মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে ভগ্ন ভবনে পাঠগ্রহণ করছে শিশুরা


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১২ ||

সামিউল মনির, শ্যামনগর: উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় পরিবারের আগ্রহে শিশুরা ছুটে যায় বিদ্যালয়ে। আর বিদ্যালয়ে শিশুদের যাতায়াতকে নিরাপদ করার জন্য অভিভাবকদের প্রচেষ্টা থাকে প্রাণান্তকর। অথচ সেই শিশুরা যদি বিদ্যালয়ে যেয়ে ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে তবে বিষয়টি নিশ্চয় কারও সমর্থন লাভ করবে না।

কিন্তু এমন অবস্থা চলছে শ্যামনগর উপজেলার ৮২নং কলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে যেয়ে দেখা যায় প্রায় ষাট জনেরও বেশী শিশু বিদ্যালয়ের ভঙ্গুর একটি ভবনে পাঠ গ্রহণ করছে।

শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত ঐ ভবনে পাঠ গ্রহণকারী শিশুরা জানায়, আর কোন কক্ষ অবশিষ্ট না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ঐ ভাঙাচোরা কক্ষে লেখাপড়া করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ শহিদুল ইসলাম ও সহকারি শিক্ষক দিলীপ মন্ডল জানান, বিদ্যালয়টি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। তারা আরও জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজস্ব খাত, পিডিপি-টু এবং আইডিয়াল প্রজেক্টের আওতায় মোট তিনটি ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু রাজস্ব খাতের ভবনটি আরো অন্তত পাঁচ বছর পূর্বে সরকারিভোবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এসময় বিষটি উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৮২নং কলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

শিক্ষকদ্বয়ের সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, বিদ্যালয়ে মোট চার শতাধিক শিশু লেখাপড়া করছে। কিন্তু অবশিষ্ট দুটি ভবনে জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীকে একই শিফটে পাঠদান করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উক্ত ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে ভবনটি এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে যেকোন মুহূর্তে সেটা ভেঙে পড়ে মারাত্মক ট্রাজেডি ঘটতে পারে বলেও তারা স্বীকার করেন।

উক্ত বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকগণ জরুরী ভিত্তিতে ভঙ্গুর ও সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ভবনটি ধ্বংস করে অস্থায়ী ভিত্তিতে হলেও স্থাপনা নির্মাণ করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক সু-দৃষ্টি কামনা করেছে।

 

 



error: Content is protected !!