ডুমুরিয়ায় যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত টিম মাঠে


প্রকাশিত : মার্চ ১, ২০১৭ ||

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার যুদ্ধাপোরাধী রাজাকারদের নামে দায়েরকৃত মামলার তদন্তটিম আবারো মাঠে নেমেছেন। গত রবিবার থেকে তিন দিন ধরে উপজেলার শোভনা, খর্ণিয়া ও আটলিয়া ইউনিয়নের রাজাকার কর্তৃক হত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, বসতবাড়ি লুন্ঠনসহ দেশ ত্যাগের হুমকীর ঘটনায় পঙ্খানুপঙ্খিভাবে তদন্ত চালাচ্ছেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মামলার বিবরণ ও তদন্তটিম সুত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে রাজাকার কমান্ডার বাচ্চু খানসহ সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আব্দুর রহিম শেখের নেতৃত্বে বাহিনীরা ১৮ মে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়ার পাচুড়িয়া গ্রামের আনু শেখ ওরফে আজিজ ও ইমান শেখ, পাচপোতা গ্রামের মজিদ বিশ্বাস, কওসার শেখ ও সাহেব আলী গাজী, খর্ণিয়া গ্রামের সামছুর মোল্যা, আমজাদ সরদার ও লতিফ মোড়লকে রানাই পালপাড়া জোড়া বকুলতলায় নিয়ে একত্রিত বেঁধে নির্মমভাবে গুলি করে মেরে ভদ্রা নদীতে ফেলে দেয়। ওই সময়ে গুলিবিদ্ধ আনিচুর রহমান সরদার মরার ভানধরে চরে পড়ে থেকে কৌশলে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়ি ফেরে। জুন মাসের ১০ তারিখ মুক্তিযোদ্ধা আঙ্গারদহ গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমান মোড়লের বাড়িতে এবং ১৬ জুন তারিখে পাচপোতা গ্রামের নেছার আলী খানের বাড়িতে রাজাকাররা অগ্নিসংযোগসহ লুটপাট করে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় সিংগা গ্রামের গণেশ বৈরাগীর বাড়িতে লুটপাট করে। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের ২০ তারিখ গোনালী গ্রামের গাতিদার অনিল ঘোষের দ্বিতলা বাড়ি দখল করে সেখানে রাজাকারদের ক্যাম্প স্থাপন করে টর্চার সেল হিসাবে ব্যবহার করে। সেখানে যুবতী মহিলাদের ধরে নির্যাতন করা হতো। আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে (শুক্রবার) শোভনা গ্রামের আলী বক্স ওরফে আলে ও ভদ্রাদিয়া গ্রামের ললিত মল্লিক ওরফে নলেকে অস্ত্রমুখে ধরে নিয়ে পিঠাপিঠি বেঁধে নৌকায় নিয়ে ইট বেঁেধ নদীতে ফেলে হত্যা করে। আগস্ট মাসের মধ্যবর্তি সময় আঙ্গারদহ গ্রামের পঞ্চানন অধিকারীর যুবতী কন্যা জ্যোৎস্না রানী অধিকারী(১৮)কে জোর পূর্বক ধরে ওই অনিল ঘোষের বাড়ির টর্চার সেলে নিয়ে বিবস্ত্র করে পালাক্রমে ধর্ষন করে। এছাড়া রাজাকার বাহিনীরা শোভনা গ্রামের ওয়াব আলী তরফদার, মোসলেম শেখ, করিম শেখ, শাহাদাৎ ফকির, আফছার সরদার, বাবর আলী শেখ, ইছাক খান ও রাজ্জাক খানকে ধরে নিয়ে গল্লামারি পাকসেনাদের হাতে তুলে দেয়। পরবর্তিতে তাদেরকেও একসাথে গুলি করে হত্যা করে। ওই সময় পায়ে গুলিবিদ্ধ নোয়াব আলী তরফদার প্রাণে বেঁেচ বাড়ি ফেরে। এ ঘটনায় পাঁচপোতা গ্রামের লিয়াকত আলী গাজী বাদী হয়ে রাজাকার বাহিনীর আঙ্গারদহ গ্রামের শেখ আব্দুর রহিম(৬৫), রানাই গ্রামের বাচ্চু খান(৭২), নাজের ফকির(৬৫), আক্কাজ সরদার(৬৮), রওশন মল্লিক(৬৭), রাজ্জাক বিশ্বাস(৬৯), খর্র্ণিয়া গ্রামের সামছুর গাজী (৭১), আব্দুল শেখ(৭০)’র নামে খুলনা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারাী তারিখে দন্ডবিধি ১২০খ/১২৪ক/১৪৩/৩৪২/৩০২/৩৬৪/৩৭৫/৪৬৩/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের এক বছর পর রাজাকার কমান্ডার বাচ্চু খান মারা যায়। ওই ২/১৬নম্বর দায়েরকৃত মামলায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিশেষ টিম দফায় দফায় পঙ্খানুপঙ্খুভাবে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি ডাইরেক্টর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, দ্বিতীয় দফা তদন্ত আবারো শুরু করেছি। রাজাকার কর্তৃক নিহতের স্বজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার কুলবাড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখ, গোবিন্দকাটি গ্রামের ইমান আলী ফকিরের বাড়িতে হত্যার বিবরণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।  তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলেই পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এরআগে গত ৫ জানুয়ারী তারিখে একবার তদন্ত করা হয়েছিল। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারী আবু বক্কার সিদ্দিকসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।