প্রতিনিয়ত হুমকিতে অবরুদ্ধ তেতুলিয়ার হিন্দুরা


প্রকাশিত : January 24, 2014 ||

আব্দুস সামাদ: প্রতিনিয়ত হুমকির শিকার হয়ে দেশ ত্যাগের কথা ভাবছেন তালা উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের কাটিপাড়ায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
কাটিপাড়ার শিবুপদ দাসের স্ত্রী ঋতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জামায়াত-শিবিরের অত্যাচারে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত জীবন যাপন করছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। রাতে মেয়েদের ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছি।
তিনি আরও বলেন, গত সোমবার রাতে আমার স্বামী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত কয়েকজন ধরে নিয়ে যায়। তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয়। পরে রাতে তাকে মারধর করে ছেড়ে দেয়া হয়। এ সময় তাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
একই এলাকার হরেন্দ্রনাথ বলেন, আমাদের এখানে আর বসবাসের অবস্থা নেই। রাত ঘুমাতে পারি না। রাস্তায় চলতে পারিনা। আমাদেরকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। কথা বলতে গেলে হত্যার হুমকি দেয়। রাতে বাড়িরে এসে ডাকাতি করার কথা বলে। এরই মধ্যে দু’বার ডাকাতি হয়েছে আমাদের গ্রামে।
কাটিপাড়ার বিজন বিহারী দাসের ছেলে শিবুপদ দাস জানান, আড়ং পাড়ার শহিদুর, শাহাজান, তহিদসহ আরও কয়েজজন আমাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। কোন কিছু বলতে গেলে বাইরে থেকে লোক এনে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। বাড়ি থেকে না বের হওয়ার কথা বলে। মাঝে মাঝে বাড়ির পাস দিয়ে মটরসাইকেল দিয়ে শো ডাউন দেয়। তারা আরও জানায়, এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার শংকর কে জানালেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেন না।
এ বিষয়ে তেতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিয়াযান মোড়ল জানান, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত বুধবার আমি নিজে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত করেছি। এখানে যাতে পুনরায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানো হবে।
একইভাবে সহিংসতার শিকার হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি, শিবপুর, ঘোনা, কাথন্ডা, বৈকারী, কুচপুকুর, ভোমরা, তালার তেতুলিয়া ও শ্যামনগর, দেবহাটা, আশাশুনি এবং কলারোয়া উপজেলার অনেক হিন্দু পরিবার।
তবে, নির্যাতিতরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ৭টি উপজেলার শত শত দোকান, বসতঘর, গোয়ালঘর, গোডাউন ও মোটরসাইকেল সাম্প্রদায়িক হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, এসব এলাকা থেকে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।