স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ : কালিগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীকে গণধোলাই, উদ্ধার করেছে পুলিশ


প্রকাশিত : March 30, 2012 ||

পত্রদূত রিপোর্ট : বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী গণরোষের শিকার হয়ে পুলিশ হেফাজতে আটক করেছে। গতকাল বুধবার সাতক্ষীরা শহরের জজকোটের সামনে তিনি গণরোষের শিকার হয়। পরে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার ঐ ছাত্রী হয় তাকে বিয়ে অথবা আত্মহত্যা করবে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। এ মত অবস্থায় বেকায়দায় পড়েছে পুলিশ। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

গতকাল দৈনিক পত্রদূতে “কালিগজ্ঞ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্র“তি দিয়ে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ” শীর্ষক খবর প্রকাশের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। সকালেই ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী সাতক্ষীরায় ছুটে আসেন। মেয়েটি ও তার মাকে ডেকে শহরের একটি হোটেলে উঠেন মিমাংসার জন্য। এক পর্যায়ে পত্রদূতের খবরের প্রতিবাদ জানাতে বলা হয় মেয়েটিকে। কিন্তু সে বিয়ে ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি নয় বলে ছাপ জানিয়ে দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়ে সাঈদ মেহেদীর সাথে কথা বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর কিছু পরেই সাঈদ মেহেদী কোটে এফিডেভিট এর মাধ্যমে বিয়ের কথা বলে হোটেল থেকে বের হয়। কিন্তু হোটেলের নিচে নেমেই তিনি দৌড় দেন। এসময় তার পিছু নেয় মেয়ে ও তার মা। একপর্যায়ে সাতক্ষীরা জজকোটের সামনে জনগন সাঈদ মেহেদীকে ধরে ফেলে এবং তাকে মারপিট করতে থাকে। এসময় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে মেয়েটি তাকে বিয়ে করার দাবীতে অনঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। এমনকি পুলিশ তাকে মামলা দিতে বললেও সে মামলা দিতে অস্বীকার করে। এভাবে সারাদিন অতিবাহিত হওয়ার পর রাতে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীও তার কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজি হলেও পুলিশ মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় বিয়েতে রাজি হয়নি। তবে রাতে সাঈদ মেহেদী মেয়েটিকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে।

উল্লেখ্য, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের মেয়ে ও বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী (১৪) জানায়, প্রায় ৮ মাস পূর্বে তার খালাত বোন রুমা পারভীনকে সরকারী প্রাইমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরী পাইয়ে দেয়ার চুক্তি হয় সাঈদ মেহেদীর সাথে। সে সুবাদে আসা যাওয়ার সূত্র ধরে সাঈদ মেহেদীর সাথে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাঈদ মেহেদী তাকে সাতক্ষীরার একটি আবাসিক হোটেলে, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব কার্যালয়ে, মৎস্য ঘেরের বাসাসহ বিভিন্ন যায়গায় বেড়াতে নিয়ে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশা করে। সম্প্রতি সাঈদ মেহেদী বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তালবাহানা করতে থাকে। এনিয়ে সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ ও জেলা মহিলা সমিতির এক নেত্রীর মধ্যস্থতায় আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে তাকে বিয়ে করবে বলে অঙ্গীকার করে সাঈদ। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবত সাঈদ মেহেদীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ফলে বাধ্য হয়ে গত সোমবার মেয়েটি তার মাকে নিয়ে কালিগঞ্জের পিরোজপুরে সাঈদ মেহেদীর ভাড়া বাসায় আসে। এসময় সাঈদ মেহেদী ও তার সহযোগীরা তাকে লাঞ্চিত করে তাড়িয়ে দেয়। এমনকি সাঈদ মেহেদীর প্রথম স্ত্রী কিশোরী তাকে মারধর করে। নিরুপায় হয়ে মেয়েটি তার মাকে নিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বাসায় আশ্রয় নেয়। গত মঙ্গলবার সে ও তার মা কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেনের কার্যালয়ে এসে অভিযোগ দেয়। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।