কৈখালী সীমান্ত থেকে রেলের পাটি উদ্ধার


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৯, ২০১২ ||

মাহাবুব আজাদ খোকন, কৈখালী (শ্যামনগর): সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা রেলের পাটি সাদৃশ্য একটি লোহার দণ্ড (রেল লাইনের ¯ি¬পার) উদ্ধার হয়েছে।  গত শনিবার মধ্যরাতে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ পশ্চিম কৈখালীর রেজাউলের ঘাট হিসেবে পরিচিত এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ঐ রেলের পাটি উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় কেউ আটক না হলেও স্থানীয়রা জানিয়েছে, ধারালো অস্ত্র বানানোর জন্য ওই রেলের পার্টি জেলার তালা উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। উদ্ধারকৃত লোহার দণ্ডটি আনুমানিক আট ফুট লম্বা এবং প্রায় ছয় মণ ওজনের বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। উপজেলার কৈখালী ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ জানান, স্থানীয় একটি চোরকারবাররি চক্র শনিবার রাতে ভারত থেকে চোরাই পথে রেলের একটি পাটি নিয়ে আসে। উক্ত লোহার দণ্ডটি হস্তান্তরের আগেই স্থানীয়রা বিষয়টি অনুমান করতে পারায় পাচার চক্রের সদস্যরা সেটি মোমিন গাজীর বাড়ির পাশে ফেলে দিয়ে আত্মগোপন করে।  তিনি আরও বলেন, একই সময় পশ্চিম কৈখালী গ্রামের মান্দার গাজীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম তার বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যাওয়া শ্যালো মেশিন খোঁজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে সিরাজুল ইসলাম রাত সাড়ে বারটার দিকে মোমিন গাজীর বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ঐ লোহার দণ্ডটি দেখতে পেয়ে বিষয়টি তাকে অবহিত করে। তৎক্ষণাত তিনি চৌকিদার নিরঞ্জন মন্ডলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেটি উদ্ধার করে কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। স্থানীয়রা জানায়, রেজাউল ইসলাম এবং তার আরও কয়েক সহযোগী গওহর মোল্যার ছেলে জিয়াউল, জববার মোড়লের ছেলে হারুন, বক্কার মিস্ত্রীর ছেলে মিন্টু ও সামছুর শেখের ছেলে আরজ খান উক্ত চোরাই ঘাট ব্যবহার করে ধুড় পাচারসহ নানা চোরাই পণ্য আনা নেওয়ার কাজ করে। ঐ চক্রটি ভারত থেকে নানা ধরনের মাদকদ্রব্য এবং চোরাই মোটর সাইকেল আনার পাশাপাশি শ্যালো মেশিনসহ আরও বিভিন্ন এদেশীয় পণ্য সীমান্তের ওপারে পাচার করে।

এসব স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রেজাউল এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা উক্ত লোহার দণ্ড ভারতে থেকে এপারে এনে যথাস্থানে পৌঁছানোর দায়িত্বে ছিল। কিন্তু স্থানীয়দের সামনে পড়ে যাওয়ায় তাদের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।