশ জমি একত্রে ভোগ করার অজুহাতে তিনি ভুক্তভোগীকে পূর্বদিকে সরে যেতে বলেন।
পরিস্থিতি নিরসনে গত ১৮ জুলাই উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত জরিপকারক দিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়। জরিপে শেখ সিদ্দিকুর রহমানের দলিলাংশের ১৬.৩৩ শতাংশ জমি সঠিক পাওয়া গেলেও দেখা যায়, খলিলুর রহমান ৩.৩০ শতাংশের স্থানে প্রায় ৬.৫৭ শতাংশ জমি দখলে রেখেছেন।
পরিমাপ শেষে ঐদিন বিকেলে নিজের জমির এক কোণে গবাদিপশুর সুরক্ষায় একটি অস্থায়ী বেড়া দিয়ে শেখ সিদ্দিকুর রহমান গ্রামে চলে যান। পরে জানতে পারেন, অভিযুক্ত খলিলুর রহমান বেড়াটি উপড়ে ফেলেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাঙচুরের সময় পুনরায় বেড়া দিলে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে ২১ জুলাই বুধহাটা বাজারে জমি জরিপকারী শেখ হেদায়েতুল ইসলামকে হেনস্তা করা হয়। একই দিনে মোবাইল ফোনে শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে চরম অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে ২২ জুলাই জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরমর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলেও শঙ্কা কাটেনি। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে শেখ সিদ্দিকুর রহমান সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করে আদালতের আদেশের অপেক্ষায় আছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. খলিলুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।