দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: রোগীরা মশার কাঁমড়ে অতিষ্ঠ, রাত নয়টার আগে মশারী দেয়া হয় না


প্রকাশিত : আগস্ট ১৬, ২০১২ ||

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুর্নীতি ও অনিয়মের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে। কমপ্লেক্সে অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করতে তৎপর হয়ে উঠেছে ওয়ার্ড বয়, আয়া ও সুইপাররা। বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা আয়া ও নার্সদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে দূর দূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা।

দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় উন্নততর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হকের একান্ত প্রচেষ্টায় সম্প্রতি দেবহাটার সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নয়নের ছোয়া লাগতে শুরু করেছে। ঠিক এ মুহূর্তেই কিছু অসাধু কর্মচারীর দুর্নীতি-অনিয়ম আর দুর্ব্যবহারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সকল প্রচেষ্টা বিফলে যাওয়ার পথে। শুধু তাই নয় সম্প্রতি হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্ত নলতা এলাকার কিছু কর্মচারী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে মেতে উঠেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগী ও রোগীর পরিজনরা সন্ধ্যা থেকে মশার কাঁমড়ে অতিষ্ঠ হলেও রাত নয়টার আগে রোগীদের সরবরাহ করা হয় না কোন মশারী। রোগীদের খেয়াল রাখার জন্য ডিউটিতে থাকা কালিগঞ্জ উপজেলার ভাঁড়াশিমলা গ্রামের মিজান ও নার্স গীতা রানী সন্ধ্যা থেকেই রোগীদের সকল অসুবিধা দেখেও না দেখার ভান করে মেতে থাকে খোশ গল্পে। বিভিন্ন স্থানের রোগীদের দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাত ৮টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালে গেলে চোখে ধরা পড়ে প্রতিদিনের এই অনিয়মের চিত্র। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুরুষ ওয়ার্ডের রোগী ভাতশালা গ্রামের রাজু আহম্মেদ, সখিপুর গ্রামের আসাদুল ইসলাম, ধোপাডাঙ্গার আনারুল ইসলাম, বাবুরাবাদের হাবিবুর রহমান, সাতক্ষীরার আলীপুরের সুকুমার, কামটা গ্রামের দীনালী সরকার, আলীপুর নাথপাড়ার উজ্বল, খেজুরবাড়ীয়ার মোস্তফা সরকার, সখিপুরের সিরাজুল ইসলাম, কোমরপুর গ্রামের আব্দুর রকিব, কুলিয়ার বৃদ্ধা মিয়ার আলী গাজীসহ অন্যান্যরা গনমাধ্যম কর্মীদের জানান, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানকার নোংরা দুর্গন্ধময় পরিবেশ, মশার কামড় আর কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং অনিয়ম-দুর্ব্যবহারে আমরা আরোও বেশী অসুস্থ হয়ে পড়ছি। রোগীদের মশায় কামড়ানোসহ বিভিন্ন অসুবিধার কথা হাসপাতালের কর্মচারী-নার্সদের জানিয়েও কোন ফল না পেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই বাড়ী থেকে মশারী নিয়ে এসে ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী রোগীদের। শুধু পুরুষ ওয়ার্ড নয় পাশাপাশি মহিলা ওয়ার্ডের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও সদ্য অপারেশন করা রোগীদের মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে মশার কামড় আর স্বেচ্ছাচারী নার্স-কর্মচারীদের অত্যাচার। এ ব্যাপারে গতকাল ডিউটিতে থাকা ওয়ার্ড বয় মিজানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী আমরা চলছি, মশায় কামড়ালেও রাত সাড়ে আটটার আগে রোগীদের মশারী সরবরাহ করা যাবে না। এ সময় মিজানের সাথে খোশ গল্পে মেতে থাকা নার্স গীতা রানী মেজাজের সাথে বলেন, আপনারা বললেই তো আর মশারী দেয়া যাবে না, একটি মশারী হারিয়ে গেলে কি আপনারা দিবেন? তাহলে কখন রোগীদের মশারী দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন রোগীর আত্মীয় স্বজনরা সব যখন রাতে বাইরে চলে যাবে তখন মশারী দেয়া হবে।