ভারতের পতিতালয় থেকে পালিয়ে এসেছে এক কিশোরী ‘প্রতারক প্রেমিকের ফাসির দাবী’


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৯, ২০১২ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: দীর্ঘ নরক যন্ত্রনা ভোগ করে ভারতের পতিতালয় থেকে ফিরে এসেছে এক কিশোরেী। প্রেমের ফাদে ফেলে দশম শ্রেনীতে পড়–য়া ওই ছাত্রীকে ভারতের পতিতালয়ে পাচার করে শক্তিশালী একটি পাচার কারী চক্র। ভালবাসার সুখের ঘরের পরিবর্তে পতিতালয়ের নরক যন্ত্রনায় ঠেলে দেয় প্রতারক মিঠুন মণ্ডল। সে সদর উপজেলার ওয়ারিয়া গ্রামের মনোরঞ্জনের পুত্র। দীর্ঘ ৬ মাস যন্ত্রনাবাস শেষে সোমবার বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ওই কিশোরী। সাতক্ষীরার বেসরকারী সংস্থা স্বদেশে বসে মেয়েটি কাদতে কাদতে তার ভন্ড প্রেমিকের শাস্তি দাবী করে বলেন, যার কারনে আমার সুন্দর ভবিষ্যত নষ্ট হয়েছে, আমি তার ফাঁসি চাই।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও ওয়ারিয়া গ্রামের ওই কিশোরী  জানায়, গত বছরের প্রথম দিকে একই গ্রামের মিঠুনের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর ধীরে ধীরে ভালবাসার ঘর বাধার স্বপ্ন দেখে সে। কিন্তু বাধা হয়ে দাড়ায় ধর্ম। মিঠুন হিন্দু ধর্মীয় হওয়ায় তার পরিবার তীব্র বিরোধীতা করে। এক পর্যায়ে মিঠুন নিজেই ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। দু’জনের মধ্যে পরিকল্পনা হয় ভারতে পালিয়ে যেয়ে বিয়ে করার। প্রতিশ্র“তি মোতাবেক চলতি বছরের ফেব্র“য়ারী মাসে মিঠুন মেয়েটিকে নিয়ে বৈকারী সীমান্তে যায়। সাথে থাকে নারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্য ওয়ারিয়া গ্রামের হাফিজুল ইসলাম। ওপারে অপেক্ষা করে পাচারকারী সিন্ডিকেটের  সদস্য আলাউদ্দীন। সীমান্তে যেয়ে মিঠুন মেয়েটিকে হাফিজুলের হাতে ছেড়ে দিয়ে সটকে পড়ে। মেয়েটি এতে আপত্তি জানালে সীমান্তের অবস্থা ভাল নয়, পরে আসব বলে মিঠুন আশ্বাস দেয়। সরল বিশ্বাসে হাফিজুলের হাত ধরে সীমান্ত পার হয়ে যায় সে। ওপারে নিয়ে হাফিজুল মেয়েটিকে বেঁচে দেয়  ভারতের ভাদুড়িয়ার জোড়াবটতলার পাচারকারী আলাউদ্দীনের কাছে। এরপর শুরু হয় কেনাবেচা। কয়েকটি হাত বদল হয়ে মেয়েটির ঠিকানা হয় গুজরাটের আন্দাবাদ পতিতালয়ে। এখানেই সঞ্জয় নামের এক ব্যক্তি তাকে দেখভাল করত।

প্রতিদিনই মদ্যপ অনেকগুলি পুরুষের সঙ্গ দিতে হত মেয়েটির। প্রথমে প্রথমে প্রতিবাদও জানাত সে। কিন্তু সে প্রতিবাদ চার দেয়ালের মধ্যেই আটকে থাকত। প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে মেয়েটি এক পর্যায়ে বাড়ীতে আসার স্বপ্নই ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ওই পতিতালয়ের বাংলাদেশী এক মেয়ের পরামর্শে সে কৌশলে পালিয়ে এসে সোমবার বৈকারী সীমান্ত পোরিয়ে পার হয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বেসরকারী সংস্থা ‘স্বদেশ’ এর অফিসে চলে আসে। মেয়েটির বাবা জানান, আমার মেয়ে পাচার হওয়ার পরে আমি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করি। তিনি এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মো: ইব্রাহিম জানান, থানায় মেয়েটির জবান বন্দী নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।