ফয়জুল্লাপুর স্কুলে জামায়াতকর্মীকে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দিয়ে আওয়ামী নেতার দৌড়ঝাপ!


প্রকাশিত : মার্চ ১৫, ২০১৭ ||

সরদার আসাদ: জামায়াতকর্মীকে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন ফিংড়ী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাদের মোল্যা। সম্প্রতি এ বিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় পদ বাঁচাতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন তিনি। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে তিনি ধর্ণা দিয়ে বেড়চ্ছেন বলে জানান এলাকাবাসি। দৈনিক পত্রদূতকে এলাকাবাসি মোবাইল ফোনে জানান, কাদের মোল্যার বিরুদ্ধে রয়েছে দালালীর অভিযোগ। শালিস বিচারের নামে অসহায় ব্যক্তিদের নিকট থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন এলাকার মানুষ। এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের নিকট থেকে শালিস করার কথা বলে হাতিয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা। অসহায় গোলাম মোস্তফার নিকট থেকে ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদে শালিস করার কথা বলে নিয়েছেন দেড় হাজার টাকা। রাশিদা বেগম নামের এক অসহায় মহিলাকে বিদ্যুতের মিটার এনে দেয়ার কথা বলে হাতিয়েছেন ৯ হাজার টাকা। অসহায় রাশিদা আজো বিদ্যুতের মিটার পায়নি। এলাকাবাসি আরো জানান, সাতক্ষীরা সদর এমপি মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি কয়েক মাস আগে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন করেন। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা দেয় ব্যাপক সম্ভাবনার আলো। কিন্তু এমপি মহোদয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে থেমে থাকেনি কাদের মোল্যা। বিদ্যুতের মিটার গ্রাহকদের নিকট থেকে এমপির গাড়ীর তেল খরচ বাবদ কাদের মোল্যা আদায় করেন জন প্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এভাবেই এলাকা বিষিয়ে তুলেছেন কাদের মোল্যা। সর্বশেষ সদর উপজেলার ৯২ নং ফয়জুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে মোটা অংকের উৎকচের বিনিময়ে জামায়াত কর্মী নাজমুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়েছেন কাদের মোল্যা। নিয়োগে বিরোধিতাকারিদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি এখন দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এলাকাবাসি জানান, ফয়জুল্লপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী হিসেবে নজরুল ইসলামের নজুর ছেলে জামায়াত কর্মী ও ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী জামায়াত শিবিরের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নাজমুল ইসলামকে যে কোন মূল্যে নিয়োগ করানোর ঘোষণা দেন ফিংড়ি ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্কুলের সহ সভাপতি আব্দুল কাদের মোল্লা। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিকার চেয়ে তিনিসহ ১৯জন সাক্ষর করে সাংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদের কাছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বৃহষ্পতিবার সকালে সাতক্ষীরার স্থানীয়, খুলনা, যশোর ও জাতীয় দৈনিকে সদর উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে আড়াই কোটি ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়োগের বেশ কিছু ক্ষেত্রে জামায়াত কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিকেলে ফয়জুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে জামায়াত কর্মী নাজমুলের নিয়োগ চুড়ান্ত করা হয়েছে মর্মে লিখিতভাবে জাাননো হয়। এর পরপরই সন্ধ্যায় ওই বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি ও ফিংড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তিন নং ওয়ার্ড সভাপতি জামায়াতের পৃষ্টপোষক আব্দুল কাদের মোল্লা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি নাজমুলের নিয়োগের বিরোধিতা করে সাংসদের কাছে আবেদনে সাক্ষরকারি মুক্তাজুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে আজাহারের চায়ের দোকানের সামনে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন আব্দুল কাদের। টাকা দিয়ে জনপ্রতিনিধিসহ সকলের মুখ বন্ধ করে নাজমুলকে নিয়োগ দিয়েছি। আবেদন নিবেদন করে কিছুই করতে পারলি না বলে গালিগালাজ করে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করে নাজমুলের নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ম্যধ্যমে ফয়জুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরীর নিয়োগ দানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।



error: Content is protected !!