চুকনগরে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

চুকনগর (খুলনা) প্রতিনিধি: চুকনগরে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে টাকা ছাড়া সেবা মেলে না। এর প্রতিবাদে ডুমুরিয়া উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে প্রায় ২শতাধিক ব্যক্তি ঘুষখোর পুলিশদের প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
জানাযায়, রোববার দুপুরে চুকনগর হাইওয়ে পুলিশ মালতিয়া চারা বটতলার কাছে টহল দিচ্ছিল। এসময় সাতক্ষীরার খোকন দাস নামে এক ব্যক্তি তার ইঞ্জিন ভ্যানটি নিয়ে ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাপুর আহম্মেদ তার ভ্যানটি আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভ্যান চালক বিকাল ৪টার দিকে বিষয়টি ডুমুরিয়া উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষকে জানায়। যুবলীগ নেতা গোবিন্দ ঘোষ ভ্যান চালককে বলে তুমি সাপুর ভাইকে আমার সালাম দিয়ে বলবে এটা মন্ত্রী মহোদয়ের ঘেরের মাছ আনা নেয়ার গাড়ি এবারের মত ছেড়ে দেন। করিমন চালক পুলিশ ফাঁড়িতে এসে গোবিন্দ ঘোষের কথা বলামাত্রই ইনচার্জ এস আই সাপুর আহম্মেদ যুবলীগ নেতার নামে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমানজনক কথা বার্তা বলেন। তিনি এও বলেন নেতার সুপারিশ আনার অপরাধে ৫হাজার টাকা না দিলে তোর গাড়ি ছাড়া হবে না। অল্প কিছুক্ষণ পরে এসআই মাহামুদ হাচান ও এএসআই মাহফুজ আহম্মেদ ভ্যান চালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বলে তোর কোন বাপ আছে ডেকে নিয়ে আয়, তার পরে তোর ফোন ও গাড়ি দেব। আর সুপারিশ আনার অপরাধে অতিরিক্ত আরও ৩ হাজার টাকা তার কাছে দাবি করে। ঘটনাটি যুবলীগ নেতাকে জানানো হলে তৎক্ষণাৎ প্রায় ২শতাধিক ব্যক্তি এসআই সাফুর আহম্মেদ,এসআই মাহমুদ হাচান ও এএস আই মাহফুজ আহম্মেদকে অচিরেই চুকনগর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে প্রায় ১ঘন্টা ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভের মুখে পড়ে এসআই সাপুর আহম্মেদ, এসআই মাহামুদ হাচান ও মাহফুজ আহম্মেদ দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি ছেড়ে ডিউটিতে চলে যায়। তাছাড়া চুকনগর হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ফাঁড়ির সামনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে টাকা নেয়া ও ৩ রোডে টহল দেয়ার সময় ট্রাক থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভিতরে গোডাউন বানিয়ে ব্যবসায়ীদের মালামাল রাখা হয়েছে। যার নজীর এর আগে কোনদিন দেখা যায়নি। চুকনগর খুলনা মহাসড়কের দুই পাশের কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে জ্বালানি কাঠ ও খরচের টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মহাসড়কের নিচে কোন ব্যক্তি বালি রাখলে তাদেরকে মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রবীর বালা ও মুস্তাক আহম্মেদ সহ ৬জন ব্যক্তি জানায় গতমাসে আমরা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তার নিচে বালি রাখি। পুলিশ মাহাফুজ আহম্মেদ ও মাহামুদ হাচান মামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে ২হাজার করে টাকা নিয়েছে। খুলনার আব্দুল হাকিমের পুত্র জাহিদ হাকিম ও হোসনারা নামে এক মহিলা জানায় তাদের বিয়ের গাড়ি আটকিয়ে টাকা ও গালিগালাজ করার অভিযোগ করেছেন। বেতাগ্রামের রওশন জানায় আমি ২দিন আগে ইজ্ঞিন ভ্যানে করে কাঁচামাল নিয়ে আসার পথে চারা বটতলায় টহল দেয়া এক পুলিশ ভ্যানটি আটকিয়ে আমার কাছে মাত্র ১০টাকা ছিল তাও কেড়ে নেই। তাছাড়া দিনের বেলায় আটক করা মোটর সাইকেল,নসিমন,করিমন,ইজিবাইক ও ইজ্ঞিন ভ্যান টাকার বিনিময়ে রাতের আধারে ছেড়ে দেয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এমনটি গরীব,অসহায় ও ভ্যান চালকদের প্রতিনিয়ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হয়রানী করার অভিযোগ রয়েছে। তাই এলাকার মানুষের দাবি অচিরেই চুকনগর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হোক।

বকেয়া যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধুকে পিটিয়ে জখম

শ্যামনগর প্রতিনিধি: দাবিকৃত যৌতুকের বকেয়া টাকা না পাওয়ায় গৃহবধুকে পিটিয়ে আহত করেছে তার স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯ ফেবুয়ারী রোববার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাটিবারহল পল্লীতে। আহত অবস্থায় প্রতিবেশীরা উক্ত গৃহবধূকে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তির পর ঐ গৃহবধু তার স্বামী, স্বামীর প্রথম স্ত্রী ও শ্বশুরসহ চার জনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।
শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত গৃহবধু জান্নাত বেগম অভিযোগ করে জানান, কয়েক বছর পুর্বে গোলাম মোস্তফা নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তার সাথে বিয়ে করে। বিয়ের পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসেবে তার পরিবারের কাছে গোলাম মোস্তফা বিশ লাখ টাকা দাবি করে।
জান্নাত বেগম অভিযোগ করে বলেন, পর্যায়ক্রমে তার পরিবার গোলাম মোস্তফাকে তের লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে পরিশোধ করার পরও স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাকি সাত লাখ টাকা দাবি অব্যাহত রাখে। আহত গৃহবধুর অভিযোগ গত ১৯ ফেব্রুয়ারী বেলা দেড়টার দিকে তার স্বামী পুনরায় বাকি সাত লাখ টাকা দাবি করে। এসময় বাদানুবাদের এক পর্যায়ে স্বামীর নিকটাত্বীয় মহিউদ্দীন মোড়ল ও তার স্বামী গোলাম মোস্তফা তাকে পিটিয়ে আহত করে।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পেয়ে হার্ট এ্যাটাকে মারা গেলেন কালিগঞ্জের আব্দুল করিম গাজী

নিজস্ব প্রতিনিধি: একাত্তরের রণাঙ্গনে সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেও স্বীকৃতি মেলেনি আব্দুল করিম গাজীর। স্বীকৃতি না পেয়ে যাচাই বাছাই কমিটির কাছে অপমানিত হয়ে হার্ট এ্যাটাকে মারা গেলেন আব্দুল করিম গাজী।

 

সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এই অভিযোগ করেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আব্দুল করিম গাজীর মেয়ে ফতেমা খাতুন।
লিখিত তিনি বলেন, ১৯৭১সালের মে মাসে আমার পিতা আব্দুল করিম গাজী মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। টাকির আমবাগানে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। তাকে দেওয়া হয় থ্রি নট থ্রি রাইফেল। এরপর তিনি ৯ নং সেক্টরের আওতায় শোভনালী, কেয়ারগাতী, গোয়ালডাঙ্গা, ব্যাংদহা এলাকায় সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেসময় তার যুদ্ধকালিন কমান্ডার অধিনায়ক ছিলেন, মোঃ আবুল খায়ের ও সন্তোষ কুমার দাশ। ৯নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল। তার সহযোদ্ধা ছিলেন, আবুল খায়ের(লাল মুক্তিবার্তা নং- ০৪০৪০১০১১৪), সন্তোষ কুমার দাশ (লাল মুক্তিবার্তা নং ০৪০৪০১০১১৩) ও আবু বক্কর ছিদ্দিক (লাল মুক্তিবাতা নং ০৪০৪০৭০৩১৬)। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এসব দালিলিক প্রমাণ থাকার পরও অজানা কারণে আমার পিতা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অন্তর্ভূক্ত না হাওয়া তিনি হতাশ ছিলেন। অভাবের কারণে তিনি খুলনায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার কঠোর পরিশ্রমের টাকা দিয়ে আমাদের ৫ ভাই বোনকে মানুষ করেছেন। এত পরিশ্রমের মধ্যে তিনি ভেবেছিলেন এইবার যাচাই-বাছাইকে তিনি অবশ্যই স্বীকৃতি পাবেন। ১৭-২-১৭ তারিখে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেখানেও ঘটল ভিন্ন ঘটনা। যাচাই-বাছাই কমিটির নেতৃবৃন্দ তাকে তো স্বীকৃতি দিলেন না বরং তাদের অপমান জনক বিভিন্ন মন্তব্যে আমার পিতার মন বিষিয়ে উঠেছিল। আর এ ব্যথা সহ্য করতে না পেরে পরদিন ১৮-২-১৭ তারিখে হার্ট এ্যার্টাকে মৃত্যু বরণ করেন।
ফতেমা খাতুন বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি আমরা জানতে পারি মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এখবর পেয়ে আমরা উপজেলা থেকে ফরম তুলে তা পূরণ করে বিকাল ৪টার মধ্যে জমা দেই। এছাড়া কর্তৃপক্ষ আমাদের অবগত করেন ১১-২-১৭ তারিখে সকাল ১০টায় উপজেলায় হাজির হতে হবে। সে মোতাবেক আমরা ১১-২-১৭ তারিখে সেখানে হাজির হই। সেদিন পূর্নদিন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে আমাদের ডেকে ডেপুটি কমান্ডার হাকিম সাহেব বলেন, ১৩-২-১৭ তারিখে চাম্পাফুল ইউনিয়নের যাচাই-বাছাই শুরু হবে। আমার সেখানে হাজির হই। কিন্তু সেখানে বলা হয় অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে কি না। যদি করে থাকেন তাহলে তার কপি নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ফিরে এসে ১৭-২-১৭ তারিখে সকল কাগজপত্র ও ৩জন স্বাক্ষী নিয়ে উপজেলায় হাজির হই। কিন্তু তারা আমার পিতার কাছে কোন প্রশ্ন না করে বলেন যাচাই-বাছাই শেষ। আপনারা চলে যান। এ কথা শোনার পর আমার পিতা বলেন আমার শরীরটা খারাপ লাগছে। তখন আমার পিতা এবং পিতার সহযোগি সন্তোষ দাশ তাদের হাত ধরে কান্নাকাটিও করেছেন। কিন্তু নেতৃবৃন্দ কোন কর্ণপাত না করে সময় শেষ বলে চলে যান। এই কথা শুনে কালিগঞ্জ থেকে আমরা উজিরপুরের উদ্দেশ্যে বের হয়। কালিগঞ্জ থেকে উজিরপুর পর্যন্ত আমার পিতার অঝোরে কান্নাকাটি করেন এবং বলেন ‘গরিবের জন্য কেউ নেই, আল্লাহ গরিবের জন্য কেউ নেই’। আমরা তাকে অনেক সান্ত¦না দেয়। এসময় তাকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাড়ি নিয়ে আসলে পরদিন রাতে তিনি মারা যান।
তিনি আরো বলেন, আমার পিতা আর কখনো। ফিরে আসবেন না। তিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেও স্বীকৃতি না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশায় নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলেগেছেন। তিনি আর কখনো বলছেন না আমি মুক্তিযোদ্ধা। আজ আমার একটাই দাবি আমি যেন জাতির কাছে মাথা উচু করে পরিচয় দিতে পারি, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পর যাচাই-বাছাই কমিটির নেতৃবৃন্দের হাত পা ধরেও কোন লাভ হয়নি। তারা আমার পিতার সাথে খারাপ আচরণ করেন। আমি পিতার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে যুদ্ধকালিন কমান্ডার আবুল খায়ের ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ সরকার দুজনই বলেন, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে আব্দুল করিম গাজী আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। কি কারণে তিনি তালিকাভুক্ত হতে পারেননি তা বোধগম্য নয়।

কালিগঞ্জে ১৫০ বোতাল ভারতীয় ফেন্সিডিল আটক

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা যায়, উপ-পরিদর্শক নেওয়াজ মোহাম্মদ খানের নেতৃত্বে পুলিশ সোমবার ভোর ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ভাড়াশিমলা চৌমুহনী এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মাদক ব্যবসায়ীরা ফেন্সিডিল ভর্তি একটি বস্তা ফেলে পালিয়ে গেলে পুলিশ ওই বস্তার ভিতর থেকে ১৫০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এব্যাপারে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে (মামলা নম্বর: ১১, তারিখ: ২০-০২-২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ)।

কলারোয়ায় দিনব্যাপী কৃষিঋণ মেলা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় উপজেলা কৃষি ঋণ কমিটির আয়োজনে দিনব্যাপী কৃষিঋণ মেলা-২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন। উদ্বোধন শেষে এ মেলায় অংশগ্রহনকারী ৮টি স্টল পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায়ের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ মহা ব্যবস্থাপক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সাতক্ষীরার কমরেশ চন্দ্র সরদার। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান খান চৌধুরী জাহিদ।

সাতক্ষীরা ইউসিসিএ’র বার্ষিক সাধারণ সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সদর বিআরডিবি-ইউসিসিএ’র ৩৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা ইউসিসিএ’র হল রুমে সোমবার বেলা ১২টা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সভায় সদর ইউসিসিএ’র চেয়ারম্যান সোহেল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর হোসেন সজল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মীর মনিরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা বিবেকানন্দ রায়,  জুনিয়র অফিসার আব্দুস সামাদ, আবু সালেক, শফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বপন কুমার অধিকারী, শাহ আলম, গোপাল চ্যাটার্জী, শাহাদাৎ হোসেন, কুতুব উদ্দীন, রাজিবুল শেখ, আবু বক্কর, মুকুন্দ লাল হালদার, সুজিত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, অল্প আয় স্বল্প জমার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমবায়। আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমবায় আন্দোলনকে বেগবান করে দেখিয়ে ছিলেন নতুন স্বপ্ন। সারাদেশে সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। দারিদ্র বিমোচনের হাতিয়ার হোক সমবায়। এজন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সমবায়কে উন্নয়নের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

শ্যামনগরে নারী উন্নয়নে শুদ্ধাচার বিষয়ে সভা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় জাতীয় মহিলা সংস্থার আযোজনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কক্ষে নারী উন্নয়নে শুদ্ধাচার বিষয়ক এক সভা রবিবার অনুষ্টিত হয়।
জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান শাহানা হামিদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর জাহান পারভীন ঝর্ণা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, নকশীকাঁথার পরিচালক চন্দ্রিকা ব্যানার্জী। উপজেলা সংগঠক আনিসুর রহমান মল্লিকের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক শাহানা আক্তার প্রমুখ।

শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জলন

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সোমবার সন্ধ্যায় শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শ্যামনগর কিন্ডার গার্টেন সংলগ্ন উপজেলার কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দুই দিন ব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোমবাতি প্রজ্জলন করে ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম, মুক্তিযোদ্ধা জিএম ওসমান গণি, মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আতাউল হক দোলন,উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি গাজী আনিছুজ্জামান আনিছ, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি জি এম আকবর কবীর ,শিক্ষক ও সাংবাদিক রনজিৎ বর্মন, যুবনেতা স ম আব্দুস সাত্তার, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান সাইদ, সাবেক ছাত্রনেতা শেখ নুরুজ্জামান টুটুল, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মারুফ প্রমুখ। দিবসটি উপলক্ষে সকালে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার চত্তরে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে সুন্দর হাতের লেখা, রচনা ও ২১ এর কবিতা আবৃতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক পরিবারের ওপর হয়রানিমুলক তৎপরতা, ঝাউডাঙ্গা যুবলীগের প্রতিবাদ

ঝাউডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সম্মানিত সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল হোসেনের বাড়িতে অভিযানের নামে অসম্মানজনক হয়রাণির ঘটনায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও যুবলীগ নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন যাবত একটি কুচক্রী মহল পুলিশ প্রশাসনের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে আসছে। এ ধরনের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রবিবার রাত ২টায় বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক কাফেলা’র ঝাউডাঙ্গা প্রতিনিধি ও ওয়ার্ড যুবলীগের সহ সভাপতি আবুল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায় বলে জানিয়েছে ঝাউডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক একরামুল কবির। এ ঘটনায় ঝাউডাঙ্গা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। তিনি বলেন ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সহ- সভাপতি সাংবাদিক আবুল হোসেন আজীবন মুজিব প্রেমিক। কিন্তুু একটি কুচক্রী মহল তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে চলেছেন দীর্ঘদিন যাবৎ। এমন কী আবু হাসান পেশায় একজন ডাক্তার। তিনি বাংলাদেশ খেতমুজুর ইউনিয়নের ঝাউডাঙ্গা শাখারও নেতা। তাকেও ওই কুচক্রী মহল ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদ্বয়ের পিতা আয়জদ্দীন মোড়ল ২০১১সাল থেকে ২০১৬ সাল অবধি ইউপি সদস্য এর দায়িত্ব পালন করার সময় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ২০১৩ সালে জামায়াত শিবিরের অত্যাচার ও  নাশকতা থেকে তাদেরকে জীবনবাজি রেখে রক্ষা করেছেন। সেই দুঃসময়ে আয়জদ্দীন মোড়ল এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন।
এদিকে সাংবাদিক ভাতৃদ্বয়ের বাড়িতে পুলিশি অভিযানের নামে অসম্মানজনক হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ  আওয়ামী যুবলীগের ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন কমিটির পক্ষে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কবিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আমির আলী, যুগ্ম সম্পাদক আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার জুলি, তুহিন হোসেন, রাজ, কবিরুল সহ সকলস্তরের নেতাকর্মী। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন এলাকার জনপ্রিয় সাংবাদিকভাতৃদ্বয় আবুল হোসেন ও আবু হাসানের বাড়িতে অভিযানের নামে অসম্মানজনক হয়রাণির ঘটনায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, যুবলীগ নেতৃবৃন্দ এমন কী এলাকার সর্বস্তরের হিন্দু মুসলমান নারী পুরুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। তারা এর পেছনের ইন্ধনদাতা ও মিথ্যে তথ্য সরবরাহকারীদের খুঁজের বের করার আহবান জানিয়েছেন।

কলারোয়ার দেয়াড়া দাখিল মাদ্রাসায় জাল সার্টিফিকেটে সহকারি শিক্ষক পদে চাকরি!

নিজস্ব প্রতিনিধি: সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে চাকরি ও সরকারি বেতন উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে আবুল কালাম আজাদ (৩৮) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায়  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। সার্টিফিকেট জালিয়াতিকারী শিক্ষক, হলেন দেয়াড়া আল জামে: মোহা: দাখিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক।
জানাগেছে, গত ২৯ জানুয়ারি উপজেলার দেযাড়া  আল জামে. মোহা. দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) বিষয়ে নিয়োগ পান। পরে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কতৃপক্ষ তার সনদপত্র যাচাইকালে সরকারের নিষিদ্ধ বেসরকারি দারুল ইহসান বিশ্ব বিদ্যালয়ের সনদ হওয়ায় তার নিয়োগ বাতিল করে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী আবুল কালাম আজাদ জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের অর্নাস, মাষ্টার্স  ও বিএড পরীক্ষার সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে ২৭-০৪-২০১৪ ইং সালে মাদ্রাসায় আবেদন করে গোপন বোর্ডের মাধ্যমে একই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে তিনি মোটা অংকের টাকা দিয়ে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে গোপনে নিয়োগ লাভ করেন। স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় গত তিন বছর তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার কোন শিক্ষক বা অবিভাবকরা ভয়ে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেন নি বলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উক্ত শিক্ষকের সার্টিফিকেট জালিয়াতি ও অবৈধ্য পথে সরকারের বেতন উত্তোলন করার জন্য তার সার্টিফিকেট তদন্ত করার জন্য দাবি জানানো হয়।
সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানাগেছে, মাদ্রাসায় সহকারি শিক্ষক (ইংরেজি) আবুল কালাম আজাদ দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে নিয়োগ পান পরে উক্ত নিয়োগ বাতিল হওয়ার এক বছর পর কৌশলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চাদপুর জেলার চাদপুর কলেজ থেকে ২০০৬ সালে অর্নাস (ইংরেজি) ও  ২০০৮ সালে মাষ্টার্স (বাংলা) বিষয়ের দ্বিতীয় শ্রেণী পেয়ে উর্ত্তিন হওয়ার সার্টিফিকেট এবং ২০১১ সালে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, যশোর থেকে প্রথম শ্রেণীতে বিএড পরীক্ষায় উর্ত্তীনের সাটিফিকেট ম্যানেজ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ মাদ্রাসা কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করে গোপন বোর্ডের মাধ্যমে দ্বিতীয় বার নিয়োগ পান। পরবর্তীতের তিনি মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক হিসেবে ইংরেজি বিষয়ে যোগদান করেন। এবং সরকারি সরকারের দেয়া বেতন উত্তোলন করে আসছে।
সরজমিনে মাদ্রাসায় তথ্য অনুসন্ধানে যেয়ে মাদ্রাসায় তার কোন ফাইল পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার ফাইল কাউকে দেখানো হয় না। তারা আরো বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ স্যার সব কিছুই জানেন। কিন্তু টাকার কাছে সব ফাইল চাপা পড়ে আছে। শিক্ষকরা মাদ্রাসায় আরো অনেক দুর্নীতি, অনিয়ম হচ্ছে বলে জানান। তবে এসব বিষয়ে ভয়ে তারা কিছুই বলতে রাজি হয়নি।
জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, যশোর এ যোগাযোগ করা হলে কলেজের অধ্যক্ষ বিভিন্ন ফাইল বের করে দেখে জানান, ২০১১ শিক্ষা বর্ষে কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের মো: আবুল কালাম আজাদ, পিতা- রওশন আলী খান, মাতা-মোছা: মরিয়ম খাতুন। এই নামে কোন শিক্ষার্থী আমাদের কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন বা পড়েননি এই মর্মে একটি প্রত্যায়ন পত্র নিজ স্বাক্ষর করে প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছেন। এঘটনার পর তার সার্টিফিকেট জালিয়াতীর ঘটনাটি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অনার্স পাশ করেছি। মাষ্টার্স পরীক্ষা দেয়নি। দেয়াড়া আল জামে. মোহা. দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হযরত আলী জানান, সহকারি শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের নিয়োগের সময় সুপার ছিলেন মৃত, মাওলানা আব্দুল বারী। সে কারণে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি  না।
কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মখর্তা আব্দুল হামিদের সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি তিনি কোন তথ্য দিতে বাধ্য নন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, দেয়াড়া আল জামে. মোহা. দাখিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদের সার্টিফিকেট জালিয়াতীর অভিযোগে দেয়াড়া ইউনিয়নের মো: আব্দুল ওয়াজেদ আলী খান এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, অভিযেগের সাথে আবুল কালাম আজাদের সাটিফিকের ফটোকপি এবং সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, যশোর এর অধ্যক্ষ ন্বাক্ষরিত একটি প্রত্যায়ন পত্র জমা দিয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়টি আমি তদন্ত কাজ শুরু করেছি। সার্টিফিকেট জাল প্রমানিত হলে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বাংলা: রাষ্ট্রভাষা থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা

নাজমুল হক
চিন্তা, সংকল্প, অনুভব এই তিনটি মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই তিনের সাধনায় মানুষ চায় তার নিজের কথা অন্যের কাচে পৌছে দিতে। ভাষা তার মাধ্যম।
ভাষা মানুষের নিজস্ব সত্তা, অমূল্য সম্পদ। মানুষ জীবনের প্রতি মুহুর্তে স্পন্দন ও প্রবাহের মধ্যদিয়ে তার জীবিত ও জাগ্রত সত্তাকে অস্তিত্বময় ও প্রণাবন্ত করতে ভাষার কোনো বিকল্প খুঁজে না। মানুষ বৈচিত্র্যতার সমাহারে নান্দনিকতার উন্মেষ ঘটাতে অস্তিত্ব, অবস্থান, গতি-প্রকৃতি, শক্তির সমন্বয় ও রচনাকে সমৃদ্ধ করে ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে। ভাষার কারণে দেহে শক্তির সঞ্চার হয়, অঙ্গ-প্রতঙ্গ সঞ্চালিত হয়, মস্তিস্ক কোটর, চেতনা-চৈতন্য, স্মৃতিকোষ, অনুভূতির ক্রিয়া সম্পন্নতায় বোধগম্যের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর প্রত্যেক ভাষা জীবনের সঙ্গে সর্বতোভাবে জড়িত। জাতি, গোষ্ঠির সাথে জাড়িত।
প্রতিটি মানুষকে সুন্দর ও উন্নতভাবে জীবন-যাপন করতে হলে তিনটি ভাষা জানা আবশ্যক। মাতৃভাষা, ধর্মীয়ভাষা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে ভাষার গ্রহণযোগ্যতা বা প্রয়োগ হয়। এই তিন ধরণের ভাষা চর্চার মাধ্যমেই একজন মানুষ সর্ববিষয়ে পান্ডিত্য লাভ করতে পারে। তবে সবচেয়ে বড়কথা, প্রত্যেক মানুষকেই তার মাতৃভাষা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানার্জন করা অত্যাবশ্যক। প্রত্যেক মানুষকে অবশ্যই নিজ ভাষার উপর দখল থাকতে হবে। ভাষার আদ্যপ্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অবগত হবে। ভাষা মানবজীবনের অতি প্রয়োজনীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির সর্বোত্তম মাধ্যম-পন্থা, ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাহন, শিল্পকর্ম ও অগ্রগতির ধারক ও বাহক। যা একমাত্র মাতৃভাষা-সহজবোধ্যতার জন্যই নিজ নিজ ভাষায় অর্জন সম্ভব। সেজন্য যখনই যেখানে নিজস্ব ভাষা-মায়ের ভাষার ওপর কোন আক্রমণ আসে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষার জন্য। যুক্তি-তর্ক, বুদ্ধি-মেধা-মনন এবং প্রয়োজনে রক্তাক্ত পথেও সংগ্রাম করে ভাষাপ্রেমিক-দেশপ্রেমিক প্রকৃত দেশরতœরা ছিনিয়ে আনে স্বকীয়তা। প্রতিষ্ঠা করে মাতৃভাষা।
মা-মাতৃভূমি-মাতৃভাষার ওপর আঘাত এলে কোন ব্যক্তি, জাতি বা গোষ্ঠী মেনে নিতে পারে না। তারই এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বাংলার ভাষা আন্দোলন। বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা বাংলা ভাষাকে রক্ষা এবং মাতৃভাষা রূপে আলিঙ্গন করতে ১৯৫২-এর ফেব্র“য়ারিতে আন্দোলনের ডাক দেন। মায়ের মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে বাংলার ছাত্র-জনতা-পেশাজীবীরা সংগ্রাম গড়ে তুললে পুলিশের গুলিতে কারো পিচ ঢালা পথ লাল হয়ে যায়। এই বাংলার সূর্য সন্তানেরা ২১ ফেব্র“য়ারি সফলতার সঙ্গে অর্জন করে গৌরবগাঁথা এক উজ্জ্বল নজিরবিহীন ইতিহাসের সৃষ্টি করে পৃথিবীর বুকে। ব্যতিক্রমী অধ্যায়ের পর কেটে যায় দীর্ঘ সময়। দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম পেরিয়ে ধীরে ধীরে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠিত হল রাষ্ট্রভাষা রূপে। বাংলার আন্দোলন সার্থকতা লাভ করে। সালাম, বরকত, শফিক, জব্বারের রক্ত বৃথা যায়নি। তাদের অত্মোত্যাগ বাংলা ভাষাকে ঋণী করে রাখল। সমগ্র বাঙালি জাতি নত মস্তিষ্কে তাদের স্মরণ করে। কিন্তু এখানেই বাঙালিরা থেমে থাকে নি। যারা ৯ মাস রক্তস্নান করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে নিয়েছে তারা থেমে থাকার জাতি না। জাতিসংঘে ভাষার দাবী উঠানো হলো। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর পৃথিবীর একমাত্র মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া দিন ২১ ফেব্র“য়ারি স্বীকৃতি মিলল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে। সমগ্র জাতি আরো একবার বিজয়ের উল্লাসে মেতে উঠল। ২০০০ সালে ২১ ফেব্র“য়ারি প্রথম বার ১৮৮টি দেশে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিশ্ব স্মরণ করল আমাদের বীর শহীদদের।
লেখক : নাজমুল হক, সভাপতি, ল স্টুডেন্টস ফোরাম, সাতক্ষীরা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শততম টেস্ট দলে আছেন মুস্তাফিজ

খেলার খবর: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা সফরে দুই টেস্টের জন্য ১৬ জনের দল ঘোষণা করেছে। সেখানে সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে খেলা দলটাকেই প্রায় রেখেছেন নির্বাচকরা।

মাত্র দুটি পরিবর্তন হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্কোয়াডে। ইনজুরি কাটিয়ে টেস্ট ক্রিকেট ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ আরও তিনটি টেস্ট খেললেও ছিলেন না মুস্তাফিজ।
সাসেক্সে খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন কাটার মাস্টার। গত নিউজিল্যান্ড সিরিজে সীমিত ফরম্যাটের ক্রিকেটে ফিরলেও সাদা পোষাকে মাঠে নামা হয়নি তার। যদিও ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টে স্কোয়াডে ছিলেন তিনি।
এদিকে স্কোয়াডে ফিরেছেন আরেক পেসার রুবেল হোসেন। ক্রাইস্টচার্চে চোটজর্জর বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক না হওয়াতে ভারত টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।
ভারতের বিপক্ষে ইমরুলের ইনজুরিতে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও আছেন এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রায় ৪০ দিনের সফরে বাংলাদেশ দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে মুশফিক-মাশরাফিরা। এই সফরেই বাংলাদেশ শততম টেস্ট খেলার সুযোগ পাবে কলম্বো টেস্টে।
১৭ বছরের টাইগারদের শততম টেস্ট ম্যাচটি দরজায় কড়া নাড়ছে। ২০০০ সালের নভেম্বরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাদা পোশাকে টাইগারদের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। ৫০ নম্বর টেস্ট ম্যাচটি খেলেছে ২০০৮ সালের ৪-৬ জানুয়ারী ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
এদিকে ৭ মার্চ গলে শুরু হবে দুই টেস্টের প্রথমটি। এরপর ১৫ মার্চ কলম্বোতে শুরু হবে বাংলাদেশের শততম টেস্ট।
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ক্যাম্প শুরু হবে। ৩দিন ক্যাম্প চলার পর আগামী ২৬ কিংবা ২৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা মুশফিকদের। সেখানে আসল লড়াই শুরুর আগে ২ থেকে ৩ মার্চ দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অতিথি বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াড : মুশফিকুর রহিম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক, মুস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন ও শুভাশিষ রায়।

কর্মযজ্ঞেই ফুটে ওঠে মাতৃভাষার প্রতি অশেষ প্রেম

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘তিন দিন ধরে চলছে প্রস্তুতি। মাটির উপর কাদা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শহিদ মিনার। রংও করা হয়েছে তাতে। আর সন্ধ্যায় গাদা, গোলাপ ও রজনিগন্ধা কিনে এখন চলছে পুষ্পাঞ্জলি তৈরির কাজ। মাইকে বাজছে দেশের গান, বিশেষ করে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো….. গানটি। কয়েক ঘণ্টা পেরুলেই যে একুশের প্রথম প্রহর। অমর ভাষা শহিদ দিবস। সবকিছুই দিবসটিকে ঘিরে। ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।
জেলার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের কোড়া গ্রামের তরুণদের এই কর্মযজ্ঞেই ফুটে ওঠে মাতৃভাষার প্রতি অশেষ প্রেম, ভাষী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। কোড়া গ্রামের পাড়ের পুকুর ধারের মোড়ে তরুণদের এই কর্মযজ্ঞ দেখতে সেখানে প্রতিদিন এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা- সকলেই ভীড় করতেন। ভীড় রয়েছে এখনো। আর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতনও তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন প্রতিনিয়ত। স্থানীয় কোড়া তরুণ সমাজের সভাপতি হুমায়ুন কবীর জানান, তাদের এলাকায় শহিদ মিনার নেই। এজন্য প্রতিবছর তারা নিজস্ব উদ্যোগেই শহিদ মিনার বানিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, পাড়ের পুকুর ধারের মোড়ে পুকুরের কাদা দিয়ে শহিদ মিনার তৈরি করেছি। এখন ছোট ভাইদের নিয়ে চলছে পুষ্পাঞ্জলি তৈরির কাজ। মাইকে চলছে দেশের গান।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনিসহ আবু জাফর, রুহুল আমিন, আব্দুল্লাহ, রাজু, রায়হান, রহমান, নাসিম, ইমরান, নাইম, জাহিদসহ ৫০/৬০জন তরুণ এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত। তাদের সাথে রয়েছে অগণিত ছোট ছোট শিশুও। ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরির লক্ষ্যে ছোট ভাইদের জন্যই এই উদ্যোগ।
স্থানীয় তরুণ আবু জাফর বলেন, প্রতিবছরই তারা চাঁদা তুলে স্বাধীনতা উৎসব, বিজয় উৎসব ও নববর্ষ উদযাপন করেন। আর গভীর শ্রদ্ধায় পালন করা হয় ভাষা শহিদ দিবস। সবকিছুর মধ্যে ভাষা শহিদ দিবস ব্যতিক্রম। অন্যান্যগুলো আনন্দের, ভাষা শহিদ দিবস শ্রদ্ধার, মাতৃভাষা প্রেমের।
ককসিটের উপর ফুল বসিয়ে পুষ্পাঞ্জলি তৈরিরত ছোট্ট শিশু জাহিদ জানায়, বইতে পড়েছি সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। মাতৃভাষা ভাষা রক্ষায় এই আত্মহুতি গৌরবের। তাই মাকে বলে এসেছি, ফিরতে দেরি হবে। রাত ১২টায় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়ে তবেই বাড়ি ফিরবো।

বিন¤্র শ্রদ্ধায় একুশের প্রথম প্রহর পালন

মো. আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরায় ভাষা শহিদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পালিত হয়েছে একুশের প্রথম প্রহর।

 

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরে মানুষের ঢল নামে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ফুলে ফুলে ভরে যায় শহীদ মিনার বেদি। সোমবার রাত ১০টা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংগঠন শোক র‌্যালি নিয়ে উপস্থিত হন শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে। রাত গভীর হবার সাথে সাথে বাড়তে থাকে জনতার উপস্থিতি। রাত ১২টা ১ মিনিট। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, জেলা ও দায়রা জজ এবং জজশীপের বিজ্ঞ বিচারকদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমেই নিয়মানুযায়ী শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন। এরপর একে একে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পক্ষে মো. আলতাফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.এফ.এম এহতেশামূল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অরুন কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর হোসেন সজল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু প্রমুখ। এর পরেই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা আওয়ামী লীগ, সাতক্ষীরা পৌরসভা, জেলা  মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,  জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, দৈনিক পত্রদূত, দৈনিক কালের চিত্র, দৈনিক দক্ষিণের মশাল, দৈনিক কাফেলা, জেলা শ্রমিক লীগ, জেলা কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, জেলা বিএনপিসহ অঙ্গসহযোগি সংগঠন, জেলা জাতীয় পার্টি, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় ছাত্র সমাজ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিকদল জাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন, মহিলা ফোরাম, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেত মজুর ফ্রন্ট, বিএমএ সাতক্ষীরা, জেলা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সাতক্ষীরা, চেম্বার অব কমার্স, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, দিবা-নৈশ কলেজ, ছফুরননেছা মহিলা  কলেজ, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, নবজীবন ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি, সাতক্ষীরা জেলা স্কাউটস্, সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতি, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সাতক্ষীরা শিশু একাডেমি, বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ, সাতক্ষীরা ল কলেজ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, বর্ণমালা একাডেমি, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, এল.জি.ই.ডি, জেলা মিনিবাস মালিক সমিতি, জুয়েলার্স সমিতি, জেলা মন্দির সমিতি, জেলা যুব মৈত্রী, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ, জাতীয় শ্রমিক লীগ সাতক্ষীরা জেলা, জেলা ট্রাক-ট্রাংক লরি,

 

কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস্ শাখা, জেলা লেবার শ্রমিক ইউনিয়ন, সোনালী ব্যাংক কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সিবিএ, অগ্রনী ব্যাংক সিবিএ, জনতা ব্যাংক সিবিএ, জেলা ইট-ভাটা শ্রমিক ইউনিয়ন, জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, আহ্ছানিয়া মিশন আলিম মাদ্রাসা, জেলা অটো মোবাইল ওয়ার্ক সপ মালিক সমিতি, মটর সাইকেল চালক এসোসিয়েশন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র রক্ষা টিম, আমরা বন্ধু, জেলা মাহিন্দ্রা থ্রি হইলার চালকলীগ, জাতীয় রিক্সা ভ্যান শ্রমিকলীগ, জেলা রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ, বিএনএফ ন্যাশনাল লিস্ট ফ্রন্ট, সুলতানপুর ক্লাব, আজাদী সংঘ, ইয়াং সুলতানপুর ক্লাব, স্বদেশ, বরসা, এ্যাডাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ-সাতক্ষীরা, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সেলুন মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠন এবং সর্বস্তরের নাগরিকসহ কয়েক শতাধিক সংগঠন ফুল দিয়ে বায়ান্নর ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন।

একুশের চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সুন্দর হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: মহান একুশের চেতনায় দেশ প্রেমিক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার দৃপ্ত প্রত্যয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুন্দর হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিেিযাগিতা।

 

একুশের প্রাক্কালে সোমবার বিকেলে এ উপলক্ষে ছোট ছোট সোনামনিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব চত্তর। ছোট ছোট সোনামনিরা রং তুরির আঁচড়ে তুলে ধরে ৫২’র গৌরবগাঁথা ঐতিহ্য। সুন্দর হাতের লেখা উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে মুগ্ধ করে। বসন্ত বিকেলে শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে প্রেসক্লাব চত্তর হয়ে ওঠে মুখরিত। প্রতিযোগিতায় শতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারি ও সাবেক সভাপতি শিক্ষাবিদ আনিসুর রহিম, দেশ টিভি ও বিডি নিউজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বিভিন্ন দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াজেদ কচি, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, ঈষিকা আর্টের সত্ত্বাধিকারি বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী আব্দুল জলিল, আমিনা বিলকিস ময়না, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ইব্রাহিম খলিল, রফিকুল ইসলাম শাওন, এসএম শহীদুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান মধু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বারুদ ফোটা প্রতিবাদ। একুশ শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সে চেতনা ছড়িয়ে দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এখনই সময়। আজকের যে শিশুরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে তারাই একদিন আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দেবে।
৫২’র মহান ভাষা এন্দালনের প্রেক্ষাপট ও সাতক্ষীরার গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে বক্তারা আরো বলেন, ভাষা আন্দালনের প্রথম শহীদ সাতক্ষীরার ছেলে। বুধহাটার আনোয়ার হোসেন খুলনা বিএল কলেজে ছাত্র ছিলেন। তাকে ১৯৪৮ সালে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী খাপড়া ওয়ার্ডে বন্দী করে রাখার পর পাকিস্তান সরকার জেলখানায় হত্যা করে। বক্তারা বলেন, দেশে এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে সাতক্ষীরা গৌরবময় ইতিহাস নেই। সাহিত্য সংস্কৃতি খেলাধূলা চিকিৎসাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সাতক্ষীরা সন্তানেরা দেখিয়েছে সাফল্য। গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে সৌম্য মুস্তাফিজ। বক্তারা বলেন, পাকিস্তান আমলেও সাতক্ষীরার সন্তান আতাউর রহমান ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্বে চমক দেখিয়েছিলেন। সাতক্ষীরায় জন্ম হয়েছে দেশ বরেণ্য অসংখ্য ব্যক্তির। বক্তারা উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। তাই আগামী প্রজন্মকে দেশ প্রেমিক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ক গ্রুপে সাতক্ষীরা কিন্ডার গার্টেনের জারিন তাসনিম খান- প্রথম, একই স্কুলেরজেড. আই তাহিয়াত- দ্বিতীয় এবং সায়ন্তনী সরকার তৃতীয় পুরস্কার পায়। খ-গ্রুপে সিলভার জুবলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ের কাজী জহির ইফরীত-প্রথম, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের রাজকুমার মজুমদার-দ্বিতীয় ও একই স্কুলের অহীন অর্ণব বাছাড়-তৃতীয় পুরস্কার পায়। সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন স্কুলের সাদ ইবনে আখতার- প্রথম, মর্নিংসান প্রি ক্যাডেট স্কুলের নিসর্গ কুন্ডু-দ্বিতীয় এবং সিলভার জুবলি মডেল সরকারি প্রাইমারি স্কুলের তানিশা তাসনিম তৃতীয় পুরস্কার লাভ করে।