সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: উপকূলের যুবসমাজ ও কারিগরি শিক্ষার ভবিষ্যৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: উপকূলের যুবসমাজ ও কারিগরি শিক্ষার ভবিষ্যৎ

0-3840x2160-0-0-{}-0-12#

 

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন এবং জটিল। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এ অঞ্চলকে প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে টিকতে হয়। এই দুর্যোগের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কর্মসংস্থানে। কৃষিজমি ও মৎস্য ঘের বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সনাতনী জীবিকা আজ চরম সংকটে। ফলে কর্মসংস্থানের তীব্র অভাবে কয়রার যুবসমাজ এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের যে দাবি উঠেছে, তা কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।
একটি জনপদের বিরাট অংশ কর্মহীন থাকলে সেখানে সামাজিক অস্থিরতা, মাদক ও জুয়ার মতো ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। কয়রায় ঠিক এই চিত্রটিই ফুটে উঠছে। কর্মসংস্থানের খোঁজে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষকে বাধ্য হয়ে অন্য জেলার ইটভাটায় বা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় শ্রম বিক্রি করতে যেতে হচ্ছে। এর ফলে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে এবং বিঘিœত হচ্ছে শিশুদের শিক্ষাজীবন, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পথকে রুদ্ধ করছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, তাত্ত্বিক উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে বহু তরুণ-তরুণী বাধ্য হয়ে দিনমজুরের কাজ করছেন।
উপকূলীয় এই অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার অভাব কতটা প্রকট, তা বোঝা যায় যখন দেখা যায় স্থানীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ বা সড়ক সংস্কারের মতো জরুরি কাজেও স্কেভেটর বা রোলার চালকসহ দক্ষ কর্মী অন্য জেলা থেকে আনতে হয়। অথচ স্থানীয় যুবকদের যদি ড্রাইভিং, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল কিংবা আইটি খাতের মতো বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া যেত, তবে তাঁরা শুধু নিজেদের ভাগ্যই বদলাতেন না, বরং দুর্যোগ-পরবর্তী অঞ্চলের পুনর্গঠনেও দক্ষ চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারতেন।
সুসংবাদ হলো, কয়রায় টিটিসি স্থাপনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা জমা দিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনও এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা মনে করি, এই প্রকল্পটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রস্তাবিত এই টিটিসি শুধু যুবকদের দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী করেই তুলবে না, বরং এর বহুতল ভবনটি দুর্যোগের সময়ে স্থানীয় মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবে।
কারিগরি শিক্ষাই পারে একটি অনুন্নত ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের যুবসমাজকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে। কয়রার বিপন্ন যুবসমাজকে অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং উপকূলের টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণে সরকার দ্রুততম সময়ে এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি স্থাপন করবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Ads small one

গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ
গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। টানা দুই আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট।

আট ম্যাচে ১০ গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে। এর আগে কাতার বিশ্বকাপেও আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। ফলে টানা দুই বিশ্বকাপে এই পুরস্কার জিতে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হলেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি জার্ড মুলারের পর এক আসরে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন এমবাপ্পে। একটি বিশ্বকাপে তার চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের (১৩, ১৯৫৮) এবং হাঙ্গেরির শান্দর কচিশের (১১, ১৯৫৪)।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে পুরুষদের ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও এখন সবার ওপরে এমবাপ্পে। তার গোলসংখ্যা ২২, যা লিওনেল মেসির চেয়ে একটি বেশি।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে যান এমবাপ্পে। যদিও সেই ম্যাচে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থান নিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করে ফ্রান্স।

আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন

৯০ মিনিট ধরে যেন একাই দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তার অবিশ্বাস্য সব সেভে বারবার হতাশ হয়েছে স্পেন, আর ১০ জনের আর্জেন্টিনাও বাঁচিয়ে রেখেছিল শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন। মনে হচ্ছিল, আরেকবার হয়তো বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখবেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত হাসল স্পেনের দিকেই। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ৩৭ সেকেন্ড পর ফেরান তোরেসের অসাধারণ ফিনিশ ভেঙে দেয় আর্জেন্টিনার সব স্বপ্ন। সেই একমাত্র গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নিল লা রোহারা।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করা মুহূর্তটি। ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ এক আক্রমণের সূচনা করেন পেদ্রো পোরো। তার নিখুঁত ক্রস দূরের পোস্টে কোনোভাবে খেলায় রাখেন নিকো উইলিয়ামস। ফিরতি হেড থেকে বক্সের ভেতরে পাওয়া বল জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন ফেরান তোরেস। গোল হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম, আর স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার শিবির।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের দখলে। বলের দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি মিলিয়ে এগিয়ে ছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে ম্যাচ জমিয়ে রাখেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১০টি সেভ করে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও গড়েন নতুন রেকর্ড।

তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ভাঙে অচলাবস্থা। ১০৬ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে পেদ্রো পোরোর নিখুঁত ক্রস দূরের পোস্টে হেড করে ফেরান নিকো উইলিয়ামস। সেই বল কাছ থেকে জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। এক মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি, স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।

এর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে পাও কুবার্সির ওপর বেপরোয়া ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে।

একজন কম নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। ম্যাচের ১১৭ মিনিটে লিওনেল মেসির শট ব্লক হওয়ার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে আঘাত হানার চেষ্টা করে। সেটিই ছিল পুরো ম্যাচে তাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য শট।

১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের আধিপত্যের সামনে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মেসিও নিজের ছাপ রাখতে পারেননি।

শেষ দিকে আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও স্পেনের রক্ষণ আর গোলরক্ষক কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয়ে যায় লাল জার্সিধারীদের উৎসব। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে উঠলো স্পেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার রেকর্ড

স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখে ইতিহাসের বিরল এক তালিকায় নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ চলাকালে বহিষ্কৃত হওয়ার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড় হন।

এর পাশাপাশি এনজো তৃতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন। এর আগে ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনজোন এবং গুস্তাভো দেজোত্তি লাল কার্ড দেখেছিলেন।

প্রায় ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এনজো ফার্নান্দেজ যুক্ত হলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসের অন্যতম বিরল ও অনাকাঙ্ক্ষিত একটি পরিসংখ্যানে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়দের তালিকা
• ১৯৯০: পেদ্রো মনজোন (আর্জেন্টিনা)
• ১৯৯০: গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা)
• ১৯৯৮: মার্সেল দেসাই (ফ্রান্স)
• ২০০৬: জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)
• ২০১০: জন হেইটিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস)
• ২০২৬: এনজো ফার্নান্দেজ (আর্জেন্টিনা)

এক নজরে দুই দলের শুরুর একাদশ:
আর্জেন্টিনার একাদশ (৪-৩-৩):
এমিলিয়ানো মার্তিনেস (গোলরক্ষক), গনসালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, লিওনেল মেসি (অধিনায়ক), হুলিয়ান আলভারেস, নিকোলা গনসালেস।

স্পেনের একাদশ (৪-২-৩-১ / ৪-৩-৩):
উনাই সিমন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি অলমো, আলেক্স বায়েনা, লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারসাবাল।