দেবহাটায় অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ


প্রকাশিত : আগস্ট ২৯, ২০১২ ||

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার সখিপুর বাজারে গড়ে ওঠা জনপ্রিয় বহুমূখী সমবায় সমিতি নামের একটি সমিতির বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ, নিবন্ধনহীন এ সমিতিটি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া অর্থাৎ মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটারি অথোরিটির (এমআরএ) নিবন্ধন ছাড়া কোন এনজিও মাইক্রো ক্রেডিট প্রোগ্রাম চালাতে পারবে না।

অথচ জনপ্রিয় বহুমূখী সমবায় সমিতি কয়েকজনের একটি কমিটি করে ২০০৬ সালের প্রথম দিকে কার্যক্রম শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যেই নিয়ম বর্হিভূতভাবে সুদের ব্যবসা শুরু করে তারা। এর পরপরই বিভিন্ন মেয়াদের ডিপিএস বা বীমার নামে হাতিয়ে নেয় বিপুল অর্থ।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে, ঋণের কিস্তির টাকা এক সপ্তাহ দিতে না পারলে অতিরিক্ত সুদ দিতে হয়। আবার কোন কোন ঋণ গ্রহীতাকে তাদের অফিসে ডেকে এনে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার ওপর আবার অতিরিক্ত সুদের টাকাও চাপিয়ে দেয়া হয়। ফলে ঋণগ্রহীতাদের সামন্য ত্র“টির কারণে সুদের বোঝা বহন করতে হয়। এভাবে জনপ্রিয় বহুমুখী সমবায় সমিতি সুদের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে কমিশনভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করে মাসিক সুদ ভিত্তিক ফিক্সড ডিপোজিট স্ক্রীম এবং স্বল্প মেয়াদি, দীর্ঘ মেয়াদি ডিপিএস চালু করার মাধ্যমে কৌশলে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আর এসব টাকা নিয়ে ঐ সমিতির কয়েকজন রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কঁলাগাছ বনে গেছে। তবে এ বিষয়ে সমবায় দপ্তর অজ্ঞাত কারণে না ভান করে দিন পার করে এসছে।

এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় বহুমূখী সমবায় সমিতির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আজাদ বলেন, আমরা উন্নয়নমূলক কোন কিছু না করলেও কারো কিছু করার নেই। কারণ প্রতিবছরই আমরা আমাদের আয় থেকে রাজনৈতিক দলের লোকজনদের লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দিয়ে আসছি। আপনারা আমাদের সম্পর্কে লিখলেও কোন কিছু হবে না। আর তাছাড়া আমরা অডিটরদের পরামর্শেই নিত্য নতুন ফরমূলা নিয়ে চলি। ফলে কেই কোন দিক থেকে আমাদের কিছু করতে পারবে না। এতে আমাদের আরো বিজ্ঞাপন হবে।