পূর্ব কৈখালীতে সুন্দরবনের ১০০ মণ কাঠ উদ্ধার

কৈখালী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনের পশ্চিম বনবিভাগের কৈখালী স্টেশনের সদস্যরা কর্তন নিষিদ্ধ প্রায় একশ মণ কাঠ উদ্ধার করেছে। গতকাল সকাল দশটার দিকে পূর্ব কৈখালী এলাকার রাস্তার উপর থেকে ওই কাঠ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছে, বনবিভাগের স্টেশন সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় ওই কাঠ পাচার করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে চারদিকে কাঠ কাটার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাধ্য হয়ে বনবিভাগ লোক দেখানোর জন্য কিছু কাঠ আটক করে। তবে বনবিভাগের সম্মতি থাকায় তারা সুন্দরবন থেকে কেটে আনা কাঠের নৌকা কিংবা সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করে নি এবং কারও বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি বলে সূত্রের দাবি।

সূত্র আরো জানায়, গতকাল সকালে কৈখালী ইউনিয়নের আরমান খাঁর ছেলে হাবিবুর রহমান, শওকাত শেখের ছেলে গোলাম, বাবর আলী গাজীর ছেলে জিয়াদ, জিয়াদ গাজীর ছেলে রফিকুল, দিন মোহাম্মদের ছেলে জাকির, আরমান খাঁর ছেলে আজিজুল অবৈধভাবে একটি বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে উক্ত কাঠ পাচারকারী চক্র প্রায় তিনশ মণ ধুন্দুল, গেওয়া, গরানসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে লোকালয়ে ফেরে। এসময় স্থানীয়রা কাঠ কাটতে যাওয়া এবং কাঠ কেটে এলাকায় ফেরার বিষয়টি কৈখালী স্টেশন অফিসার হাবিবুর রহমানকে মোবাইলে অবহিত করে। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর তীব্র আপত্তির পর স্টেশন অফিসার জানান, স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য রোকেয়া হাবিব সকালে স্টেশন অফিসে এসে কিছু জ্বালানি কাঠ কেটে আনার বিষয়ে অনুরোধ করে। তিনি আরও জানান, কাঠ কাটতে দিতে সে সম্মত না হওয়ায় রোকেয়া হাবিব চলে যান। পরবর্তীতে কাঠ কেটে আনার বিষয়ে সাংবাদিকরা স্টেশন অফিসারকে ফোন দিলে এফজি মেজবা’র নেতৃত্বে চারজন বনপ্রহরী বেলা এগারটার দিকে পূর্ব কৈখালী এলাকার রাস্তার উপর থেকে শতাধিক মণ গেওয়া কাঠ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বনবিভাগের সদস্যরা রাস্তার উপর থেকে না বরং নৌকা থেকে উক্ত কাঠ উঠিয়ে নিয়ে আসে এবং বাকি কাঠসহ নৌকা দুটি ও কাঠ কাটার সাথে জড়িত ঐসব ব্যক্তিদের চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রোকেয়া হাবিব জানান, তিনি স্টেশনে যান নি।