গাবুরার কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাধে ভাঙন!

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার গাবুরার কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার বিকাল ৫টার দিকে ইউনিয়নের পার্শ্বেমারি ট্যাকের মাথায় তিন শতাধিক ফুট বাধ ভেঙে যায়।
ইউপি সদস্য বাদশা আলম বলেন, কয়েকদিন যাবত গাবুরায় ইউনিয়নের পার্শ্বেমারি ট্যাকের মাথায় ছোট ছোট ভাঙন দেখা দিয়েছিল। বুধবার বিকেলে সেটি’র ভয়াবহতা পরিলক্ষিত হয়।
গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আযম টিটো বলেন, বিষয়টি আমি ডিডিএলজি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। কর্মকর্তাবৃন্দ বিষয়টি তারা সমাধানের জন্য দেখবেন।
এদিকে কপোতাক্ষ নদে ভাঙনে বেড়িবাঁধের ব্লক ও তিন শ’ফুটের বেশী জমির মাটি নদীতে তলিয়ে গেছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান চেয়ারম্যান টিটো।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একুশে ফেব্রুয়ারী পালিত

কুলিয়া শহীদ মিনার:
দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরে মানুষের ঢল নামে কুলিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। মঙ্গলবার রাত্র ১২টা ১মিনিটে ৫মিনিট নিরবতা পালন শেষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ বেদীতে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যন মো. আছাদুল হক, দেবহাটা উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, জেলা কৃষক লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোজাফ্ফার হোসেন, ইউনিয়ন আ”লীগ এর সভাপতি রুহুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক বিধান বর্র্মন এছাড়াও হাফিজুর রহমান, আবু সাইদ, মেছের আলী, মশিউর রহমান, তাপস, জহিরুল, আরিফ, শরীফ, আ. হান্নান সহ ওয়ার্ড আ’লীগের সকল নেতৃবৃন্দ।
০১ নং কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ সরকার, ইউপি সদস্য প্রেম কুমার, অচিন্ত  মন্ডল, ইউপি সদস্য শিরিনা রসুল, ইউডিসি উদ্যোক্তা মাহমুদুল হাসান ও লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য নুরুল হক মিঠু।
কুলিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের পক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের  অর্থসহকারী আ. গফ্ফার, ইউনিয়ন ডেপুটি কমান্ডার নূর মোহাম্মাদ, মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলাম, আশরাফ হোসেন ও আজিজুল।

Exif_JPEG_420

কুলিয়া আঞ্চলিক প্রেসক্লাবের পক্ষে সভাপতি ডা. অহিদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুর রশিদ সুজন, অর্থ সম্পাদক রমজান মোড়ল, দপ্তর সম্পাদক আবির হোসেন লিয়ন, সদস্য ইব্রাহিম খলিল, শাহিনুর রহমান ও আক্তার হোসেন।
কুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের পক্ষে সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, গোলাম রসুল ও ফারুক হোসেন।
দেবহাটা উপজেলা তরুণ লীগের পক্ষে সভাপতি সাংবাদিক রমজান আলী মোড়ল ও সাধারণ সম্পাদক এসএম নাসির উদ্দীন।
কুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পক্ষে সভাপতি আবজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা, উপজেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম,  উপজেলা সহ সভাপতি রানা, ও রবিউল সানা। কুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস এর পক্ষে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তরুন কুমার, অফিস সহকারী আবুল কাশেম ও মনোরঞ্জন ।
বহেরা এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পক্ষে প্রধান শিক্ষক এমাদুল হক, সহকারী শিক্ষক মুজিবুদ্দৌলা শামিম ও রুবেল আহমেদ। কুলিয়া শহীদ মিনার বাজার কমিটির পক্ষে সভাপতি ইমাদুল হক, সাধারন সম্পাদক আ. ছামাদ। কে বি এ কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষে মহিলা সভানেত্রী সুমাইয়া সুলতানা সূমি। বহেরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষে প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ ঘোষ, সহকারী শিক্ষক প্রশান্ত কুমার মন্ডল, মফিজুল ইসলাম ও অফিস সহকারী মোতালেব হোসেন। কুলিয়া মায়ের কোল শিশু নিকেতনের পক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দ। লাবণ্যবতী যুব সংঘের পক্ষে সভাপতি ইউপি সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুজয় ও সকল সদস্যবৃন্দ।
বহেরা দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার পক্ষে সুপার শহিদুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ওয়ালিদ হোসেন সহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে শপথবাক্য পাঠ করান বহেরা এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমাদুল হক।
জেলা, সদর ও পৌর কৃষকলীগ:
জেলা কৃষকলীগ, পৌর কৃষকলীগ, সদর উপজেলা কৃষকলীগ নেতৃবৃন্দ ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে সাতক্ষীরার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ পূর্বক শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. নর নারায়ন, সহ-সভাপতি এড. নওশের আলী, যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক হেদায়েতুল ইসলাম হেদায়েত, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আল মাহমুদ পলাশ, দপ্তর সম্পাদক আতিয়ার রহমান, প্রচার সম্পাদক মনোজ কুমার, উপজেলা কৃষকলীগের পক্ষে  উপজেলা আহবায়ক তানজিমুল টুটুল, যুগ্ম আহবায়ক প্রভাষক আবু রায়হান পৌর কৃষকলীগের পক্ষে সাবেক আহবায় সামছুজ্জামান জুয়েল, শেখ সাদী, শেখ শরিফুল ইসলাম, শেখ ওবাইদুল, শাহীন, রবিউল ইসলামসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আলিপুর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা:
সদর উপজেলার আলিপুর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২১ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার মাদ্রাসার সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে সকালে শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পন করা হয়। পরে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে এসএমসির সদস্যরাসহ উপস্থিত ছিলেন সুপার মাওলানা মতিয়ার রহমান, মাও. আব্দুল মান্নান, আব্দুর রশিদ, ওবাইদুল্লাহ, শওকত আলী, মামুনুর রশিদ, আলী আযম, রমজান আলী, রবিউল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, আবুল খায়ের, তৌহিদুল হক তৌহিদ আমরিনা খাতুন, শামীমা আক্তার প্রমুখ।
ভোমরা স্থলবন্দর প্রেসক্লাব:
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ভোমরা স্থলবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদুল হক তৌহিদ, জিয়াউল ইসলাম জিয়াসহ নেতৃবৃন্দ, শওকত আলী, জিএম আব্বাস উদ্দিন, আবিদ হোসেন, তামান্না আঞ্জুমান, সাইফুল ইসলাম রঞ্জু, নাজমুল হক রিন্টু, মনিরুজ্জামান সোহাগ, সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, রাশেদুজ্জামান, সালাউদ্দিন সুমন, শরিফুজ্জামান সোহাগ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ভালুকা চাঁদপুর হাইস্কুল:
ভালুকা চাঁদপুর মাদ্রাসা মোড় থেকে মডেল হাইস্কুল পর্যন্ত সেজেছিল আলপনায়। ভালুকা চাঁদপুর মডেল হাইস্কুলে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভলোবাসা পালন করা হয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশে ফেব্রুয়ারী ভোর থেকে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকার মানুষের ঢল নামে ভালুকা চাঁদপুর মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফ্ফার, সহকারি প্রধান শিক্ষক লিয়াকাত আলী প্রমুখ।
নলতায় শহীদ দিবস পালিত:
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে নলতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার অপেক্ষায় সকাল থেকে দেখা গেছে শিক্ষকসহ হাজারও শিক্ষার্থীর লাইন। নলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল ডিগ্রী কলেজ, নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রি-ক্যাডেট স্কুেলর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
চুকনগর:
চুকনগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচী পালন করেছে। সকাল ৯টায় চুকনগরে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে র‌্যালি শেষে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি এম রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক গৌতম রাহা, সহ সহ-সভাপতি শংকর ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন, কোষাদক্ষ এমএ জলিল, গাজী শামীম হোসেন মিঠু, ইমরান হুসাইন, বিএম ফিরোজ আহম্মেদ প্রমুখ। সকাল সাড়ে ৯টায় আটলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে র‌্যালি ও শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পন শেষে দলীয় কার্যালয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান দুলুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এড. প্রতাপ রায়ের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম, মাষ্টার সম নুর আলী, মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম, স্বপন দেব, অরুণ নন্দী, যুবলীগ নেতা জিএম ফারুক হোসেন,সরদার শরিফুল ইসলাম,প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষ, এমএ হামিদ, ছাত্রলীগ নেতা সম কবিরুল ইসলাম প্রমুখ।
কলারোয়া উপজেলা:
কলারোয়ায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মঙ্গলবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে অমর একুশে’র  প্রথম প্রহরে কলারোয়া কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শহিদ মিনারের বেদিতে একে একে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন, কলারোয়া থানা, পৌরসভা, কলারোয়া প্রেসক্লাব, আ.লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংগ দল, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। একুশের রাত ১২টা ১ মিনিটের পরপরই ফুলে ফুলে ভরে যায় কলারোয়া শহিদ মিনারটি। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ। সকাল সাড়ে ৭ টায় উপজেলা চত্বর থেকে বের করা হয় বিশাল প্রভাত ফেরী।  প্রভাত ফেরী শেষে উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায়ের সভাপতিত্বে ও কলারোয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শিক্ষক দীপক শেঠের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আলী, কলারোয়া থানার ওসি তদন্ত আখতারুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু নসর, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরা পারভীন, সহকারী অধ্যাপক  সাংবাদিক কে এম আনিছুর রহমান, প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, প্রভাষক বি এম সিরাজুল ইসলাম, প্রভাসক ভোলানাথ মন্ডল, প্রভাষক মন্ময় মনির, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু ।
কলারোয়ায় সিংগা হাইস্কুল:
কলারোয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিএসএইচ সিংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ৮ টায়  জাতীয় পতাকা অর্ধনিমিত উত্তোলন শেষে প্রতীকী শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে খালি পায়ে এক প্রভাত ফেরী সিংগা বাজার এলাকা প্রদিক্ষণ শেষে স্কুল চত্ত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে শহীদদের স্বরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
দেবহাটা বিশেষ প্রতিবন্ধী স্কুলে মাতৃভাষা দিবস পালন:
দেবহাটা উপজেলার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কেন্দ্র (ডিডিসি) এর সহযোগিতায় এবং দেবহাটা বিশেষ প্রতিবন্ধী স্কুলের আয়োজনে শহীদ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় স্কুল প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার  মুক্তিযোদ্ধা ইয়াছিন আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবক হাবিবুল্লাহ।
সাতক্ষীরা পল্লীমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ:
সাতক্ষীরা পল্লীমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সিনিয়র শিক্ষক জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে সকাল ৭টায় ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক কর্মচারীর সমন্বয়ে র‌্যালি নিয়ে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কস্থ শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুলের শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠান প্রধান রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, শিক্ষিকা লহ্মীরাণী রাহা এবং শিক্ষক আমিরুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ:
২১শে ফেব্রুয়ারী মহান ভাষা শহীদ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদ এবং ভাষা সৈনিকদের প্রতি হৃদয়ের সুগভীর থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরম ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় তাদের অমলিন স্মৃতি, গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং সুবৃহৎ অর্জনকে। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সৃষ্টিকর্তার নিকট দোয়া করেন সর্বস্তরের মানুষ। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং নানা আনুষ্ঠানিকতায় মহান ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।
নগ্ন পায়ে সামেক শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।
বক্তব্য রাখেন ডা. মো. রুহুল কুদ্দুস, ডা. মো. এ এইচ এম কামরুজ্জামান , ডা. মো. হরষিৎ চক্রবর্তী, ডা. মো. আবু সাঈদ শুভ সহ অনেকে। অধ্যক্ষ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ‘বিজয়-৫২’ নামের একটি দেয়াল পত্রিকা উন্মোচন করা হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, দেয়াল পত্রিকাটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন ডা. কাজী হাবিবুর রহমান স্যার। উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্যের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ছিলেন ডা. হরষিৎ চক্রবর্তী, ডা. মো. নাসির উদ্দিন গাজী সহ অনেকে। দেয়াল পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন ৩য় বর্ষের ছাত্র মো. আজমল হোসেন এবং বেলায়েত হোসেন রাজু।
ওয়ার্ড আ.লীগের প্রভাত ফেরী ও শিশু কিশোর সমাবেশ
মহান ২১ ফেব্রুয়ারী জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় সুলতানপুর ফুটবল ক্লাব ময়দানে ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৪নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি শেখ কামরুল হক চঞ্চল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র, জেলা আ’লীগের প্রচার সম্পাদক ও জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধারন সম্পাদক শেখ নুরুল হক, জেলা আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন অর রশিদ, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর  কাজী ফিরোজ হাসান। উপস্থিত ছিলেন ৪নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসফিকুর রহমান মিল্টন সহ ওয়ার্ড আ’লীগের সকল সদস্যবৃন্দ, দ্যা পোল-স্টার পৌর হাইস্কুলের ও সী ব্রিজ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকবৃন্দ।

ডুমুরিয়ায় কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার: আটক ৩, থানায় হত্যা মামলা

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: ডুমুরিয়ায় মির্জাপুর এলাকা থেকে সুদর্শন রায় (২৩) নামের এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ গত মঙ্গলবার সকালে দক্ষিন মির্জাপুর নদীর পাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মামা স্কুল শিক্ষক দিনবন্ধু মন্ডল বাদী হয়ে একই পরিবারের ৪জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ মামলার আসামী কলেজ ছাত্রী লাভলী বিশ্বাস, তার একমাত্র ভাই কংকন বিশ্বাস ও মাতা রুপদী বিশ্বাসকে আটক করে জেল-হাজতে প্রেরন করেছে।নিহতের স্বজন ও এজাহার সুত্রে জানাজায় বটিয়াঘাটা উপজেলার বুনারাবাদ গ্রামের শুকুমার রায়ের এক মাত্র পুত্র সুদর্শন রায় ছোট বেলা থেকে ডুমুরিয়া উপজেলার বড়ডাঙ্গা এলাকায় তার মামা দিনবন্ধু মন্ডলের বাড়ীতে থেকে লেখাপড়া করে আসছে।সে বর্তমান সুন্দরবন সরকারী কলেজের অর্থনীতি বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষের একজন মেধাবী ছাত্র। মামার বাড়ীতে থেকে লেখাপড়ার পাসাপাসি টিউশনি পেষার সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। তারই জের ধরে মির্জাপুর এলাকার বিপুল বিশ্বাসের এক মাত্র মেয়ে ডুমুরিয়া মহাবিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রী লাভলী বিশ্বাসের সাথে প্রায় এক বছর আগে থেকে ঘনিষ্ট প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সুবাদে সুদর্শন মাঝে মধ্যে লাভলীর বাড়ি যাওয়া আসা করতো। বিষয়টি মেনে নিতে না পারায় ঘটনার রাতে লাভলীর সহেতায় তার পরিবারের সদস্যরা সুদর্শনকে ডেকে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা শেষে লাশটি দক্ষিন মির্জাপুর নদীর পাড়ে ফেলে রেখে যায়।পরে স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করে।এ দিকে সুদর্শনের মৃত্যুটি হত্যা নয়,আত্মহত্যা দাবী করে লাভলী ও তার পরিবার জানান লাভলী সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল ঠিকই। ঘটনার রাতে সুদর্শন লাভলীর সাথে দেখা করতে গভীর রাতে তাদের বাগানে অবস্থান নেয়। এর পর মোবাইলে লাভলীকে কাছে ডেকে নেয়। বিষয়টি লাভলী সহজে মেনে নিতে না পেরে তাকে বকাবকি করে। এ সময় সুদর্শন অভিমানে লাভলীর ওড়না কেড়ে নিয়ে গলায় পেচিয়ে পাশে থাকা একটি গাছে আত্মহত্যা করে।লাভলী জানান তাকে বাচাঁনো জন্য বাড়ী থেকে একটি কাচি নিয়ে ওড়নাটি কেটে দিলে সে নিচে এসে পড়ে।পরে দেখি তার আর নড়া চড়া নেই।তখন মাকে বিষয়টি জানানোর পর হত্যা মামলার ভয়ে লাশটি নৌকায় তুলে ঘটনা স্থলে ফেলে আসা হয়।সুদর্শনকে হত্যা নয় সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে।ঘটনা প্রসংগে ওসি সুভাষ বিশ্বাস জানান লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।ময়না তদন্ত রিপোট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল বেরিয়ে আসবে।

সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা, মামলা, হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকারীদের দীর্ঘদিনেও চিহ্নিত করতে না পারা, সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে সাংবাদিক শিমুলকে গুলি করে হত্যা, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য অসীম বরণ চক্রবর্তী ও মনিরুল ইসলাম মনির নামে ঢাকায় তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় হয়রানীমূলক মামলা, সাংবাদিক এম জিললুর রহমানের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলাসহ সারাদেশে সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন, হামলা-মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব চত্বরে ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ শনিবার, বেলা ১১ টায় এ কর্মসূচি পালিত হবে। উক্ত কর্মসূচিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সকল সদস্যসহ সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল বারী বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

চুকনগরে আবাসিক হোটেল থেকে মহিলার লাশ উদ্ধার

চুকনগর (খুলনা) প্রতিনিধি: চুকনগরে একটি আবাসিক হোটেল থেকে তালা ভেঙ্গে এক মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর শহরের গাজী আবাসিক হোটেল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক মহিলাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার সাগর হোসেন বাপ্পি জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাকিব ও শিখা নামের একজন পুরুষ ও মহিলা নিজেদের স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলের ২য় তলার ৩নং কক্ষটি ভাড়া নেয়। মঙ্গলবার সকালে নাস্তা আনার কথা বলে পুরুষ লোকটি বাইরে যায়। কিন্তু সারা দিনের মধ্যে তাদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বিকাল থেকে ম্যানেজার সাগর তাদের মোবাইল (হোটেলের রেজিষ্টারে লেখা) ০১৭২২২৮৭৫৯৩ ও ০১৯১৭৬৯১৪৫২ নম্বরে বারবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি। এক পর্যায়ে ফোন দুটি বন্ধ হয়ে গেলে হোটেল ম্যানেজার উক্ত কক্ষের তালা ভেঙ্গে ফেলে। এ সময় মহিলাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-খ) মোঃ সজিব খান ও ডুমুরিয়া থানার ওসি সুভাষ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে প্রেরন করেন এবং হোটেল ম্যানেজার সাগর কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন। এ সময় মৃতার পরনে নিচের অংশে কোন কাপড় ছিলনা। পুলিশের ধারনা তাকে ধর্ষনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশের মঞ্চে’ মানুষের মিলন মেলা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: দুই বাংলার মোহনায় বেনাপোল চেকপোস্টের শুন্যরেখায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চে’ বসেছিল এপার-ওপার বাংলার ‘বাংলা’ ভাষাভাষী মানুষের মিলনমেলা ভাষা দিবসের মিলন মেলা মহাউৎসব। মঙ্গলবার একুশের সকাল থেকেই গান, আবৃত্তি, নাচ আর দু’বাংলার কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-রাজনীতিবিদদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে বেনাপোল আর পেট্টাপোলের শূন্যরেখা। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কয়েক ঘণ্টার জন্য উধাও হয়ে যায় সীমান্তের কাঁটাতার, দু’বাংলার মানুষ শুন্যরেখায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে মুগ্ধতার চোখে, মেতে উঠে আড্ডায়-স্মৃতিচারণে। এসময় দুপারের মানুষের ঢল নামে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, কাটা তারের বেড়া আটকাতে পারবেনা কাউকে-দুপারের রক্ত সেতু বন্ধন তৈরী করবে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষার টানে দুই বাংলার হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় বেনাপোল চেকপোস্ট নোমান্সল্যান্ড এলাকায়। ভৌগোলিক সীমারেখা ভুলে কেবলমাত্র ভাষার টানে মঙ্গলবার সকালে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া উপেক্ষা করে দলে দলে মানুষ যোগ দেন ২১ শের মিলন মেলায়।আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি” এই স্লোগান নিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধায় মাথানত করতে বাংলাদেশের বাঙালিদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরাও। দুই বাংলার মানুষ, রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ীক ও সংস্কৃতিক দল এবং সরকারের প্রতিনিধিরাও বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বেনাপোল পৌরসভা ও বনগাঁ পৌরসভা এই মিলন মেলার আয়োজন করেন। নো-ম্যান্সল্যান্ডে নির্র্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রথম ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সীমানা পেরিয়ে শুন্যরেখায় পা রাখেন পশ্চিমবাংলার খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ব্রাতা বসু, লোকসভার সংসদ সদস্য শ্রীমতি মমতা ঠাকুর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি রহিমা মন্ডল, বিধানসভার বিধায়ক বিশ্বজিত দাস, বনগাঁ পৌরসভার পৌর প্রধান শংকর আঢ্যসহ ওদেশের রাজনীতিবিদ-কবি-শিল্পী-সাংবাদিক সাহিত্যিকদের একটি প্রতিনিধিদল। এপার থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক আব্দুল মজিদ, বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, যশোরের ডিসি হুমায়ুন কবীর, যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, বেনাপোল শুল্কভবনের কমিশনার শওকাত হোসেন, স্থলবন্দরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জলিল সহ রাজনীতিবিদ-কবি-শিল্পী-সাংবাদিক সাহিত্যিকরা ফুল দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠান সংগীত পরিবেশন করছেন স্বাধীনবাংলা বেতারের শিল্পী খুরশিদ আলম, রথীন্দ্রনাথ রায় ওপারের প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পী অর্পিতা চক্রবর্তী, অরুন্ধতী হোম চৌধুরী। বাংলাদেশের কবি আসাদ চৌধুরী, নাট্যকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও ভারতের কবি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যানকে সম্মিলিত সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশনের শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে সম্মিলিত সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশনের নব-নির্বাচিত কমিটি’র নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদে এ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি মেহেদী আলী সুজয়, সহ সভাপতি আব্দুর রহিম, সহ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পলাশ, কোষাধ্যক্ষ মাহাফিজুল ইসলাম আককাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান আজিজ, সদস্য আয়েজ বিল্লাহ শিমুল প্রমুখ।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের খোলা মঞ্চে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে সাংসদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ বেদীতে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করেছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবি আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। এতে শহীদ হয়েছিল রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা আরো অনেকে। সেই থেকে দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে আসছে বাঙালিরা। ভাষার দাবিতে বিশ্বের প্রথম কোনো জাতি জীবন দেওয়ায় ২১ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। ১৯৯৯ সালের ১৭নভেম্বর ইউনেস্কোর একটি সভায় ১৮৮টি রাষ্ট্রের সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী। তিনি আরো বলেন,একটি জাতির বিকশিত হওয়ার প্রধান অবলম্বন হলো তার মাতৃভাষা। যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে এ এক অনন্য ইতিহাস। মাতৃভাষার জন্য কোন জাতি জীবন দিয়েছে বিশ্বে আর কোন জাতি নেই। বাংলাদেশ সেদিক দিয়ে ইতিহাসে স্মরনীয় হয়ে আছে। এই বীর বাঙালী ছাড়া ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে বিশ্বে আর কোন জাতি আছে এমন নজির নেই’।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এন.এম মঈনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.এফ.এম এহতেশামূল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফারুক আহমেদ,  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অরুন কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল প্রমুখ। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আবু জাফর মো. আসিফ ইকবাল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান প্রমুখ। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক পতœী সেলিনা আফরোজ, জেলা পুলিশ সুপার পতœী মেহের নিগার আক্তার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পতœী সেলিনা সুলতানা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা ও পৌর কাউন্সিলর জ্যোৎনাসা আরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পতœী শাহনাজ বুলবুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পতœী রঞ্জনা মন্ডল, এনডিসি মো. আবু সাঈদসহ প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জেলা শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমী ও সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সচিব শেখ মোসফিকুর রহমান মিল্টন।

নবজীবনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

ভোর ৬টায় নবজীবন, নবজীবন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট,  নবজীবন ইনন্সটিটিউট, নবজীবন স্পন্সরশীপ প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবং নবজীবনের শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। পরে সকাল ১০টায়  নবজীবন ইনন্সটিটিউট প্রাঙ্গনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। নবজীবনের নির্বাহী পরিচালক তারেকুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, জেলা মহিলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবজীবনের সহ-সভাপতি জ্যোৎ¯œা আরা, জেলা সৈনিক লীগ আহবায়ক মাহমুদ আলী সুমন, নবজীবনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মেহেরুল আলম মনি, নবজীবন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ শেখ রফিকুল ইসলাম, নবজীবন ইনন্সটিটিউটের প্রধান শিক্ষক আ. হান্নান মোল্যা, কো-অর্ডিনেটর উম্মে সালেহা। আলোচণা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একুশে ফেব্রুয়ারী পালিত

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পাটকেলঘাটায় যথাযোগ্য মর্যদায়  বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, কালোব্যাচ ধারন ও দোয়া অনুষ্ঠান। প্রথম প্রহরে পাটকেলঘাটা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন তালা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পাটি, পাটকেলঘাটা নিউজক্লাব, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাব, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, পাটকেলঘাটা থানা, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ তালা উপজেলা শাখা, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ,সুরবিতান সংগীত নিকেতন, মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি সাতক্ষীরা, এদিকে সূর্য উঠার সাথে সাথে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন প্রভাত ফেরীতে র‌্যালী বের করে। সরুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সরুলিয়া ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কৃষকলীগের যৌথ উদ্যোগে র‌্যালি, পাটকেলঘাটা আমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাটকেলঘাটা হারণ-অর-রশীদ কলেজ, পাটকেলঘাটা আল-ফারুক প্রি-ক্যাডেট একাডেমী, সোনামনি কিন্ডার গার্ডেন, পাটকেলেশ্বরী শিশু বিদ্যাপীঠ, কুমিরা মহিলা কলেজ, কুমিরা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, কুমিরা বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খলিষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামকাটি বালিকা বিদ্যালয়, পৃথক পৃথক র‌্যালী বের করে। র‌্যালি পাটকেলঘাটা বাজার ও এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালী শেষে স্ব স্ব বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া উপজেলার ধানদিয়া, নগরঘাটা, কুমিরা, খলিষখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালিত হয়েছে।
পাটকেলঘাটা আমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়:
একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পাটকেলঘাটায় যথাযোগ্য মর্যদায়  বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। র‌্যালি শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক বাবলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন, সহকারী শিক্ষক মুজিবুর রহমান, আনন্দ কুমার পাল।
বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল:
তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যথাযোগ্য মর্যদায় বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মহান একুশে পালিত হয়েছে। সকালে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্কুলের সভাপতি স. ম. আক্তারুল আলম। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও প্রার্থনা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লায়লা পারভীন সেজুতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সহকারি প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান, সহকারি শিক্ষক নব কুমার ঢালী, নরেশ চন্দ্র সরকার, তপন রায়, তাপস রায়, খায়রুজ্জামান, আবুল কাশেম, উজ্জ্বল রায়, কৃষ্ণপদ সরকার, সুশান্ত মন্ডল, বিশ্বনাথ সরকার, স্বপন সরকার ও অঞ্জন মন্ডল প্রমুখ।
জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ:
একুশের প্রথম প্রহরে বিন¤্র শ্রদ্ধায় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য করা হয়। সংগঠণের জেলা সাধারণ সম্পাদিকা জোৎ¯œা আরা ও যুগ্ম সম্পাদিকা লায়লা পারভীন সেজুতির নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন কোহিনুর ইসলাম, সুলেখা দাস, মাহফুজা রুবি, গুলশানআরা, মালেকা পারভীন, সুফিয়া সুলতানা, মাহমুদা খানম, হেলেনা খানম প্রমুখ।
খেত মজুর সমিতি:
একুশের প্রথম প্রহরে বিন¤্র শ্রদ্ধায় খেত মজুর সমিতি সাতক্ষীরা ইসলামপুর শাখার পক্ষ থেকে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন খেত মজুর সমিতির নেতা আবুল হোসেন, ইয়ার আলী, জাহাঙ্গীর আলম, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল জলিল, সহিদ হাসান, তানভীর আহমেদ, সামছুর রহমান প্রমূখ।
পাটকেলঘাটা আল-আমিন মাদরাসা:
২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে পাটকেলঘাটা আলআমিন ফাজিল মাদরাসায় র‌্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উপাধ্যক্ষ আবুবক্কর সিদ্দীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক অধ্যক্ষ একেএম মোমতাজ উদ্দীন, সহকারী অধ্যাপক গোলাম ফারুক, প্রভাষক শাহীন আক্তার, গাউসুল আজম, শিক্ষক ফারুক হোসেন দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাও. জহুরুল ইসলাম।
পাটকেলঘাটা কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়:
পাটকেলঘাটার কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যথাযোগ্য মর্যদায় বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মহান একুশে পালিত হয়েছে। সকালে র‌্যালির উদ্বোধন করেন তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকৃতি কুমার রায় ও শিক্ষকদের নেতৃত্বে বিশাল র‌্যালি পাটকেলঘাটা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ে এসে মিলিত হয়। এরপর রচনা প্রতিযোগিতা আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক পরিমল কুমার রায়, আশীষ বসু, সহকারী শিক্ষক মফিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, নবকুমার পাইন, সজিবুদৌল্লা প্রমুখ।
দেবহাটা উপজেলা:


দেবহাটায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অমর ২১ফেব্রুয়ারী। ২১ফেব্রুয়ারী প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সংগঠন। রাত ১২:১ মিনিটে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদ প্রতি প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী অফিসার হাফিজ-আল-আসাদ। এসময় সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন-অর-রশীদের নেতৃত্বে এক দল চৌকস পুলিশ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খোকন সহ পরিষদের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়রম্যান মজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন ও দেবহাটা সদর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানায় দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু-বকর গাজী সহ সকল ইউপি সদস্যরা। এসময় সকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দেবহাটা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আব্দুল ওহাবের নেতৃত্বে সাংবাদিক রশীদুল আলম, মোমিনুর রহমান, মিজানুর রহমান, দিপঙ্কর বিশ্বাস, আজিজুল হক আরিফ ও দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান, সভাপতি খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব লিটু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং দেবহাটা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দেবহাটা উপজেলা বিএনপি, দেবহাটা উপজেলা যুবলীগ, উপজেলা  ছাত্রলীগ, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগ, শ্রমিকলীগ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া সকাল ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দেবীশহর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়:
দেবীশহর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষিকা অনিমা সিংহ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনোরঞ্জন মুখার্জী (মনি বাবু), বিশেষ অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোজাম্মেল হক, নুরালী খাঁন, আব্দুস সামাদ, আবুল হোসেন, আমির আলী গাজী, আজগর আলী, রবীন ব্যানার্জী, মন্টু, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অহিদুজ্জামান। শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুকুমার ঘোষ, বিলকিছ বানু, সঞ্জয় হালদার, শমিত বসাক, জয়দেব সরকার, আজিবর রহমান, উত্তম সরকার, তাপস সরদার, গীতা বিশ্বাস, আব্দুস সামাদ ও সীমা স্বর্ণকার। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক মোহাম্মাদ লুৎফর রহমান।
ব্রহ্মরাজপুর ডিবি গার্লস হাইস্কুল:
২১ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ডি. বি. গার্লস হাইস্কুলে শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন, র‌্যালি, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমাদুল ইসলাম দুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্কুলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছোবহান। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের অভিভাবক সদস্য নজরউদ্দিন সরদার, আব্দুল হামিদ বাবু, শিক্ষক প্রতিনিধি নজিবুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম, ভানুবতী সরকার, সহকারি প্রধান শিক্ষক অনুজিৎ কুমার মন্ডল, সহকারি শিক্ষক এসএম শহীদুল ইসলাম, দেবব্রত ঘোষ, গীতা রানী সাহা, খালেদা খাতুন, শামীমা আক্তার, অরুন কুমার মন্ডল, মৃনাল কুমার বিশ্বাস প্রমুখ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখে সুমাইয়া সুলতানা আখি, সুমাইয়া সুলতানা আশা, সুমাইয়া খাতুন, শিমলা বিশ্বাস, জাকিয়া সুলতানা প্রমুখ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শিক্ষক নজিবুল ইসলাম।
শাখরা কোমরপুর এজিমাধ্যমিক বিদ্যালয়:
২১ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্য দিয়ে  শাখরা কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় বিদ্যালয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, নিরবতা পালন, মাতৃভাষা  দিবসের আলোচনা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজি আবদুল গফুর, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ শরিফ ইকবাল, লুৎফর রহমান, সাংবাদিক আসাদুল হক সহ সকল ছাত্র ছাত্রী শিক্ষকবৃন্দ।
আনুলিয়া ইউনিয়ন:
আশাশুনির আনুলিয়ায় বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, শিক্ষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও সাধারণ জনগণ মিলে একটি শোক র‌্যালি বের করে। র‌্যালিটি বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এবং পুনরায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। এরপর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন।
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়:
দেবহাটার সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পমালা অর্পণ, র‌্যালী, আলোচনা সভা, কবিতা ও রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ তহিরুজ্জামানের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়েল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোনাজাত আলী, ইউপি সদস্য জগন্নাথ মন্ডল, নির্মল কুমার মন্ডল, আলফাতুন নেছা, মনিরুল ইসলাম, দক্ষিণ সখিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক খায়রুল ইসলাম প্রমূখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন শিক্ষক প্রদীপ কুমার।
খলিষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়:
মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে তালার খলিষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি র‌্যালী স্কুল হতে খলিষখালী বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‌্যালীটি বিদ্যালয়ে যেয়ে শেষ হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর সবুর, মো. কওসার আলী সরদার, ফারুক হোসেন, রবীন সহ আরো অনেকে।
খলিষখালী এসএটিসি কলেজ:
মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রিন্সিপাল আক্তারুজ্জামান এসএটিসি কলেজে র‌্যালী বের হয়। এ সময় র‌্যালীটি খলিষখালী বাজার ঘুরে হরিতলা মোড় হয়ে আবার কলেজে যেয়ে শেষ হয়। এ সময় একুশের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ এমএম আসাদুজ্জামান, প্রভাষক বিকাশ কুমার পাল, প্রভাষক মুজিবর রহমান, প্রভাষক কালিপদ দাশ, প্রভাষক কমালিশীষ ঘোস, প্রভাষক বিষ্ণু পদ হোড় ও বিপ্লব মুখার্জী চাদু।
দলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়:
দলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে র‌্যালী স্কুল হতে বের হয়ে দলুয়া বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার স্কুলে এসে শেষ হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দ মোহন হালদার, সভাপতি ফনিভূষন বাছাড় ও শিক্ষক শেখ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
খলিষখালী ২১ উদ্যাপন কমিটি:
অমর ২১ আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস উপলক্ষে খলিষখালী ২১ উৎযাপন কমিটি সকাল ৭টায় নতুন মাঠ হইতে একটি র‌্যালী বের হয়ে র‌্যালীটি খলিষখালী বাজার হয়ে হরিতলা মোড় ঘুরে আবার মাঠে এসে শেষ হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাবলা সরদার সহ নেতৃবৃন্দ। এদিকে ২১ উদ্যাপন উপলক্ষে খলিষখালী নতুন মাঠে ৩দিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষামূলক রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
খলিষখালী আবুল হাসিম স্মৃতি পাঠাগার:
খলিষখালী আবুল হাসিম স্মৃতি পাঠাগারের পক্ষ থেকে দিন ব্যাপী ব্লাড গ্রুপিং ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে পাঠাগারের সভাপতি অধ্যপক সাবীর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সুনিল দে, প্রভাষক সুভাশীষ পাল, প্রবীর কুমার মল্লিক সহ আরো অনেকে। এসময় আবুল হাসিম পাঠা গারের ব্লাড ব্যাংকের সর্বোচ্চ রক্তদাতা আলমগীর হোসেন জনি, রাজীব পাল, ইয়াছিন মোল্ল্যাকে এবং রচনা প্রতিযোগিতায় রতন সরকার, অর্পিতা মন্ডল, সুমাইয়া খাতুন, সেজান সরদার ও সোনালীকে পুরুষ্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সরদার কামরুল ইসলাম।
আশাশুনি উপজেলা:
আশাশুনিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’১৭ পালিত হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১২.০১ মিনিটে আশাশুনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পনের মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সুচনা করা হয়। পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করেন উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন এর পক্ষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষমা সুলতানা সহ বিভিন্ন অফিস প্রধানগণ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আশাশুনি থানা, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি নেতৃত্বে ও সম্পাদকের নেতৃত্বে আ’লীগ ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠন পৃথক পৃথক ভাবে, আশাশুনি প্রেসক্লাব, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, আশাশুনি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, সদর ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদের পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, আশাশুনি সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, আশাশুনি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ফ্রেন্ডস্ স্পোর্টিং ক্লাব সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন, সকাল ৭টায় বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীবৃন্দ, স্কুল, কলেজ সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের অংশ গ্রহনে বর্ণাঢ্য প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় শহীদ পাদদেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহনে কবিতা, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় মুক্তিযোদ্ধা র্কালয়ের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাংলাদেশ দুর্নীতি কমিশনের উদ্যোগে, যশোর কেশবপুরের সততা নাট্যগোষ্টির পরিচালনায় ও পরিবেশনায় দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক নাটক ‘বিশের বিষ’ পরিবেশিত এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। ইউএনও সুষমা সুলতানার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বালাদেশ দুর্নীতি কমিশন, খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপ-সহকারি পরিচালক ফয়সাল কাদের, আশাশুনি সরকারি কলেজের অফিসার ইনচার্জ আল. রুহুল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হান্নান, অধ্যক্ষ চিত্ত রঞ্জন ঘোষ। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযোগ্যতায় ও বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে পালিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতাপনগ ইউনিয়ন:
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনাইটেড একাডেমী প্রতাপনগর বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক জয়দেব কুমার দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতাপনগর ইউনিয়ন চেয়াম্যান ও অত্র ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি শেখ জাকির হোসেন। শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ সহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করা হয়। অন্যদিকে এপিএস ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন আনুলিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন। পবিত্র কুরআন তেলোওয়াত, শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, প্রভাত ফেরী, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, মাতৃভাষা দিবসের উপর আলোচনা।
কল্যাণপুর এম.এইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়:
কল্যাণপুর এম.এইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মচারদের অংশগ্রহণে প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হায়দার (পলাশ) এর সভাপতিত্বে  মাষ্টার রিয়াছাত আলী মানুর পরিচালনায় প্রধান অতিথি আশাশুনি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সাবেক প্রধান শিক্ষক মুনসুর আহমেদ। অনুষ্ঠানমালায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্রভাত ফেরী, শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়।
ফিংড়ী ইউনিয়ন:
সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ী ইউনয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সংগঠনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রভাতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‌্যালি, শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, জাতীয় সংগীত, আলোচনা সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
ঘোনা ইউনিয়ন:
সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাত ১২টা এক মিনিটে ঘোনা ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন পূর্বক এক আলোচানা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার রহিল উদ্দীনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবুবকর ছিদ্দিক, ইউনিয়ন যুবলীগের সম্পাদক আলমগীর ঢালী, সাবেক ছাত্রনেতা কামাল হোসেন, রাজিব হায়দার, মেম্বর ভৈরব ঘোষ প্রমুখ।
আয়েনউদ্দীন মহিলা মাদ্রাসা:
সাতক্ষীরা আয়েনউদ্দীন মহিলা আলিম মদ্রাসায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ উপলক্ষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গান, ইসলামী সঙ্গীত ও কুরআন পাঠ করা হয়। মাওলানা সাখাওয়াতউল্যাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাও. মনিরুজ্জামান, প্রভাষক রেজাউল কারিম সহ শিক্ষক শিক্ষিকরা বক্তব্য রাখেন। বক্তরা ভাষা দিবষের গুরুত্ব তুলে ধরে সমাজের সকল স্তরে বাঙলা ভাষা প্রচলনের দাবী জানান। আলোচনা শেষে মোনাজাত করেন মাওলানা নুরউদ্দীন।
কপিলমুনি:
কপিলমুনিতে সম্মিলিত একুশ উদ্যাপন কমিটি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপন করেছে। সম্মিলিত বিজয় দিবস উদ্যাপন কমিটির নেতৃত্বে একুশের প্রথম প্রহরে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির স্কুল এন্ড কলেজের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কপিলমুনি কলেজ, কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল এন্ড কলেজ, মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জাফর আউলিয়া ডিগ্রী মাদ্রাসা, কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাব, কপিলমুনি ক্রিড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কেকেএসপি), গুণীজন স্মৃতি সংসদ, কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বণিক সমিতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ অঙ্গদল কপিলমুনি শাখা, জাতীয়তাবাদীদল (বিএনপি) হরিঢালী ও কপিলমুনি ইউনিয়ন শাখা, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কপিলমুনি শাখা, ছাত্রদল হরিঢালী ও কপিলমুনি শাখা, কৃষকলীগের কপিলমুনি ইউনিয়ন শাখা, ওয়ার্কাসপার্টি কপিলমুনি শাখা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কপিলমুনি শাখা, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতি, বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতি, বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ কপিলমুনি শাখা, কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ী, চাল ব্যবসায়ী সমিতি, কস্মেটিকস্ সমিতি, স্বর্ণ কারিগির সমিতি। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সকাল ৮টায় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির মাঠ থেকে সম্মিলিত র‌্যালী, সাড়ে ৮ টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ হরেকৃষ্ণ দাশ, বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ ত্রিদিব কান্তি মন্ডল, প্রধান শিক্ষিকা রহিমা আখতার শম্পা, অধ্যাপক রেজাউল করিম, শিক্ষক কবির আহম্মেদ, মিজানুর রহমান প্রমুখ। এদিকে হরিঢালী-কপিলমুনি মহিলা কলেজের উদ্যোগে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৬ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সাড়ে ৬ টায় কালো ব্যাজ ধারণ ও ৭ টায় প্রভাতফেরী অনুষ্ঠিত হয়।
কপিলমুনি বিএনপি:
একুশে প্রথম প্রহরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কপিলমুনি ও হরিঢালী ইউনিয়ন শাখা পাইকগাছা থানা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহবায়ক শাহাদাৎ হোসেন ডাবলু (সাবেক চেয়ারম্যান) এর নেতৃত্বে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন শেখ ইমামুল ইসলাম, শেখ আনোয়ারুল ইসলাম, সরদার তোফাজ্জেল হোসেন, আব্দুল্লাহ গাজী, কাশেম জোয়াদ্দার, মজিদ গাজী, দিদার হোসেন, কামাল গাজী, মোহাম্মদ গাজী, শহিদুল বিশ্বাস, রবিউল সরদার, আকার বিশ্বাস, শেখ শাকিল, হাবিবুর রহমান, ওয়াহিদ শেখ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাসুদ রানা, নজরুল জোয়াদ্দার, রিপন, টকু সরদার, সাদ্দাম গাজী, আলী হোসেন, ডাবলু হোসেন প্রমূখ ।
সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি:
সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে অমর একুশের শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম, সংগঠনের সদস্য সচিব এস. কে কামরুল হাসান, কার্যকরী সদস্য আব্দুর রেজা বাবু, মনিরুজ্জামান মনি, জিয়াউর রহমান জিয়া, আবুল কাশেম, গোলাম রসুল, মাজহারুল ইসলাম, রাইসুল আসাদ, রিয়াজুল ইসলাম, অমল বিশ্বাস, হাসন রেজা, দেবব্রত মন্ডল, শেখ আরিফ হোসেন আকাশ, সুরাইয়া ইয়াসমিন আশা সহ সংগঠনের থানা ও জেলা পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ।
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে বিনামূল্যে খৎনা ক্যাম্প:
একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল সাতক্ষীরা লিমিটেডের উদ্যোগে গরীব, অসহায়, দুস্থ শিশুদের বিনামূল্যে সুন্নতে খৎনা ক্যাম্প’২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল সাতক্ষীরা চত্বর এ ‘খৎনা ক্যাম্পে’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হামিদুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খালিদুর রহমান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এর শিশু সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আবু সাইদ (শুভ), ও সদর হাপাতালের সার্জারী কনসালটেন্ট ডা. মো. হাসানুজ্জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. অনোয়ারুল হুসাইন, মার্কেটিং অফিসার আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
কদমতলা রিপোর্টার্স ক্লাব:
সদর উপজেলা কদমতলা রিপোর্টার্স ক্লাবে মহান আন্তজাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। রাত ১২ টা ১মিনিটে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও মঙ্গলবার সকালে ক্লাব কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বেলা ১১টায় কুরআন তেলায়াত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ক্লাবের সভাপতি মো. মেহেদী হাসানের  সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সদরুল হাসান, সহ সাধারণ সম্পাদক শেখ মিজানুর রহমান, মো. হাসানউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শাহাজান আলি। উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের অর্থ সম্পাদক মো. রফিকুল আলম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি সম্পাদক আ. রাজ্জাক, দপ্তর সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, সদস্য আশিকুর রহমান, গোলাম মোস্তফা সহ ক্লাবের সকল সদস্য।
ধুলিহর ও ব্রহ্মরাজপুর:
সদর উপজেলার ধুলিহর ও ব্রহ্মরাজপুর একাধিক প্রতিষ্ঠানে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। জাহানাবাজ খাদিজাতুল কোবরা কমপ্লেক্স মাদ্রাসা, ধুলিহর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধুলিহর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডিবি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ব্রহ্মরাজপুর ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, নুনগোলা আলমদিনা দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালিত হয়।
বাগআঁচড়া (যশোর):
বাগআঁচড়ায় অমর একুশে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাগআঁচড়া, কায়বা ও শংকরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পন, দোয়া অনুষ্ঠান প্রভাত ফেরী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাগআঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুলের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌস, কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু, সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ, প্রাথমকি বিদ্যালয়, কুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, শংকরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বকুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমরী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুর সঙ্গীত একাডেমি ও প্রজন্ম ৭১সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করে।

ভাষা আন্দোলনে সাতক্ষীরা ছাত্র সমাজের অবদান

আব্দুল ওয়ারেশ খান চৌধুরী
ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে আমাদের জাতীয় জীবনের এক অতিগুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটা ছিল পূর্ববঙ্গবাসীদের প্রথম  স্বাধিকার আন্দোলন। এই ভাষা আন্দোলনের সিড়ি বেয়েই ৬৬’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র এর গণআন্দোলন এবং সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দিয়ে বাংলাদেশ একটা স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ইতিহাসের ধারায় তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম।
ভাষা আন্দোলন মুলত: দুটি পর্বে বিভক্ত আটচল্লিশ এবং ৫২। আট চল্লিশকে বলা হয় ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্ব বায়ান্নোর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছাতে যার অবদান ছিল খুবই বেশী। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত কর্তৃক আনীত সংশোধনী প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করে পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে ‘উর্দুই হবে পুর্ব বাংলার একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারী স্বত:স্ফূর্তভাবে ঢাকায় ছাত্রধর্মঘাট পালিত হয়। ১১ মার্চ সারা পুর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘাটের আহবান জানানো হয়।
দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ফজলুল হক হলে পুর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের কর্মী সম্মেলনে এর ১৪ সদস্য বিশিষ্ট যে সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয় তার একজন ছিলেন এ অঞ্চলের বাগেরহাটের শেখ আ. আজিজ। দেশের পাক সরকার বিরোধী প্রথম ছাত্র সংগঠন এ পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ পরে (শুধু ছাত্রলীগ) যারা জাতীয় পর্যায়ে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশ বিভাগের পর দক্ষিণের অনুন্নত পশ্চাদপদ মহকুমা তখন সাতক্ষীরা। তবু এখানকার সচেতন মানুষ জেগে উঠেছিলেন ঢাকার সাথে সঙ্গতি রেখে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে। এ সময় ভাষা আন্দোলনের পক্ষে সাতক্ষীরার মানুষকে জাগ্রত করে জাতীয় চেতনার সাথে সম্পৃত্ত করা এবং এখানে আন্দোলনের মুল¯্রােত নির্মাণ করার কাজটি করেছিলেন সুশোভন আনোয়ার আলী। মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর রাজনৈতিক চেতনার অনুসারী এবং আত্মীয় ছিলেন রহিম বকস। তিনি কৃষক প্রজাপার্টির সমর্থক, ১৯৪৮ সালে রহিম বকসের পুত্র শামসুল হক (২), সাতক্ষীরা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক ২য় বর্ষের ছাত্র। পিতার অনুপ্রেরণায় ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন তিনি। ৪৮ সালে ঐতিহাসিক সামসুল হক (২) তার সহপাঠি তারাপদ রায় চৌধুরীকে নিয়ে একাদশ প্রথম বর্ষের শ্রেণি কক্ষে যান এবং ছাত্র ছাত্রীদের ভাষা আন্দোলনের অংশ নিতে আহবান জানান। তখন শ্রেণি কক্ষে উপস্থিত শিক্ষক রাখাল দাস হালদার ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের বড় ভাইয়েরা এসেছে। তারা ঢাকার ডাকে সাড়া দিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। আমাদের উচিত এই ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়া, তবে অংশনেবে কিনা সেটা তোমাদের ব্যাপার। একথা বলার পর ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী ক্লাস ত্যাগ করে বেরিয়ে আসেন এবং শাসকগোষ্ঠির বিরুদ্ধে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে একটা মিটিং করেন। কোন মিছিল করা হয়নি। তখন সাতক্ষীরার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলতে কৃষক প্রজাপার্টির এনায়েত উল্লাহ ও তোফাজ উদ্দীন আহমেদ, মুসলিম লীগের বারি খান ও তোফাজ খান।
সেদিন এমন ধারনা সাতক্ষীরাতেও ছড়ানো হয়েছিল যে, মুসলিমলীগের বিরুদ্ধে যে কথা বলবে সে ভারতের দালাল সে পথভ্রষ্ট পাপী। মুসলিমলীগের বিরুদ্ধে কথা বলা পাপ করারই সমান।

21 fev

শামসুল হক উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চতর শিক্ষার জন্যে ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন। ১৯৫০ এর দিকে জোরালোভাবে আন্দোলনের কাজ শুরু করেন সুশোভন আনোয়ার আলী। সৈয়দ জালাল উদ্দীন হাশেমীর পুত্র সৈয়দ কামাল বখত ছাকী খূলনা বিএল কলেজের ছাত্র তখন, সুশোভন আনোয়ার আলী, সৈয়দ কামাল বখত ছাকী, পাইকগাছার আ. গফুর এর নেতৃত্বে সাতক্ষীরা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে বৃহদাকার একটা মিছিল করা হয়। মিছিল শেষে পলাশপোল গুড় পুকুরের পাশে বটতলায় মিটিং করা হয়। তখন সাতক্ষীরার সকল জনসভা, রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হতো এই বট তলায়। মিটিং ও মিছেলে অংশ নিয়েছিলেন অনেকের মধ্যে রসুলপুরের গোলেরা বেগম ও সুলতানা চৌধুরী। এরা দুজনেই তখন স্কুল ছাত্রী ছিলেন। এই মিছিল ও মিটিংয়ের কিছু দিন পর গ্রেপ্তার হন সুশোভন আনোয়ার আলী। ১৯৫২’র ২২ এপ্রিল ঢাকায় মিছিল থেকে গ্রেপ্তার হন শামসুর হক (২)। শেখ আমানুল্লাহ যশোরে পড়তেন। তিনি ওখানকার নেতৃস্থানীয় ছাত্র নেতা ছিলেন। সাতক্ষীরায় আরো এক জন ছাত্র গ্রেপ্তার হন বাগের হাট থেকে। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মিছিলে গুলি হলে বাগেরহাটে পি সি কলেজের ছাত্র এম. মুনছুর আলী (পরে মন্ত্রী) এক জনসভায় বক্তিতার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর একটা প্রসঙ্গের পর কিঞ্চিৎ আলোচনা না করলে ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গ অসম্পন্ন রয়ে যায়। এই সময় সাতক্ষীরার জন সাধারণকে বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এক ধরনের জাগরণী গান রচনা করে গলায় হারমনিয়াম ঝুলিয়ে তার গান রাস্থায় রাস্থায় গেয়ে বেড়ানো হতো। এ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সুশোভন আনোয়ার আলী। তার সাথে ছিলেন খোকন সহ আরো অনেকে। এল্লারচর স্টীমার ঘাট নৌ টার্মিনাল তখন সাতক্ষীরা থেকে খুলনা বা ঢাকায় যাওয়ার এক মাত্র পথই ছিলো ওটাই।

কলারোয়ার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৫ বছরেরও গড়ে ওঠেনি শহিদ মিনার

শেখ জিলুø
মহান ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছরেও কলারোয়ায় অনেক বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় গড়ে ওঠেনি শহিদ মিনার। এছাড়া উপজেলার কোনো মাদ্রাসায় নেই একটিও শহিদ মিনার। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নের কোথাও আজও স্থাপন করা হয়নি  শহিদ মিনার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলারোয়া পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে শহিদ মিনার রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে কলারোয়া ফুটবল ময়দানে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, কলারোয়া সরকারি কলেজের শহিদ মিনার ও শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের শহিদ মিনার-এই ৩টি পৌর সদরের। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্মিত শহিদ মিনারগুলো হলো হেলাতলা ইউনিয়নের দমদম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেলাতলা আইডিয়াল হাইস্কুল ও ঝাঁপাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়নগর ইউনিয়নের সরসকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জয়নগর বদরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় ও ধানদিয়া হাইস্কুল, দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো হাইস্কুল, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের পানিকাউরিয়া হাইস্কুল, কেরালকাতা ইউনিয়নের কাজীরহাট হাইস্কুল ও কেকেইপি হাইস্কুল, চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া বাজার, চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজ, বয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চান্দুড়িয়া কেসিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের কেএল হাইস্কুল প্রাঙ্গণ। উপজেলার কয়লা, জালালাবাদ ও যুগিখালি ইউনিয়নে কোনো শহিদ মিনার নেই বলে জানা গেছে। এমনকি গত ৬৫ বছরে ওই তিন ইউনিয়নে শহিদ মিনার স্থাপনের তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও শোনা যায়নি। কয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল রোববার বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদ্যালয় চত্বরে একটি শহিদ মিনার নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এখানে প্রতি বছর বাঁশের তৈরি শহিদ মিনারে ভাষা শহিদ প্রতি পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হয় বলে প্রধান শিক্ষক জানান। শহিদ মিনার বিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেধরনের উদ্যোগও দেখা যায়না। ইতোমধ্যে কলারোয়া বিবিআরএনএস মাদ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে একটি শহিদ মিার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও তা এখনো পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। সূত্র জানায়, উপজেলায় ৩৪টি এমপিওভূক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। যার মধ্যে সিনিয়র মাদ্রাসার সংখ্যা ৫টি। এসব মাদ্রাসার কোথাও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়নি একটিও শহিদ মিনার। তবে হতাশার বিষয় হলো, উপজেলার ১২টি বেসরকারি কলেজের মধ্যে ৯টি কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মাণ করা হয়নি শহিদ মিনার। কলারোয়া সরকারি কলেজ, শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজ ও চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজ ক্যাম্পাসে শহিদ মিনার রয়েছে। এমআর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান নিজ অর্থায়নে বিগত কয়েক বছরে কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া হাইস্কুল, হেলাতলা হাইস্কুল, কেকেইপি হাইস্কুল, চন্দনপুর কলেজ ক্যাম্পাসে শহিদ মিনার তৈরি করে দিয়েছেন। এছাড়া কলারোয়া ফুটবল মযদানে ‘স্বাধীনতা’ স্তম্ভ¢ ও শহিদ মিনার তাঁরই অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়, যা সবার জানা। এ প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী কলেজে এসে ক্যাম্পাসে শহিদ মিনার দেখছে না। এদের অনেকেই তাদের স্কুল প্রাঙ্গণে শহিদ মিনার দেখে এসেছে। শহিদ মিনার বিহীন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভাষা শহিদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে পারে না। বেসরকারি কলেজের চেয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কেননা, উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার রয়েছে। অপরদিকে উপজেলার ১২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কেবলমাত্র শহিদ মিনার রয়েছে রঘুনাথপুর, ঝাঁপাঘাট ও বয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সাতক্ষীরা জেলার ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব ভাষা সৈনিক প্রয়াত আলহাজ্ব শেখ আমানুল্লাহ তাঁর জীবদ্দশায় অনেক অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার গড়ে তোলার কথা বলতেন। তিনি প্রয়াত হয়েছেন ২ বছর। কিন্তু তাঁর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে প্রয়াত এই ভাষা সৈনিকের প্রতি আমরা প্রকৃত শ্রদ্ধা দেখাতে পারি। এজন্য প্রয়োজন উদ্যোগ ও সমণি¦ত প্রয়াস। সব মিলিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনা ছড়িয়ে দিতে ও নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম-ভাষাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা করা দরকার শহিদ মিনার-এমনটি মনে করেন ভাষাপ্রেমি মানুষ।

শহীদ মিনার: স্মৃতির প্রতীক

মো. আবদুর রহমান
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা বাংলাকে সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠার জন্য বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি রক্তের অক্ষরে রচিত হয়েছিল এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। বায়ান্ন সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ এই দীপ্ত শ্লোগানে জেগে উঠেছিল দেশের মানুষ, সর্বস্তরের জনগণ। তৎকালিন পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে সাহসী ছাত্র-জনতার মিলিত সংগ্রাম-আন্দোলন এবং বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ স্বৈরাচারী কায়দায় অমানবিক গুলি বর্ষণ করে। ঐ তপ্ত বুলেটে শহীদ হন রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম, সফিউরসহ আরও অনেক তরুণ। রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষা বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা।
এই সব ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থেই নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীর সৈনিকদের স্মৃতির প্রতীক শহীদ মিনার। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে ধারণ করে শহীদ মিনার দাঁড়িয়ে আছে আপন মহিমায়। তবে শহীদ মিনার এ অবস্থায় আসতে বেশ সময় লেগেছে। বাংলাভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের স্বীকৃতির স্মারক শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় আছে নানা চাড়াই-উৎরাই। শহীদদের স্মৃতিচিহৃ শহীদ মিনার নির্মাণের রয়েছে এক অসাধারন গল্পঁগাথা।
ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি অক্লান্ত পরিশ্রম করে ছাত্রজনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করেন। একাজে অংশ নেয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের তিনশ’ ছাত্র ও দু’জন রাজমিস্ত্রি। প্রথম শহীদ মিনারটির নকশা তৈরি করেছিলেন বদরুল আলম এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাঈদ হায়দার। নকশায় শহীদ মিনারের উচ্চতা নয় ফুট থাকলেও তৈরির পর এটির উচ্চতা হয় এগারো ফুট। শহীদ শফিউরের বাবা ২৪ ফেব্রুয়ারি, আর ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ‘দৈনিক আজাদ সম্পাদক’ আবুল কালাম শামসুদ্দিন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। কিন্তু তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী এটা মেনে নিতে পারেনি। তাই উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এ শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলে। তবে বাঙালির হৃদয় থেকে তারা এ মিনারের স্মৃতি মুছে দিতে পারেনি। কবি আলাউদ্দিন আল আজাদের ভাষায়- “ ইটের মিনার ভেঙেছে ভাঙুক/একটি মিনার গড়েছি আমরা চার-কোটি পরিবার।”
১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত উক্ত স্থানেই কালো কাপড় ঘেরা দিয়ে শহীদ দিবস পালন করা হতো। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার পূর্ব পাকিস্তানে সরকার গঠন করার পর ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার জন্য শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তারই ধারাবাহিকতায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও তৎকালীন মওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত দল আওয়ামী লীগের উদ্যোগে যুক্তফ্রন্ট সরকার কর্তৃক ১৯৬৫ সালে সারা পূর্ব-পাকিস্তানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি  পালিত হয়, যার মাধ্যমে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জোরালো হয়।
১৯৫৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আবু হোসেন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জন্য মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে স্থান নির্বাচিত হয়। তৎকালীন পূর্ত সচিব আবদুস সালাম খান ‘শহীদ মিনারের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থান নির্বাচিত করেন এবং তার মাধ্যমে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা ছিল, তবে উপস্থিত জনতার প্রবল আপত্তির মুখে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ রিকশাচালক আওয়ালের ৬বছরের মেয়ে বসিরণকে দিয়ে স্মৃতিসৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়, সেই মিনার বানানো সম্পন্ন হয়নি।
নাট্যব্যক্তিত্ব সাঈদ আহমেদের ভাই বিখ্যাত স্থপতি হামিদুর রহমান স্বর্নোজ্জ্বল ইতিহাসের বীর শহীদদের স্মৃতি পবিত্র শহীদ মিনারের নকশা তৈরি করেন ১৯৫৬ সালে। তারপর ১৯৫৭ সালের নভেম্বরে হামিদুর রহমানের নকশা অনুসারে, তিনি ও ভাস্কর নভেরা আহমেদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ‘দুইপাশে দুই সন্তানকে নিয়ে মা দন্ডায়মান’।
১৯৬০ সালে সামরিক সরকার ক্ষমতায় বসে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। ১৯৬৩ সালে কাজ মোটামুটিভাবে সম্পন্ন হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে। ১৯৬৩ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি এ অসমাপ্ত শহীদ মিনারটি পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, জনতার উপস্থিতিতে ভাষা শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম উদ্বোধন করেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শহীদ মিনারটি ধ্বংস করে দেয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন হলে ১৯৭২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আবার শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করে দেয়। খুব দ্রুত নির্মাণের জন্য হামিদুর রহমানের তৈরি মূল নকশাকে পুরোপুরি অনুসরণ না করে শহীদ মিনারের বেদি ও মূল কাঠামো নির্মাণ করা হয়। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা যে ম্যুরালগুলো ধ্বংস করেছিল তা আর তৈরি করা হয়নি। মূল পরিকল্পনায় থাকা জাদুঘর, লাইব্রেরি ও অন্য অংশগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে স্থাপনা থেকে। ১৯৮৩ সালে শহীদ মিনারের আরও কিছু অংশ নির্মাণের পর বর্তমান রূপ লাভ করে। বর্তমান শহীদ মিনারে তিনস্তর বেদির ওপর মাঝখানে ঈষৎ অবনত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বড় একটি স্তম্ভ। দুই পাশে দুটি করে  মোট চারটি স্তম্ভ রয়েছে। মাঝখানের বড় স্তম্ভটি মায়ের প্রতীক, আর ছোট স্তম্ভগুলো সন্তানের প্রতীক। প্রথম দৃষ্টিতেই ধরা দেয়, গৌরবময় রক্তঝরা ইতিহাসের সেই ‘শহীদবীরের স্মৃতিতে’ আজও মাথা নুইয়ে কথা কয় শহীদ স্মৃতি। মাথা নুইয়ে আছে দেশমাতা তার সন্তানদের প্রতি! যারা তাদের বুকের রক্ত ঢেলে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে এ শহীদ মিনারের আদলেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনার  নির্মাণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে শহীদ মিনারের  সঠিক সংখ্যা কত এ তথ্য জানা যায়নি। তবে একটি সূত্রে জানা যায়, ‘দেশের প্রতি ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তত আটটিতেই শহীদ মিনার দেখা যায়।’ আর সরকারি হিসাবে দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে ২ লাখ ৮২ হাজার ৮০৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, থানা ও ইউনিয়নের মিলিত সংখ্যা ৫ হাজার ৯৪৭ টি। এসবের ৮০ শতাংশেরও বেশিতে যদিও শহীদ মিনার স্থাপিত আছে। এই হিসেবে বাংলাদেশে শহীদ মিনারের আনুমানিক সংখ্যা ২ লাখেরও বেশি। দেশের পাড়া-মহল্লার ক্লাবগুলোর সামনেও শহীদ মিনার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একুশের প্রভাতে দেশব্যাপী ছাত্র-তরুণেরা আবেগ ও ভালোবাসায় ঢেলে ইট বা কলা গাছ দিয়ে ক্ষণিকের জন্য হাজার হাজার শহীদ মিনার তৈরি করে।
আমাদের জীবনে যা কিছু সুন্দর, যা কিছু শুভ তার সঙ্গে শহীদ মিনারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এটি শুধু একটি মিনার নয়, এটি আমাদের প্রেরণার প্রতীক। শুধু ভাষা আন্দোলন নয়, মুক্তিযুদ্ধেও  শহীদ মিনার আমাদের প্রেরণা যুগিয়েছে। আমাদের যুদ্ধজয়ের অন্যতম প্রেরণা একুশে ফেব্রুয়ারি। আমরা যখনই অন্যায়ের শিকার হই; তখনই শহীদ মিনার তার প্রতিবাদ করার জন্য আমাদের প্রেরণা জোগায়।
আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে শহীদ মিনারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশে যখনই কোনো অন্যায় সংঘটিত হয়, তখনই শহীদ মিনারের সামনে থেকে তার প্রতিবাদ করা হয়। বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি কোনো জাতীয় বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর পর তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে রাখা হয়।
শহীদ মিনার আমাদের প্রেরণার উৎস। আমরা শহীদ মিনারের দিকে তাকিয়ে আমাদের সমৃদ্ধ অতীতের কথা ভাবি। আর বর্তমান প্রজন্মের কাছে গর্ব করে সে কথাগুলো বলি। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেয়েছে। ভাষার জন্য আমাদের আত্মদানের ইতিহাস ছড়িয়ে গেছে বিশ্বব্যাপী। শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বাঙালির সঙ্গে  সঙ্গে গোটা পৃথিবীর মানুষ আজ শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
আমাদের ভাষা আন্দোলনের একটি বিশেষ তাৎপর্য আছে। সেটা হচ্ছে এ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ খুঁজে পেয়েছি। এটা ছিল সকল আন্দোলনের সোপান স্বরূপ। একুশ নিয়ে প্রথম গান রচনা করেছিলেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। এর প্রথম চরণ ‘ আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’ একুশের প্রথম নাটক ‘ কবর’ মুনীর চৌধুরী রচনা করেন ১৯৫৩ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে। মূলত: একুশ আমাদের স্বাধীনতার পথ প্রদর্শক, প্রেরণার উৎস। একুশের প্রেরণাকে সামনে রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। লেখক: উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা

ভাষা আন্দোলন এবং একুশে ফ্রেব্র“য়ারী বাঙালি জাগরণ

প্রকাশ ঘোষ বিধান
বাঙালী জাতির ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন ২১ ফেব্র“য়ারি। আজ থেকে ৬৪বছর আগের ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারী। এই দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। আমাদের বাংলা ভাষার অধিকার খুব সহজে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাঙালী জাতি তার বুকের রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার ফিরে পেয়েছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা কি হবে তাই নিয়ে বেশ তর্ক বিতর্ক জমে ওঠে। এর মধ্যে ১৯৪২ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ। এর সভাপতি নির্বাচিত হন ডা. সৈয়দ সাজ্জাত হোসায়েন এবং একই বছর কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত পূর্ব হয় পাকিস্তান রেনেসা সোসাইটি। পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকে বাংলা ও সাহিত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যায়। উল্লেখ্য এই সেই সাজ্জাত হোসায়েন মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছুদিন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। এ সময় তিনি বাঙালী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ৩৭ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মকর্তার নামের একটি তালিকা তৈরী করে ঢাকার সামরিক সদর দপ্তর প্রেরণ করে মৃত্যুদন্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির সুপারিশ করেন। ১৯৪৭ সালের ১৭ জুলাই হায়দ্রাবাদে মুসলিম লীগ নেতা চৌধুরী খালেকুজ্জামান এবং তৎকালীন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্য ডা. জিয়াউদ্দীন একই মাসে ঘোষণা দেন যে, উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা। ড. মো. শহিদুল্লাহসহ বাঙালী বুদ্ধিজীবীরা এর প্রতিবাদ করেন। সদ্য সৃষ্ট পাকিস্তান সরকার শুরু থেকে ভাষা নিয়ে জট পাকাতে থাকে। তারা সোজা পথে না এসে বাকা পথে চলতে থাকে। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যা শতকরা ৫৬ ভাগ বাঙালী। তাছাড়া পুশতু, পাঞ্জাবী, সিন্ধি ভাষাভাসির লোক রয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানের লোকজনের জন্য উর্দু ভাষা গ্রহণ করা সহজ। পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালী অধ্যুষিত এবং শতকরা ৫৬ ভাগ বাঙালীর ভাষা বাংলা। সেহেতু রাষ্ট্র ভাষা হওয়ার কথা দুটো উর্দু ও বাংলা। কিন্তু পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে পাশ কাটিয়ে উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিয়ে ঝামেলা বাধালো। বাঙালী মুসলমানদের ভোট পাকিস্তান অর্জিত হয়। অথচ বাংলা ভাষা ও বাঙালী সংস্কৃতির নিধনের জন্য সরকার উঠে পড়ে লাগে। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের গর্ভনর জেনারেল জিন্নাহ তার ভাষণে বলেন, যে একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা। ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন। তখন ছাত্রদের ভিতর থেকে না না বলে প্রতিবাদ জানানো হয়। ভাষার বিষয়টি আরো চরম পর্যায়ে আসতে থাকে। বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৪৮ সালে করাচীতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তানের শিক্ষা সম্মেলন ইসলামী আদর্শের ধুয়ো তুলে বাংলা ভাষার জন্য আরবি হরফ প্রচলনের প্রচেষ্টা করা হয়। আর আরবি হরফ প্রচালনের জন্য ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহকে নিয়োগ প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখান করেন। পাকিস্তানের গণপরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৪। এর মধ্যে ৪জন অবাঙালীকে নির্বাচিত করতে হয়েছিল। ১৯৪৮ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে করাচীতে গণপরিষদের অধিবেশনে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত প্রস্তাব করেন যে, উর্দুই পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করা উচিত। কিন্তু তারা এ প্রস্তাবে একজন মুসলিম সদস্যও সমর্থন করেননি। অথচ পূর্ববাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করা হোক এই মর্র্মে প্রস্তাব পাশ করা পূর্ব পাকিস্তানের সদস্যদের কর্তব্য ছিল। তাহলে জিন্নাহ এবং লিয়াকত আলী খান ইচ্চামত কথা বলতে পারতেন না। তরুণদের বুকের রক্তের বিনিময়ে যে বাংলা রাষ্ট্র ভাষা অর্জিত হয়েছে তা হয়তো শান্তিপূর্ণভাবে অর্জন করা যেত। হয়তো বা পূর্ব পাকিস্তানের গণ পরিষদের সদস্যরা পরিচয় সংখ্যা ও মানসিক বিভ্রান্তির মধ্যে ছিলেন। তা না হলে তারা এই প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়ে পাস করতে পারতেন। ভাষা আন্দোলনে প্রবীনদের চেয়ে নবীনদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রবল ছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্র“য়ারী ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের অধিকাংশ সদস্য ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার পক্ষে মত দেয়। তবে সেই রাতেই ফজলুল হক হলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক তরুন নেতা আব্দুল মতিন, গাজীউল হক, মোহাম্মদ তোয়াহ, আব্দুল গফ্ফার চৌধুরী, ফজলে লোহানী, ওলি আহম্মেদ, এমআর আক্তার মুকুল, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, শেলী, শামছুর রহমান, হাসান আজিজুর রহমান, হালিমা খাতুন, জিল্লুর রহমান সিদ্দীকি, মুনির চৌধুরী, জহির রায়হান, গোলাম মাওলা আরো সহ আরো অনেকে। উল্লেখ্য ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারী পূর্ববঙ্গ আইন সভায় প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সেকথা মাথায় রেখেই ২১ ফেব্র“য়ারীতে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফেব্র“য়ারীর ৪ তারিখ থেকে পরবর্তী ২ সপ্তাহ ভাষার দাবীতে বাঙালি ছাত্রদের সাহস ও কর্মকান্ডে অবাঙালি প্রধান প্রশাসক কর্তৃপক্ষ হয়তো কিছুটা ভিতু হয়ে পড়েছিল। তাই ২১ সাদামাটা কর্মসূচী নাস্যাৎ করে দিতে তারা ২১ এর ২১ ফেব্র“য়ারী ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ১ মাসের জন্য ঢাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ সবকিছু নিষিদ্ধ করা হয়। ২০ ফেব্র“য়ারী বিকালে মাইকে ঐ ঘোষণা ছাত্রজনতা সবাইকে অবাক করে দেয়। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল শুরু করলে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। ২১ ফেব্র“য়ারি বিকাল ৩টা ১০মিনিটে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। ২২ ফেব্র“য়ারিতে পুলিশ গুলি চালায় রফিক, শফিক, সালাম, জব্বার, বরকত, শফিউর, ওলিউল্লাহ, আওয়ালসহ বেশ কয়েক জন শহীদ হন। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৪৮, এরপর ১৯৫০ অবশেষে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি মাতৃভাষা মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অধিকার ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়। ৫২ এর জাগরণ পরবর্তীতে সামরিক স্বৈরাচার এবং শোষন রঞ্চনা বিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে বাঙালীর প্রাণে শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে। তারই প্রতিফলন ১৯৫৫ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফার সংগ্রাম, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরোধী আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনের জনতার রায় ও ৭১ এ বাঙালীর স্বাধিকার সংগ্রাম। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাঙালী জাতির স্বাধীনতা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারী মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলন সুচিত হয় বাঙালী আতœমর্যদা বোধ ও স্বাধিকারের চেতনা। ২১ মানেই শ্রদ্ধাঞ্জলী বাঙালী চিত্তের জাগরণ। মহান ভাষা আন্দোলনের অর্জন অজর-অমর ও অক্ষয়। ২১ ফেব্র“য়ারী মহান শহীদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ২১ ফেব্র“য়ারী আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছে। আমার ভাইয়ের রক্তে রায়ানো একুশে ফেব্র“য়ারী আমি কি ভুলিতে পারি। বাঙালী জীবনে একুশ ডাক দিয়ে যায় নব জীবনের। একুশ বাঙালী জাতির মননের বাতিঘর। একুশ মহিমান্বিত করেছে বাঙালী জাতিকে। এইদিনে গভীর শ্রদ্ধায় আমরা স্মরণ করি ভাষা শহীদদের। লেখক: সাংবাদিক

একুশ আমাদের লাইট হাউজ এড. খন্দকার মজিবর রহমান

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিলো বাংলাদেশের প্রথম গণচেতনার সুসংগঠিত সফল গণঅভ্যূত্থান ও পরবর্তীকালে শাসক চক্রের বিরুদ্ধে স্বাধীকার আন্দোলনের প্রথম বলিষ্ট পদক্ষেপ। তাই একুশ আমাদের কিংসুক, গণআন্দোলনের বহ্নিশিখা।

 

পৃথিবীতে খুব কম জাতির আছে যারা ভাষার দাবিতে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেয়। এই পৃথিবীর অন্য কোন জাতির এই মহেন্দ্র ভাষা ভিত্তিক স্বাধীকার আন্দোলনের ইতিহাস নেই। তৎকালীন পাকিস্তান রাস্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ স্বয়ং বাঙালি তথা পূর্ব পাকিস্তানিদের তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্ছিত করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন। রাস্ট্র ভাষা প্রশ্নেই প্রথম সংঘাতের সূচনা করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তিনি ১৯৪৮ সালের মার্চে পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় এক সমাবেশে প্রথম উচ্চারণ করেন উর্দু কেবল মাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা। তার এই বিবেকহীন উক্তি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেহীন স্বৈরাচারী আচরণের দ্বারা তিনি আগামী রাজনৈতিক সংকটের বীজ বপন করেন। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চের জনসভা এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার স্বপক্ষে নিজের জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন। তাৎক্ষনিক ভাবেই ছাত্র সমাজের পক্ষে জোরালো প্রতিবাদের ঝড় উঠে। বাংলা পাকিস্তানের সংখ্যা গরিষ্ট মানুষের মাতৃভাষা হওয়া সত্বেও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করে কেবলমাত্র ৬ ভাগ মানুষের ভাষাকে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠণ করা হয়্। ভাষার দাবিতে সংগ্রামের ধারাবাহিক পথ পরিক্রমা শুরু হয়। অত:পর ১৯৫২ সনের ৩০ জানুয়ারি ঢাকার এক জনসভায় পাকিস্তানের তৎকালীণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খাজা নাজিম উদ্দিন উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার ঘোষণা করেন। শুরু হয় ভাষার দাবিতে তৎকালী পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে হরতাল, ধর্মঘট ও ছাত্র বিক্ষোভ। ১১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে প্রস্তুতি দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি সারা পূর্ব বাংলায় ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা পূর্ব বাংলায় ১৪৪ ধারা জারি করে। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ছাত্ররা সংগঠিত হয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালায়। বহু ছাত্রজনতা হতাহত হয়। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ অজ¯্র ছাত্র জনতা। ভাষা শহীদের তালিকায় আজও তাদের নাম জ্বল করে জ্বলছে। আমি পূর্বেই বলেছি ভাষা আন্দোলন ছিলো আমাদের বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম সোপান। উৎস থেকে উন্মেষের পর একটি বহতা নদী যেমন সর্পিল পথে হেটে যায় বহুদুর, অত:পর আত্মহুতি দেয় সাগরে। ঠিক তেমনি মহান একুশের পথ ধরে আসে ১৯৫৪ সনের যুক্ত ফ্রন্ট। নির্বাচনে ভেসে যায় জিন্নাহ’র সাধের পাকিস্তানী রাষ্ট্রের ভীত, ধ্বংস হয়ে যায় মুসলিম লীগের গণভিত্তি। জন্ম নেয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তীতে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক, বাহক আওয়ামী লীগের জন্ম এদেশের এই জাতির জীবনে মাহেন্দ্রক্ষণ। আন্দোলনের ধারাবাহিক পথ পরিক্রমায় ১৯৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ৬৬’র ৬-দফা ভিত্তিক স্বাধীকার আন্দোলন সৃষ্টি, স্বাধীনতার দাবিতে গণজাগরণ শুরু হয়। ১৯৬৯’এর গণঅভূত্থান। স্বাধীনতা সংগ্রামের মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ১৯৭০ এর নির্বাচন যুদ্ধ। এবং ৭১’এর মহান মুক্তিযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বরের রাঙা প্রভাত একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন জাতির মুক্তির ঘোষণার দিন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ১৯৫২এর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে রক্তাক্ত অর্জন দিয়ে শুরু। ১৯৭১ সনের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে সফল প্রাপ্তি। ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কারাগারে ভাষা আন্দোলনের অগ্নি মশালকে জাগরুক রাখার জন্য কারাভ্যন্তরে হাংগার ষ্ট্রাইক। অর্থাৎ ভুক হরতাল করেন। ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ড নির্বাচনে চালিকা শক্তি ছিলেন, ১৯৬২ সনের ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ৬৬’র ৬ ঘোষনার মাধ্যমে স্বাধীকার আন্দোলনকে বেগবান করেন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে বাঙালি মহানায়কে পরিণত হয়। ৭১এ মহান মুক্তিযুদ্ধ তার নামেই শুরু ও শেষ হয়। ৭মার্চ একাত্তরের ঘোষণা জাতিকে পথ দেখায়। বাঙলা এখন কেবল একটি জনগোষ্ঠীর ভাষা নয়, বাংলা এখন আন্তর্জাতিক ভাষা। তাই মহান শহীদ দিবসে জাতি দেশ শ্রদ্ধায় অবণত হয়ে মহান শহীদদের স্মরণ করছে। লেখক: আইনজীবী, রাজনীতিক