শেষ বেঞ্চের ছেলেটা
তারিক মোহাম্মদ ত্বকী
রাফি ক্লাস এইটে পড়ে। ওর সবচেয়ে বড় ভয় হলো সবার সামনে কথা বলা।
স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রতিটা ক্লাস থেকে একটা করে কবিতা আবৃত্তি করতে হবে। স্যার রাফির নাম ডেকে বললেন, “তুমি করবা।”
রাফির বুকের ভিতর ধড়াস করে উঠলো। ওর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেলো। ক্লাসের সবাই হাসাহাসি শুরু করলো। শেষ বেঞ্চের রাফি, ও আবার কবিতা বলবে!
বাসায় এসে রাফি আয়নার সামনে দাঁড়ালো। মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। আব্বু পাশে এসে দাঁড়ালেন। আব্বু কিছু বললেন না। শুধু রাফির কাঁধে হাত রাখলেন।
পরদিন থেকে রাফি ছাদে গিয়ে কবিতা বলা শুরু করলো। প্রথম দিন গাছের সাথে। দ্বিতীয় দিন পাখির সাথে। তৃতীয় দিন আব্বুর সামনে। আব্বু শুধু হাসলেন।
অনুষ্ঠানের দিন এলো। রাফির সিরিয়াল সবার শেষে। স্টেজে উঠে রাফি দেখলো, পুরা হল ভরা মানুষ। ওর গলা শুকিয়ে কাঠ। মনে পড়লো লেখক তারিক মোহাম্মদ ত্বকীর কথা, “ভয় পেলে পিছিয়ে যাবি, ভয় না পেলে এগিয়ে যাবি।
রাফি একবার চোখ বন্ধ করলো। তারপর চোখ খুলে কবিতা শুরু করলো।
প্রথম দুই লাইন তোতলালো। তিন নাম্বার লাইনে গিয়ে গলা পরিষ্কার হলো। শেষ লাইন শেষ হতেই পুরা হল তালিতে ফেটে পড়লো।
স্যার স্টেজে এসে রাফির মাথায় হাত রাখলেন। বললেন, শেষ বেঞ্চের ছেলেরাই একদিন সামনের বেঞ্চে বসে ইতিহাস গড়ে।
সেদিন রাফি বুঝলো, ভয়টা আসলে কিছুই না। ভয়টা শুধু মনের ভিতর। তাকে জয় করলেই মানুষ যোদ্ধা হয়।

