বারে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পেলেন বিচারক ফখরুদ্দিন, আইনজীবীদের কর্মসূচি প্রত্যাহার


প্রকাশিত : নভেম্বর ৮, ২০১২ ||

বদিউজ্জামান: ব্যক্তিগতভাবে কেবলমাত্র আমি নই, আমার পরিবারের সকলেই আজ লাঞ্ছিত। আমার মত শিক্ষিত মানুষের ব্যবহার এমনটা হওয়া উচিৎ ছিল না। আমার ব্যবহারে এবং অসৌজন্যমূলক আচরণে যদি আপনারা (আইনজীবী ভাই ও বোনেরা) কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। আমি সত্যিই দুঃখিত এবং লাঞ্ছিত। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সাধারণ সভায় শত শত আইনজীবীর উপস্থিতে এভাবেই দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা চেয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে এ যাত্রায় রেহাই পান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. ফখরুদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ মো. ওবায়দুস সোবহান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আব্দুর রব হাওলাদার এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং নারী বিচার প্রার্থীদের সাথে আশালীন ব্যবহারের অভিযোগে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু র্নিযাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. ফখরুদ্দিনের আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয় জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। এর মাত্র একদিন পর গতকাল সকালে সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ মো. ওবায়দুস সোবহান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন এবং বার ও বেঞ্চের সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে বারের সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে এক রুদ্ধদার বৈঠকে বসেন। উক্ত বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল বেলা ১২টায় ফের আইনজীবী সমিতির হল রুমে অনুষ্ঠিত হয় জরুরী সাধারণ সভা।

সমিতির সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আইনজীবীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বারের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রউফ। এরপর জেলা জজশীপ’র পক্ষ হতে বক্তব্য রাখেন জেলা ও দায়রা জজ মো. ওবায়দুস সোবহান। সর্বশেষ অভিযুক্ত বিচারক মো ফখরুদ্দিন উপরিউল্লিখিত বক্তব্য রাখেন। এরপর আইনজীবী সমিতির পূর্বের ঘোষিত আদালত বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সমাপনী বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মজিদ। সভা পরিচারনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. ওসমান গনি।