দেবহাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে হুমকি!


প্রকাশিত : মার্চ ১৬, ২০১৭ ||

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কে উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সহ কয়েকজন সহকারী শিক্ষক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদানের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত সুপারিশ প্রেরণ করেছেন। এছাড়া অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান ও ঈদগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল্লাহ তারিকের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষক সমিতির ব্যানারে বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেয়ার নাম করে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষকদের নিকট থেকে টাকা গ্রহনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৫ মার্চ ২০১৭ তারিখ দুপুরের দিকে আব্দুল হান্নান ও ঈদগাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল্লাহ আল তারিক সহ কয়েকজন শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দেবাশীষ সিংহকে বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে তাদের কাজ করে দেয়ার কথা বললে শিক্ষা কর্মকর্তা তাতে রাজী না হওয়ায় তারা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ সিংহ ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন প্রতিবেদন আকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রেরন করেন। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ সিংহ ঐদিনই (০৫-০৩-১৭ ইং) তারিখে স্মারক নং- উশিঅ/দেব/সাত/৮৯ তে লিখিতভাবে ঐ শিক্ষক আব্দুল হান্নান সহ অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট প্রেরন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ গত ইং ০৭-০৩-১৭ তারিখে ঐ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্মারক নং- ০৫.৪৪.৮৭২৫.০০১.১০.০০২.১৭.২৭৫ তে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত প্রতিবেদন প্রেরন করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল হান্নান ও সহকারী শিক্ষক সাইফুল্লাহ আল তারিকের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পরিচয়ে উপজেলার নব্য সরকারী হওয়া ৪৪ জন শিক্ষকদের নিকট থেকে টাইম স্কেল জনিত বকেয়া ০১/০১/১৩ ইং তারিখ থেকে ৩০-০৬-১৫ ইং তারিখ পর্যন্ত ৬ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা উত্তোলন বাবদ ১০% হারে টাকা এবং কল্যান তহবিলের বাবদ ৫০০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ আছে। এছাড়া অভিযুক্ত ঐ শিক্ষকদ্বয় ১৯/২০ জন সহকারী শিক্ষকদের নিকট থেকে টাইম স্কেল জনিত বকেয়ার টাকা তুলে দেয়ার নাম করে ১৫০০/২০০০ টাকা করে অফিস খরচের নাম করে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে শিক্ষক আব্দুল হান্নান তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে তাদের দেখা করার জন্য আগে থেকে সময় নির্ধারন করা ছিল। যার কারণে তারা দেখা করার জন্য গিয়েছিলেন। তিনি অশ্লীল কথা বা হুমকি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দেবাশীষ সিংহ জানান, শিক্ষক আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে ৮/১০ জন শিক্ষক অফিসের নিচে দাড়িয়ে তাকে হুমকি সহ নানারকম অশ্লীল কথাবার্তা বলে। আব্দুল হান্নান ও সাইফুল্লাহ আল তারিকের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষকরা তার কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন উল্লেখ করে দেবাশীষ সিংহ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কার্য্যক্রম চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার লিখিত প্রতিবেদনগুলো জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।