জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের গৃহ নির্মাণে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, কাজ বন্ধ


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১২ ||

ইয়ারব হোসেন: প্রায় ২১ কোটি টাকার ঘর নির্মাণ কাজে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইসলামি রিলিফ’র অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দৈনিক পত্রদূতে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশের পর এ তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। ঘরে লাগানো নিম্নমানের কাঠের দরজা, জানালা ও ঘরের বাাঁশের বেড়া বাতিল করা হয়েছে। বিপুল অর্থের এ কাজে অনিয়ম ও দুনীতির আশ্রয় নেওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সংশি¬ষ্ট ঠিকাদারদের বিল। একটি দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতায় সদর উপজেলা ও দেবহাটা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০৬টি পরিবারের ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ আসে। ঘর নির্মাণের দায়িত্ব পায় বেসরকারি সংস্থা ইসলামি রিলিফ বাংলাদেশ। ঘর নির্মাণ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয় ২০ কোটি ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ১৯৭ টাকা।  প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা। ঘর নির্মাণে ১ হাজার ৬০৪টি ইট, ১৮পিচ টিন, ১৭ পিচ চাম্বল কাঠ, ৮পিচ সিমেন্টের পিলার, ৩টি রেন্টি কাঠের জানালা ও ৪টি বাঁশের বেড়া ব্যবহার করার কথা। এ ছাড়া ঘরের ভীত উঁচু করতে ৭ হাজার টাকা করে বরাদ্দ রয়েছে।

কিন্তু কাজের শুরুতেই ইসলামি রিলিফ’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০০৬টি নির্মাণে নিম্নমানের সাগ্রমী ব্যবহার করে প্রায় ৮ কোটি টাকা লুটপাট করার আয়োজন করা হয়। এতে নিম্নমানের বেড়া ও ইট ব্যবহার করায় ইতোমধ্যে দেড়’শ ঘরের বেড়া ও আড়াই লাখ ইট বাতিল করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গত ১৬ আগস্ট পতদূত’এ প্রকাশিত হলে ইসলামি রিলিফের মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর মনিরুজ্জামান সরেজমিনে এসে দুনীতির তদন্ত করেন। তদন্তে নির্মাণাধীন ঘরে নিম্নমানের কাঠ দিয়ে জানালা, দরজা ও বেড়া ব্যবহার করা হয়েছে সত্যতা প্রমাণিত হয়। তদন্ত এখনো চলছে।

ইসলামি রিলিফ বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক এসএম আবু কওছার জানান, নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করায় ৩৫০টি ঘরের বেঁড়া বাতিল করা হয়েছে। আড়াই লাখ নিম্নমানের ইট বাতিল করা হয়েছে। ৬০-৭০টি ঘরের বেড়া খুলে ফেলা হয়েছে। সংশি¬ষ্ট ঠিকাদারকে নতুন করে বেঁড়া, দরজা ও জানালা লাগানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।