ডাক্তার বটে!


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৬, ২০১২ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আব্দুল করিম গাজীর বয়স ৫৫ বছর। তার চোখে সমস্যা। তিনি নিকটের ব¯ু— ঝাপসা দেখেন, কিন্তু দূরের বস্তু ভালো দেখতে পান। করিম গাজীর বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালী ইউনিয়নের সুন্দরবনের কোলে দাঁতিনাখালি গ্রামে। এ গ্রাম থেকে সাতক্ষীরা শহরের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। যাতায়াতে সময় লাগে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা।   বৃদ্ধ আব্দুল করিম গাজী চোখের সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন সাতক্ষীরা শহরে। দালালদের খপ্পড়ে পড়ে চোখ দেখান ডা. এসএম আব্দুর রহমানকে। বৃদ্ধ আব্দুল করিম গাজীর সরলতার সুযোগ নিয়ে ডা. এসএম আব্দুর রহমান নানা পরীক্ষা-নীরিক্ষার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় দেড় হাজার টাকা। ফি-দিতে হয়েছে ৩০০ টাকা। চোখ পরীক্ষা করে ডা. এসএম আব্দুর রহমান ব্যবস্থাপত্রে দুধরনের ড্রপের পাশাপাশি উভয় চোখের জন্য ২ দশমিক ৫ উত্তল লেন্সের চশমা লিখে দেন। এরপর করিম গাজী চশমার দোকানে যান ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে। ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চশমার লেন্স ফিটিং করেন। এতে চশমা বাবদ খরচ হয় ৮০০ টাকা। কিন্তু একি সর্বনাশ (!) খালি চোখে করিম গাজী যা দেখতে পান চশমা পরলে তা আর দেখা যায় না। চশমার দোকানদারকে এ সমস্যার কথা জানালে তিনি বলেন, ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চশমার পাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এখন ব্যবস্থাপত্রে ভুল থাকলে কিছু করার নেই। সাথে সাথে বিষয়টি ডা. এসএম আব্দুর রহমানকে জানালে তিনি বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি, বাইরে আছি। রাত ১০টার পরে কথা বলবো।

করিম গাজী জানান, সাতক্ষীরা শহরে আমার থাকার কোন জায়গা নেই। তাছাড়া কাছে টাকা পয়সা নেই। যা ছিলো তা ডাক্তার নিয়েছে। রাত ১০টা মানে সারা রাত থাকা। আর থাকতে হলে কোন হোটেলে থাকতে হবে। হোটেল ভাড়া দেয়ার মত কোন টাকা তার কাছে নেই। এভাবেই বৃদ্ধ আব্দুল করিম তার প্রতারিত হবার কাহিনী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এসে বর্ণনা করেন।

শুধু আব্দুল করিম নয়। রোজ কত মানুষ দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শহরে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবার আশায়। চিকিৎসা নিতে আসা কত রোগী এভাবে প্রতারণার শিকার হন, তার খবর আমরা অনেকেই জানি না। কিন্তু ডা. এসএম আব্দুর রহমান দিনে কতজনকে এভাবে রোগী দেখার নামে প্রতারণা করেন, তা হয়তো তিনিই বলতে পারবেন।

 



error: Content is protected !!