ছনকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার দেওয়ার নামে ২লক্ষ ৬০হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র!


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার দেওয়ার নাম করে সদর উপজেলার ছনকা গ্রামের এক সাংবাদিক পরিবারসহ ১০৪টি পরিবারের কাছ থেকে সর্বমোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার ১০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি দালাল চক্র। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার ছনকা মাঝের পাড়া গ্রামে।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছনকা বাজারের ব্যবসায়ী মৃত রোস্তম সরদারের ছেলে নুরইসলাম, মিজানুর রহমান মিন্টু, জিয়াউর রহমান মোল্যা, আরশাদ আলী মোল্যা, আফছার আলী মোল্যা, সাবেক সেনা সদস্য আমিরুল ইসলাম, শাহজাহান কবির ও ঘোনা ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছনকা গ্রামের হাজি শাহিনুজ্জামান ডালিম জানান, আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলনা। কিন্তু বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষে ঝাউডাংগা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অফিস হতে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য দরখাস্ত আহবান করা হয়। এঘটনায় ২০১৫ সালের শেষের দিকে এলকাবাসি একটি দরখাস্ত করে এ গ্রামে বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য। বিদ্যুৎ অফিস দরখাস্ত নেওয়ার পর ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিদ্যুতের খুটি ও তার বসায়। এসময় ছনকা গ্রামের আব্দুররহমান ও বাসুদেব ঘোষ এবং বিদ্যূৎ অফিসের এক কর্মচারী পরিচয়ে দালাল ভাড়ুখালী গ্রামের হযরত আলী যোগসাজস করে বলে যে, তারা তদবীর করে বিদ্যুৎ এনেছে। তাই তাদের হাতে তার ও খুটি বাবদ ৫শত টাকা, তার মিটারের তার লাগানো বাবদ ১শত টাকা, আর ওয়ারিং বাবদ ৫শত টাকা, আর মিটার বাবদ ১৪শত করে টাকা দিতে হবে। এ ঘটনায় গ্রাম্য দালাল বাসু ও আব্দুর রহমান নিজেদেরকে সরকার দলীয় লোক দাবি করে জনগণকে এই বলে বোঝায় যে, এ টাকা না দিলে তোমরা কখোনো বিদ্যুৎ পাবেনা। গ্রামের নীরিহ বিদ্যুৎ বঞ্চিত মানুষেরা বিদ্যুতের আশায় ও তাদের  কথায় বিশ্বাস করে এসব দালালদের কাছে সর্বমোট ২লক্ষ ৬০ হাজার ১শত টাকা তুলে দেয়। এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে একজন সাংবাদিকের পরিবারের কাছ থেকে প্রতারণা পূর্বক ১হাজার টাকা আদায় করা হয়। সংশ্লিষ্ট ওই সাবাদিকের পরিবারের সদস্যরা জানায়, না দিলে বিদ্যুৎ হবে না এমন ভয়ে ওই সাংবাদিক পরিবারেরর কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। এদিকে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে জানা যায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে কোন প্রকার টাকা লাগে না। তবে সমিতির গ্রাহক ও মিটার বাবদ অফিসে মানিরিসিটের মাধ্যমে ৬শত ২০টাকা নেওয়া হয়। এ খবর শোনার পর এলাকার সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছেন। তারা এসব দালালদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের সংম্লিষ্ট বিভাগের জন্য জোর দাবি জানান। এ ব্যাপারে ঝাউডাংগা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি আমাদের জানার বাইরে। তবে তদন্তকালে সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গ্রাহকদের উৎকোচের টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে দালাল বাসু ঘোষ, আব্দুর রহমান ও হযরত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তাদের এলাকায় কারেন্টের ব্যবস্থা তাদের তদ্বীরের কারণে। অতএব টাকা খরচ হয়েছে। আর আমরা সে টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করেছি। কি বাবদ টাকা কোথায় ব্যয় করা হয়েছে জানাতে চাইলে তারা জানান এসব টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। জানেন তো ঘুষ না দিলে বাংলাদেশে কোন কাজ হয়না।