আট কোটি টাকা মুলের সওজ’র সম্পত্তিতে সরকার দলীয় এমপি’র দখলবাজি অব্যাহত, আজও নিরব কতৃপক্ষ


প্রকাশিত : January 2, 2014 ||

সামিউল মনির, শ্যামনগর: শ্যামনগরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় আট কোটি টাকা মুল্যমানের সরকারী সম্পত্তিতে টার্মিনাল নির্মানের নামে অবৈধ দখলবাঁজির কাজ বেশ দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে। শুরুতে সাধারন শ্রমিকদের নিয়ে কাজ শুরু করা হলেও গত বেশ কিছুদিন ধরে হাইওয়ে রাস্তা নির্মান কাজে ব্যবহৃত নানান সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে।
অথচ শুরু থেকেই সম্পত্তির মালিক সওজ কতৃপক্ষ অসহায়ত্বের অভিযোগে নিদারুন নিরবতা পালন করে যাচ্ছে। যদিও ইতিমধ্যে সওজ সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ এবং দীর্ঘ ৪৫ বছরের পুরানো সওজ’র পাকা ভবন রাতের অন্ধকারে গুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো মামলা দুটিতে যারা ভাংচুর কাজে অংশ নিয়েছে এবং এবং সওজ ভবনের মালামাল লুটপাট করেছে তাদের অনেকের পাশাপাশি স্বয়ং নির্দেশ দাতা তথা স্থানীয় এমপির নাম অন্তর্ভুক্তি হয়নি। বিষয়টি এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে টার্মিনালেরর একটি তিনফুট আকৃতির সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়ে স্থানীয় এমপি’র পক্ষের লোকজন গোটা আট কোটি টাকার সম্পত্তি করায়ত্ত করার যাবতীয় বন্দোবস্ত ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে। যার অংশ হিসেবে রাস্তা থেকে উক্ত সম্পত্তিতে প্রবেশমুখে বৃহাদাকৃতির একটি তোরণ নির্মান করা হয়েছে। এছাড়া বিশালাকৃতির একটি পুকুর নায় বরং দীঘি খনন করে সেখানে নানান প্রজাতির মাছ ছাড়ার পাশাপাশি পুকুরে যাতায়াতের জন্য ইটের সোলিং দিয়ে উন্নত মানের রাস্তা নির্মান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সোয়ালিয়ূা এলাকা থেকে বালু এনে নিচু জায়গা ভরাট করে সেখানে পরিকল্পনা মাফিক শপিংমল নির্মাণের কাজও বেশ সন্তর্পনে এগিয়ে চলেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে।
এছাড়া মহামুল্যবান এই সম্পত্তির সম্মুখভাগ উম্মুক্ত রাখতে ইতপুর্বে সওজ সম্পত্তির সামনে বসবাসরত প্রায় পাঁচ/সাতটি পরিবারকে সম্মুখভাগ থেকে সরিয়ে দিয়ে সওজ সম্পত্তির মধ্যে দক্ষিনপাশে বেশ ভালভাবে বসবাসের জায়গা করে দেয়া হয়েছে। এসব ভুমিহীনরা একেক জন পাঁচ থেকে সাত কাঠা করে জায়গা নিয়ে বসবাস শুরু করেছে এবং সওজ সম্পত্তির মধ্যেই পাকা ইমারাত নির্মানের তৎপরতা শুরু করেছে। এসব ভূমিহীনরা শুরুতে উক্ত জায়গার রাস্তার সম্মুখভাগের দখল ছাড়তে রাজি না হওয়ায় দখলবাজদের পক্ষ থেকে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের বাািড়র সীমানা বরারবর বসিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগত দ্বদ্বেœর জের ধরে এসব ভূমিহীনকে নজরুল ইসলাামের বাড়ির উপর দিয়ে যাতায়াতের নির্দেশ দিয়েছে এসব দখলবাঁজরা।
উল্লেখ্য গত ২০১০ সালে প্রায় আট কোটি সওজ কতৃপক্ষের নিয়ন্ত্রনাধীন এই সম্পতির উত্তর পাশের দেয়াল নির্মানের কাজ শেষ হয়। পরবর্তী বছর সওজ কতৃপক্ষ নিজেদের উদ্যেগে উক্ত সম্পত্তির পশ্চিম পাশেও দেয়াল নির্মান করে তাদের মুল্যবান সম্পত্তিটুকু সংরক্ষনের চেষ্টা করে। পরবর্তী বছর ঐ সম্পত্তির দক্ষিন পাশে দেয়াল দিয়ে গোটা সম্পত্তিকে নিজেদের আয়ত্বে নিতে সওজ কতৃপক্ষ বদ্ধ পরিকর হলেও বাধ সাধে স্থানীয় এমপি। তিনি টার্মিনাল গড়ে তোলার নামে গোটা সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করে। যার অংশ হিসেবে তিনি সওজ’র উপর মহলে উক্ত সম্পত্তি নিরানব্বই বছরের জন্য ইজারা নিতে আবেদন করেও ব্যর্থ হয়। জানা যায় সওজ কতৃপক্ষ সাড়া না দেয়ায় এবং পাল্টা দুটি মামলা দেয়ার কারনে এমপি তার লোকজন দিয়ে অতিদ্রুত উক্ত সম্পতিতে স্থায়ী দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে নানা ফন্দিফিকির শুরু করেছে।
এদিকে টার্মিনালের নামে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রায় একশত পঞ্চাশ মেঃ টন চাল এর জন্য এমপির’র পক্ষ থেকে ডিও দেয়ার পর উক্ত অবৈধ কাজে প্রকল্প দেওয়ার সুযোগ না থাকায় যাবতীয় বরাদ্দ বাতিল করা হলেও দখলবাঁজরা কৌশল পরিবর্তন করে। এসময় তারা দলীয় নেতাকর্মীদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অনুকুলে বরাদ্দ দেখিয়ে সমুদয় চাল (প্রায় চারশত মেঃ টন) লোপাটের চক্রান্ত করে কথিত টার্মিনালের নামে (নামে টার্মিনাল কিন্ত দখলে যাবে এমপি’র) তথা স্থানীয় জাপা দলীয় মহাজোট সমর্থিত এমপি’র ব্যক্তিগত স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছে টার্মিনাল গড়ে তোলার নামে সরকার দলীয় এমপি এইচ এম গোলাম রেজা কোটি কোটি টাকা মুল্যের উক্ত সম্পত্তি দখলের চক্রান্ত করছে। ইতিপুর্বে আঃলীগ দলীয় সাবেক এমপি’র গড়ে তোলা টার্মিনালের পরিবর্তে নুতন করে ভিন্ন জায়গায় টার্মিনাল গড়ে তোলার চেষ্টা ঐ চক্রান্তেরই বহিঃপ্রকাশ বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় সচেতন মহলসহ আশপাশের গ্রামবাসীরা অবিলম্বে দখলবাজদের হাত থেকে উক্ত কোটি কোটি টাকা মুল্যের সম্পত্তি সরকারের অনুকুলে ফিরিয়ে নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।