বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে দেবহাটার ঢ্যাপখালি খালের উপর দু ভেন্টের স্লুইজ গেট নির্মাণ ও খাল খননের কাজ শুরু


প্রকাশিত : মার্চ ২৩, ২০১৩ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে বাঁচাতে দেবহাটা উপজেলার ঢ্যাপখালি খালের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধের উপর দু’ভেন্টের স্লুইজ গেট নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় এর উদ্বোধন করেন দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. গোলাম মোস্তফা। কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আসাদুল হক জানান, সীমান্ত নদী ইছামতীর সঙ্গে ঢ্যাপখালি খালের সংযোগ আদিকালের। এক সময় এ খাল দিয়ে লঞ্চ, স্টীমার ও পণ্যবাহি বড় নৌকা চলতো। উপজেলার কোমরপুরের মান্নান আল কাদরী ভূমি রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে প্রভাবিত করে অনেক সরকারি খাস জমি নিজের নামে করে নেয়। মান্নান আল কাদরীর নেতৃত্বে একটি মহল ক্রমশঃ ভরাট হওয়া ঢ্যাপখালির খালের একাংশ সহ বেশ কিছু জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে চাষাবাদ, চিংড়ি চাষ ও বসতবাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। এ কারণে ঢ্যাপখালির খালের দক্ষিণপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার তলদেশ অতিরিক্ত উঁচু হয়ে যায়। ফলে যশোর, নাভারন, বাগআচড়া, শার্শাসহ তালা ও কলারোয়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষের পানি এ খাল দিয়ে নিষ্কাশিত না হতে পেরে দেবহাটা, সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া ও দু’টি পৌরসভাসহ কমপক্ষে ২০ টি ইউনিয়নের ১০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হয়। ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যহত হয়।
তিনি আরো বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ আ,ফ,ম রুহুল হক বিষয়টি অবগত হওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের জন্য তিনি এ খাল খনন ও স্লইজ গেট নির্মাণের উপর গুরুত্ব দেন। সে অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এখানে দু’কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে গতকাল একটি স্লুইজ গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি কোমরপুর, শাঁখরা, কুলিয়া, ভোমরাসহ কয়েকটি গ্রামের এক হাজারের বেশি মানুষ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে বাঁচতে গতকাল থেকে ভরাট হয়ে যাওয়া খালের খনন কাজ শুরু করেছে।
স্লুইজ গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধনকালে উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড, গোলাম মোস্তফা বলেন, সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে বাঁচাতে ঢ্যাপখালি খালের উপর দু’ ভেন্টের স্লুইজ গেট নির্মাণের পাশাপাশি খাল খনন শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া সাপমারা খাল খননের বিষয়টি পরিবেশ অধিদপপ্তরের ছাড় পেলে অবিলম্বে ওই খাল খনন শুরু হবে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর সেকশান অফিসার মোঃ আবুল হোসেন জানান, খাল খনন ও স্লুইজ গেট নির্মাণ হওয়ার পর এলাকার ৫০০ হেক্টর জমি চাষের উপযোগি হবে। ঢ্যাপখালি খালের উপর স্লুইজ গেট নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম জানান, ৩৮০ দিন সময় বেধে দিলেও চলতি জুলাই মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদি।