পান চাষে ভাগ্য ফিরেছে পাটকেলঘাটার গৃহবধূ রাজিয়া বেগমের


প্রকাশিত : January 8, 2013 ||

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: ‘নুন আনতে পানতা ফুরোতো’ এমন একটি পরিবার আজ নিজেদের প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী। দৃঢ় মনোবল আর একাগ্রতা একটি মানুষকে যে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, তারই দৃষ্টান্ত সমাজের প্রান্তিক ও সহায় সম্বলহীন নারী রাজিয়া বেগম।

পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা ইউনিয়নের রাঢ়িপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দীনের স্ত্রী দু’সন্তানের জননী রাজিয়া বেগম দরিদ্র  পরিবারের সদস্য। স্বামীর সংসারে রাজিয়ার আদরের বিন্দুমাত্র অভাব না থাকলেও স্বামীর সামান্য আয়ের কারণে তাদের সুখী জীবন বিষিয়ে উঠতে থাকে। এতে তাদের জীবন চালাতে হয় কঠিন কষাঘাতের মধ্য দিয়ে। এ পে্িরক্ষতে সে ২০০৯ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে পান বরজের চাষ শুরু করে। পানের বরজের অধিক আয়ে উৎসাহী হয়ে পরের বছর (২০১০) উদ্যমী এই পরিবার ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে প্রতিবেশীর একখণ্ড জমিতে গড়ে তোলেন আরও একটি পানের বরজ। এ বরজটিও দিন দিন জ্যোতি ছড়াতে থাকলে রাজিয়াদের আনন্দ কানায় কানায় ভরে ওঠে। তিনি পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ বারে আরো ৪৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার পানের বরজের পরিধি বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে বরজ দুটি থেকে তাদের মাসিক আয় হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।

রাজিয়া বেগম এলাকায় একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে পরিচিত। তার সাফল্য দেখে এলাকার আরো অনেক কৃষক পান চাষে এগিয়ে আসছে। তাদের এই পরিবর্তনে রাজিয়া বেগম বলেন, ওই সময় প্রয়োজনীয় অর্থ ঋণ না পেলে হয়তোবা ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়াও শেখাতে পারতাম না। অভাবের অন্ধকারে হারিয়ে যেতাম।