দুঃস্কৃতিকারীরা আতংকিত: গ্রামে গ্রামে মানুষের নেতৃত্বর জন্য প্রতিক্ষা


প্রকাশিত : মার্চ ৭, ২০১৩ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: টানা পাঁচ দিন ধরে জেলায় নজির বিহীন নৈরাজ্য আর তাণ্ডব যজ্ঞ চালিয়ে সাম্প্রদায়িক উগ্র জামায়াত-শিবির ধ্বংসের হলি খেলায় মেতে ছিলো। জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে জেলাবাসীকে জিম্মি করে ফেলে সাম্প্রদায়িক জামায়াত শিবির গোষ্ঠি। পুরুষের পাশাপাশি জামায়াত শিবিরের মহিলাদেরও বে-পর্দায় মাঠে জঙ্গি মিছিল করতে দেখা গেছে। জামায়াত শিবিরের উগ্র মূর্তি জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। নির্বাক জনতা। স্তব্দ কণ্ঠ। প্রতিবাদের আগুনে ফুসলেও নেতৃত্ব না থাকায় নিরবে সহ্য করতে হয়েছে জামায়াত শিবিরের নির্মম নির্যাতন।
জেলার বিভিন্ন গ্রাম হাটবাজার ঘুরে জানাগেছে, টানা পাঁচদিন স্বাধীনতা বিরোধী উগ্র জামায়াত শিবিরের জঙ্গী স্টাইলের যে তাণ্ডবযোগ্য চালিয়েছে তা ৭১’র বর্বরতাকেও হার মানায়। নারি ও শিশুদের মধ্যে জামায়াত শিবির উগ্রতার বিষ বাস্প ছড়িয়ে যুদ্ধের জন্য তৈরি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। কোরআন হাদিসের অপ-ব্যাখ্য, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে গ্রামের সহজ সরল মা বোনদের মনে জামায়াত শিবির ঢুকিয়ে দিয়েছে জিহাদী চেতানা। যে দেশের শতকরা ৮৫% মানুষ মুসলমান, যে দেশে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, যে দেশে লক্ষ্য লক্ষ্য মসজিদ, মাদ্রাসা সেই দেশে সাম্প্রদায়িক জামায়াত শিবির এই মর্মে গুজব ছড়াচ্ছে যে, দেশে ইসলাম রক্ষা করতে জিহাদের বিকল্প নেই। যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে ফাঁসির আদেশ দেওয়ায় গুজবের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে, মানুষ সাম্প্রদায়িক জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে সংগঠিত কিন্ত নেতৃত্ব শূন্য। রাজাকারদের মুখোষ খুলে তার ৭১’র চরিত্র তুলে ধরার মত মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ধর্মীয় পোশাকে ছদ্মবেশে জামায়াত শিবির ধর্মপ্রাণ মানুষকে ইসলামের মর্ম বাণী না শুনিয়ে মওদুদির জামায়াতের বাণী শোনাচ্ছে। দেশ বরেণ্য আলেম- ওলামারা বলেছেন ইসলামকে জামায়াত শিবিরের কাছে ইজারা দেওয়া হয়নি।
এদিকে টানা পাঁচদিন ধরে সাতক্ষীরা আশাশুনি, সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা খুলনা, সাতক্ষীরা যশোর, সাতক্ষীরা ব্যাংদহা, সাতক্ষীরা বৈকারি, সাতক্ষীরা বৈকারিসহ বিভিন্ন সড়কের দুধারে লাগানো হাজার হাজার সরকারি জীবন্ত গাছ কেটে উজাড় করেছে জামায়াত শিবির। ৪০/৫০ বছর বয়সী এসব বড় বড় গাছ কেটে জামায়াত শিবির উল্লাস করে। কচু কাটা করেছে সড়কের দু’ধারে লাগানো গাছ গুলো। শুধু তাই নয়, সরকারি গাছ কেটে লুট করেছে তারা।
এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ ১৪ দলের নেতাকর্মী ও সমার্থকদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের রাজত্ব কায়েম করে জামায়াত শিবির। জামায়াত শিবিরের দেওয়া অগ্নিতে পুড়ে ছাই হয়েছে অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘর ও দোকান। জামায়াত শিবিরের হিংশ্র থাবায় প্রাণ দিয়েছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মামুন ও আওয়ামী লীগ কর্মী শাহিন। জামায়াত শিবিরের উস্কানিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন ১০ জন সাধারণ মানুষ।
জামায়াত শিবিরের মিথ্যাচারে ও গুজবে কান দিয়ে আহত হয়েছেন অনেকে। হরতালের নামে জামায়াত শিবিরের নজির বিহীন তাণ্ডবে বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে সাতক্ষীরা। গ্রামীণ জনপদ লণ্ডভণ্ড হয়েগেছে। নির্বিচারে, নির্দয়ভাবে জামায়াত শিবির নগ্ন হামলা চালিয়েছে।
জেলা সদরের আগরদাড়ি, ধুলিহর, ব্রম্মরাজপুর, ফিংড়ী, ব্যাংদহাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখাগেছে, মানুষ রাস্তার দুধারে দাড়িয়ে আছে। আর হামলাকারী গুটি কথক জামায়াত শিবির ক্যাডাররা নারী ও শিশুদের নিয়ে জঙ্গি মিছিল করে তাণ্ডব চালাচ্ছে। ধর-ধর বললেই যারা পালানোর পথ পাবে না তাদের ভয়ংকর মূর্তি দেখে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, শংকিত। গ্রামের মানুষ নেতৃত্ব সংকটে ভুগছেন। জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে হয় প্রতিরোধ না হয প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য গ্রামের মানুষ উদগ্রীব হয়ে আছে। এরপর জামায়াত শিবির বাড়াবাড়ি করলে গ্রামের মানুষের কোন নেতার দরকার হবেনা বলে মন্তব্য করেছেন তারা।



error: Content is protected !!