ভোমরা স্থলবন্দরে ইজারা নেওয়া জেলা পরিষদের জায়গায় ভূমিদস্যুদের কালো থাবা!


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে ইজারা নেওয়া জেলা পরিষদের জমি ভূমিদস্যুদের জবরদখলে বাধা দেওয়া ও তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় লাঞ্ছিত হয়েছেন এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১৪জন ইজারা গ্রহীতা। সমস্যা সমাধানে চেয়ারম্যানের নোটিশ পেয়ে সোমবার দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদে এলে ভূমিদস্যু ও তাদের পক্ষ নেওয়া এক যুবলীগ নেতার লোকজন তাদেরকে লাঞ্ছিত করেন। এমতাবস্থায় ইজারা গ্রহীতারা জবরদখলকারিদের নতুন করে হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন।
ভোমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম আনারুল ইসলাম ও ভোমরা গ্রামের জালালউদ্দিন গাজী জানান, ২০১৪ সাল থেকে ভোমরা থেকে আলীপুর সড়কের ভোমরা মৌজার ১/১ খতিয়ানের ১৮৪৫ ও ১৭৮৮ দাগের জেলা পরিষদের জমি একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে তারাসহ প্রায় ১৫জন শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে রয়েছেন। ১৯৮১ সালের ১২আগস্ট ওই জমির মধ্যে ভোমরা-সাতক্ষীরা সড়কের ফুলতলা থেকে রাশিদা বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ভোমরা মৌজার দক্ষিণ পাশের এক একর ৬৫ শতক জমি শহরের কাটিয়ার জনৈক আবুল হোসেন তৎকালিন মহকুমা প্রশাসকের কাছ থেকে চাষ করার জন্য বাংলা ১৩৭৬-১৩৮১ সাল (ছয় বছর) পর্যন্ত লীজ নেয়। দু’ দিন না যেতেই ১৪ আগস্ট ওই জমি অবৈধভাবে সাবেক তহশীলদার গোলাম মোস্তফা ও জিন্নাত আলীর কাছে রেজিষ্ট্রি কোবালা (৭৬৯৪/৮১ ও ৭৬৯৫/৮১) মূলে এ একর ৬০ শতক বিক্রি করেন আবুল হোসেন। ১৯৮৯ সালের ৪ ডিসেম্বর তাদের কাছ থেকে ওই জমি কেনেন ভোমরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম, রোকেয়া ও আফছার আলী, আছিয়া, মাসুরাসহ কয়েকজন। শহীদুল ইসলাম ওই জমি গ্রামীন টাওয়ার, গনি সরদারসহ কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেন।
ওইসব জমি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের ৯ ফেব্র“য়ারি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে (৩৫৮/১৫ নং) ও রেকর্ড সংশোধনের জন্য দেওয়ানী ১৪৯/১৫ নং মামলা করা হয়। স্থানীয় কমপক্ষে ১৫ জনের নামে ২০১৪ সাল থেকে এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেয় জেলা পরিষদ। সম্প্রতি জেলা যুবলীগের এক শীর্ষ নেতার সহায়তায় নাশকতা মামলার আসামী মিজানুর রহমান মিণ্টু, রফিকুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম, সৈয়দ মাহমুদ পাপা, সানি খালেকসহ ভূমিদস্যুরা (ইজারা গ্রহীতাদের) তাদের জমি জবরদখল করার চেষ্টা করে। বিষয়টি পহেলা ফেব্র“য়ারি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে জানালে তিনি সার্ভেয়র পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়ে ১৩ ফেব্র“য়ারি সকাল ১০টায় উভয় পক্ষকে জমির কগজপত্রসহ তার অফিসে ডাকেন। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের এক শীর্ষ পর্যায়ের নেতা তাদেরকে মোবাইলে হুমকি দেন। এরপরও মাটি ভরাট করে রাতে আধারে জবরদখলের চেষ্টার অব্যাহত রাখায় গত ১২ ফ্রেবুয়ারি তারা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
আনারুল ইসলাম জানান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম না আসায় প্রধান নির্বাহী এএনএম মঈনুল ইসলাম সোমবার দুপুর১২টার দিকে তার অফিসে উভয়পক্ষকে আহবান করেন। ইভয়পক্ষ থেকে আইনজীবীও নিয়োগ করা হয়। এ সময় জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নানও তাদের বিপক্ষে হাজির ছিলেন।
তারা আরো বলেন, উভয়পক্ষের কাগজপত্র যাঁচাই করার একপর্যায়ে ভূমিদস্যু ভোমরা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, নাশখতা মামলার আসামী মিজানুর রহমান মণ্টুসহ প্রতিপক্ষরা বিরোধ বাঁধায়। এ সময় প্রধান নির্বাহী এ পরিস্থিতিতে আলোচনা সম্ভব নয় বলে মুলতুবি ঘোষণা করে কোন পক্ষকেই বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ না করার নির্দেশ দেন।
আনারুল ইসলাম ও জালালউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তারা প্রধান নির্বাহীর অফিস থেকে বাইরে আসার পর তাদের প্রতিপক্ষ গ্র“পের সদস্য ও ওই যুবলীগ নেতার সহযোগীরা সংবাদ সম্মেলন করা ও জবরদখলে বাধা দেওয়ার জন্য মারতে উদ্যত হয়। একপর্যায়ে তাদের দু’জনসহ কয়েকজনকে ঘাড় ধাক্কা দিতে দিতে জেলা পরিষদের বাইরে নিয়ে আসে তারা। এ নিয়ে আর কোনদিন জেলাপরিষদে না আসার জন্য হুশিয়ারি দেয় তারা। বিষয়টি তারা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আলীসহ কয়েকজনকে জানালেও তারা কোন সদুত্তর দেননি।
তবে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এএনএম মঈনুল ইসলাম জানান, তার অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কোন ইজারা গ্রহীতা লাঞ্ছিত হয়েছেন এমনটি তাকে কেউ জানাননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা পরিষদ চেয়্যারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, এ ধরণের ঘটনা তার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে ইজারা গ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।