শ্যামনগরে ব্যবসায়ী গুম


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১২ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে আব্দুল্লাহ আল বারী (বাকী) নামের এক চিংড়ি ব্যবসায়ীকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নকিপুর বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করে। সাদা রংয়ের একটি মাইক্রো বাসযোগে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় অপহৃতের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। যার নং ৯৩৬। তবে কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

এদিকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে র‌্যাব, ডিবি কিংবা সরকারের বিশেষ কোন সংস্থা আব্দুল্লাহ আল বারীকে (বাকী) অপহরণের সাথে জড়িত থাকতে পারে। অপহৃত আব্দুল্লাহ আল বারী (বাকী) বাদঘাটা গ্রামের মৃত সামছুল হক গাইনের ছেলে। তবে এ বিষয়ে র‌্যাব বা অন্য  কোন সংস্থার নিকট থেকে তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

অপহৃতের স্ত্রী খাদিজাতুল কোবরা জানান, তার স্বামী আব্দুল্লাহ আল বারী (বাকী) ডায়াবেটিকস এর রোগী। গত কয়েক মাসের মধ্যে দু’দফা তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। খাদিজাতুল কোবরা আরও জানান, তার স্বামী প্রতিদিন বিকালে হাঁটতে বের হয় এবং মসজিদে এশার নামায আদায় করে বাড়িতে ফেরে।

তিনি গতকাল দুপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার এশার নামায শেষে বাড়ি ফিরতে দেরী হওয়ায় তার মুটোফোনে কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় আত্মীয় স্বজনদের পাশাপাশি পরিচিতদের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েও তার কোন হদিস মেলে নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি রাস্তায় দাড়িয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ কবরেন বলে তিনি দাবি করেন।

আব্দুল্লাহ আল বারী ওরফে বাকী অপহরণ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাদঘাটা গ্রামের শিবুপদ মন্ডলের ছেলে প্রভাষচন্দ্র জানান, আব্দুল্লাহ আল বারী (বাকী) বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে উপজেলা পশু সম্পদ অধিদপ্তরের সামনে পৌঁছলে একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাস এসে তার পাশে দাড়িয়ে যায়। তিনি আরও জানান মুহূর্তের মধ্যে মাইক্রোবাস থেকে ৪ জন অপরিচিত ব্যক্তি দ্রুত রাস্তায় নেমে এসে জোরপূর্বক বাকীকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এসময় বাকী “আল্লাহ  গো” বলে কয়েকবার ডাক-চিৎকার করলে মাইক্রোবাসটি দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যেয়ে মূল সড়কের দিকে চলে যায়।

অপহৃত ব্যবসায়ীর স্ত্রী খাদিজাতুল কোবরা জানান, সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু কালু বাহিনীর প্রধানসহ তার কয়েকজন সহযোগীকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার পর থেকে সে (বাকী) বেশ কয়েক বছর ধরে নিরাপত্তাহীন জীবন যাপন করে আসছিল। এর আগে তার শত্রুপক্ষ র‌্যাব এবং ডিবিকে দিয়ে তাকে দু’দফা উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এবিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আমীর তৈমুর ইলি জানান, অপহৃত ব্যবসায়ীর স্ত্রী তার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

 

 



error: Content is protected !!