ফয়জুল্লাপুর স্কুলে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে জামায়াত কর্মীর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : মার্চ ১২, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সদর উপজেলার ৯২নং ফয়জুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে জামায়াত কর্মী নাজমুল ইসলামের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার পর বিরোধিতাকারিদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সস্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার ফয়জুল্লাপুর গ্রামের রামপ্রসাদ মন্ডল বাবু বলেন, তিনি ফিংড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সদস্য। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ফয়জুল্লপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী হিসেবে নজরুল ইসলাম নজুর ছেলে জামায়াত কর্মী ও ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী জামায়াত শিবিরের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নাজমুল ইসলামকে যে কোন মূল্যে নিয়োগ করানোর ঘোষণা দেন ফিংড়ি ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্কুলের সহ সভাপতি আব্দুল কাদের মোল্লা। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিকার চেয়ে তিনিসহ ১৯জন সাক্ষর করে সাংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মদ রবির কাছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেন। এমপি মহোদয় বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নির্দেশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরার স্থানীয়, খুলনা, যশোর ও জাতীয় দৈনিকে সদর উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে আড়াই কোটি ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।  এ নিয়োগের বেশ কিছু ক্ষেত্রে জামায়াত কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিকেলে ফয়জুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে জামায়াত কর্মী নাজমুলের নিয়োগ চুড়ান্ত করা হয়েছে মর্মে লিখিতভাবে জানানো হয়। এর পরপরই সন্ধ্যায় ওই বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহসভাপতি ও ফিংড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তিন নং ওয়ার্ড সভাপতি জামায়াতের পৃষ্টপোষক আব্দুল কাদের মোল্লা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি নাজমুলের নিয়োগের বিরোধিতা করে সাংসদের কাছে আবেদনে স্বাক্ষরকারি মুক্তাজুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে আজাহারের চায়ের দোকানের সামনে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন আব্দুল কাদের। টাকা দিয়ে জনপ্রতিনিধিসহ সকলের মুখ বন্ধ করে নাজমুলকে নিয়োগ দিয়েছি। আবেদন নিবেদন করে কিছুই করতে পারলি না বলে গালিগালাজ করে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করে নাজমুলের নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ম্যধ্যমে ফয়জুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরীর নিয়োগ দানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর নাজমুলের নেতৃত্বে জামাত শিবির ক্যাডাররা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আব্দুর রশিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এছাড়া কাদের মোল্যা এলাকার গরীব অসহায় মানুষকে বিদ্যুৎ দেয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ নেয়। সরকারের অর্জিত উন্নয়ন কাদের মোল্যার কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসি জামাত শিবিরের আশ্রয়দাতা কাদের মোল্যার বিরুদ্ধে অবিলম্বে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ফয়জুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের মোল্যা বলেন, তার বিরুদ্ধে জামায়াত শিবিরকে পৃষ্টপোষকতার অভিযোগ ঠিক নয়। একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।