বৈকারী সীমান্তে ৩৩টি মহিষ ছিনতাইয়ের জের: বাংলাদেশি গরু রাখাল ভারতে জিম্মি


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১০, ২০১৩ ||

ডেস্করিপোর্ট: বৈকারী সীমান্তে ৩৩টি ভারতীয় মহিষ ছিনতাইয়ের জের ধরে ভারতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এক বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী। এ নিয়ে সীমান্তে চলছে চাপা উত্তেজনা।

ভারতীয় পশু ব্যবসায়ী কুতুবের মালিকানাধীন এসব মহিষ সাতক্ষীরার হাড়দ্দহা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক গাজী বাংলাদেশের বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ম অনুযায়ী করিডোর ফিস প্রদান করেন। মহিষের মালিক কুতুবের কাছে চার লাখ টাকা পাওনার কথা বলে গত শনিবার সকালে রফিক গাজীকে মারপিট করে তা ছিনতাই করে নেয় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হাড়দ্দহা গ্রামের গোলাম রসুল ওরফে মন্টে, পশু ব্যবসায়ী শাহীনসহ যুবলীগের ক্যাডাররা। এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সদর থানা পুেিশর মধ্যস্থতায় ছিনতাইকৃত মহিষ বিক্রির প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ নেতাদের মধ্যে। এর মোটা একটি ভাগ পেয়েছে সদর থানার এক কর্মকর্তা। এদিকে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠানো মহিষ বিক্রির টাকা না পাওয়ায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাড়দ্দহা গ্রামের শাহনাজ নামের এক রাখালকে জিম্মি করে রেখেছে মহিষের মালিক ভারতীয় নাগরিক কুতুব। এই অভিযোগে মারধর করা হয়েছে রফিকুল ও তার পরিবারের কয়েক সদস্যকে। তারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখন রফিকুলের নামেও চলছে অপহরণ ও গুম মামলা।

হাড়দ্দহা গ্রামের পশু ব্যবসায়ী রফিকুল গাজী জানান, গত শনিবার সাতক্ষীরা সদরের বৈকারীতে ভারতীয় নাগরিক কুতুবের পাঠানো ৩৩টি মহিষ, প্রতিটি হাজার টাকা হিসেবে করিডোর (শুল্ক ফিস প্রদান) করানো হয়। এ ঘটনার পরপরই কোমরপুর ও শাকদহা গ্রামের গোলাম রসুল ওরফে মন্টে, শাহীনসহ ১০-১২ জন যুবলীগ ক্যাডার মহিষগুলো বৈকারী খাটাল (ভারত থেকে আনা পশু রাখার খোয়াড়) থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এতে বাধা দেওয়ায় মহিষের বাংলাদেশি বিক্রেতা রফিকুল ইসলামকে তারা মারধর করে ৭০ হাজার টাকা  ছিনিয়েও নেয়। ভারতীয় নাগরিক কুতুবের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করার লক্ষ্যে এসব মহিষ ছিনতাই করা হয় বলে জানান তিনি। ছিনতাইকরা ভারতীয় মহিষগুলো বিক্রি করে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন আওয়ামী পন্থী ক্যাডাররা।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রতিকার পাওয়ার আগেই মহিষ ছিনতাইকারী শাহীনের ভাই গরু রাখাল শাহনাজ হোসেন রোববার  ভারতে যান। ভারতীয়রা তাকে আটকে রাখে। ভারতে জিম্মি শাহনাজের ভাই শাহীনের অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক কুতুবের মহিষ আটকানোর জের হিসাবে তার ভাইকে আটক করা হয়েছে। শাহীন ও মন্টে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ভাই শাহনাজকে ভারত থেকে উদ্ধার ও রফিকুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে খুঁজে বেড়াচ্ছে। তারা জানিয়েছে, শাহনাজের আটকের পেছনে রফিকুলের হাত  রয়েছে।  রফিকুল অবশ্য তা অস্বীকার করেন ।

এদিকে এ ঘটনা স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত গড়ালেও গত তিন দিনেও ছিনতাই হওয়া মহিষ ফেরত পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ভারতে জিম্মি শাহনাজও ফিরে আসেনি। ঘটনার দিন বজিবি  শাহীন গ্রুপের ৮ জন সন্ত্রাসীকে আটক করেও পরে ছেড়ে দেয়। বৈকারী খাটাল পরিচালনা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দখল পুনর্দখল ঘটনায় বোমা ও অস্ত্র ব্যবহারের মাঝে ৩৩টি মহিষ ছিনতাই ও তার জেরে বাংলাদেশি গরু রাখালকে ভারতে  জিম্মি করে রাখার ঘটনায় সীমান্ত জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ইব্রাহিম গাজী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না। জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রফিকুল গাজী তার কাছে এসেছিল এবং একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন।