সেই বাংলা ছবি ‘ছুটির ঘন্টা’ এখন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ফতেপুরে!


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বহুলালোচিত বাংলা ছবি ‘ছুটির ঘন্টা’ এখন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুলের বাধরুমে আটকে পড়া শিক্ষার্থী লিয়ন দাস (৯) কে ৭ঘন্টা পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সামাল দেয়া হয়েছে। এঘটনায় ভূক্তভোগির পরিবার অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায়, জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ফতেপুর গ্রামের অরেবিন্দু দাসের ছেলে লিয়ন দাস। বুধবার  বিকালে স্কুল ছটির শেষ মুহুর্তে বাথরুমে যায় লিয়ন দাস। এরই মধ্যে স্কুলের ঘন্টা বাজিয়ে ছুটির ঘোষনা হয়। সকল শিক্ষার্থীরা স্কুল ত্যাগ করে। অবশেষে স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী ও দপ্তরী আব্দুল হাই কারিগর স্কুলের বাথরুম থেকে শুরু করে সকল কক্ষে তালাবদ্ধ করে চলে যান। বিকাল ৫টার পরে লিয়ন বাড়িতে না যাওয়ায় খোজাখুজি শুরু হয় পরিবারের সদস্যদের। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় লিয়নের বাবা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে সেলফোনে জিজ্ঞাসা করে স্কুলে আটকা পড়েছে কি না। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের এক কথা আমি নিজে থেকে তালা দিয়েছি। সেখানে কেউ ছিলনা। অন্যস্থানে খোজ করেন।
এরপর সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত ৮টার দিকে স্কুলের দপ্তরী আব্দুল হাই এর বাড়িতে গিয়ে চাবি চাইলে চাবি না দিয়ে অসৌজন্য মুলক আচরণ করে। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ফের দপ্তরির বাড়িতে যায়। তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাতে স্কুলে এসে সব রুম খুলে না পেয়ে অবশেষে স্কুলের বাথরুমের মধ্য থেকে নাজেহাল অবস্থায় নিয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকের নিকট নিয়ে চিকিৎসার পর সে স্বাভাবিক হয়।
ওই রাতেই বাড়িতে নেয়া হয় লিয়নকে। বৃহস্পতিবার সকালে লিয়নের পিতা উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানীর নিকট জানালে তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন স্কুলে বাথরুম ছিল তা আমার জানা ছিল না। এঘটনার জন্য তিনি দু:খ প্রকাশ করেন।
লিয়নের বাবা অরেবিন্দু দাস সেলফোনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই না। আমরা সাধূ মানুষ ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চাই। তবে আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত সরকার ও মেন্বর কামাল হোসেনের নিকট বিষয়টি জানিয়েছি। তারা আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। বিয়ষটি তারাও দেখবেন বলে জানান। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানীর ব্যক্তিগত সেলফোন ০১৭২৯-৫৪৯৯৭৭ ও ০১৯১৬-৪৯৫২১৮ নাম্বারের সেট বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।
এব্যাপারে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত সরকার তার ব্যক্তিগত সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি খুলনায় ছিলাম। ঘটনাটি দুপুরে আমাকে টেলিফোনে অবহিত করা হয়েছে। আমি খুলনা থেকে ফিরে ঘটনাস্থলে রাত (৭.৩০) সময় এসেছি। সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ভূক্তভোগিদের থানা এবং ইউএনও এর নিকট অভিযোগ করতে বলেছিলাম বলে জানান।