বিশ্ব ঐতিহ্য আমাদের সুন্দরবন


প্রকাশিত : মার্চ ৩১, ২০১৭ ||

মো. আবদুর রহমান
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বাংলাদেশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে এ বনের অবস্থান। বাংলাদেশের সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগের পরিমাণ ৪,১৪৩ বর্গ কিলোমিটার এবং জলভাগের পরিমাণ ১,৮৭৪ বর্গ কিলোমিটার। সুন্দরবনে প্রায় ৪৫০ টি নদ-নদী ও খাল রয়েছে। এসব নদ-নদী ও খালগুলো সমগ্র সুন্দরবনব্যাপী জালের মত ছড়িয়ে আছে। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সম্পদ ও জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর সুন্দরবন।
নামকরণ: সুন্দরবনের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে এ বনভূমির গাছপালা দেখে বিদেশী পর্যটকরা এটিকে ‘ঔঁহমষব ড়ভ ংঁহফৎু ঃৎববং’ নামে আখ্যায়িত করেন। ‘ঔঁহমষব ড়ভ ংঁহফৎু ঃৎববং’ এর বঙ্গানুবাদ করে নামকরণ করা হয় ‘সুন্দরবন’। কেউ কেউ মনে করেন ইংরেজি শব্দ ংঁহফৎু অর্থ নানা প্রকার; এই সানড্রি শব্দ হতে ধীরে ধীরে এ বনের নাম সুন্দরবন হয়েছে। আবার অনেকে মনে করেন এবন সমুদ্র উপকূলে গড়ে ওঠেছে বিধায় সমুদ্রবন (সাগরের বন) অর্থাৎ ‘সমুন্দর’ শব্দ হতে প্রথমে ‘সমুন্দরবন’ ও পরে ‘সুন্দরবন’ নামের উৎপত্তি হয়েছে। তবে অধিকাংশের মতে সুন্দরবনে বহুপ্রজাতির গাছপালা থাকলেও এ বনের প্রায় সর্বত্রই সুন্দরী গাছের বিস্তৃতি ও আধিক্য বেশি পরিলক্ষিত হয় বলে সম্ভবত এর নামকরণ হয়েছে ‘সুন্দরবন।’
উদ্ভিদ বৈচিত্র্যে সুন্দরবন একটি আদর্শ আবাসস্থল। এ বনে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান উদ্ভিদরাজি রয়েছে। সুন্দবরনের প্রধান উদ্ভিদ হচ্ছে সুন্দরী যা সমগ্র সুন্দরবনের উদ্ভিদের প্রায় ৭৩%। সুন্দরী গাছের বিস্তৃতি কেবল সুন্দরবনেই নয়। চাকোরিয়া সুন্দরবনে ইতোপূর্বে যথেষ্ট পরিমাণে সুন্দরী গাছ জন্মাতো। এছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনেও সুন্দরী বৃক্ষ জন্মে থাকে। যেমন মায়ানমার, ভারতীয় সুন্দরবন, অষ্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড প্রভৃতি। সুন্দরীর পর গেওয়া সুন্দরবনে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে যা প্রায় ১৬%। আরো আছে গরান, গোলপাতা, কেওড়া, বাইন, পশুর, কাকডা, হেতাল, ঝানা, আমুর, সিংড়া, ছৈলা, ধুন্দল ও খলসীসহ বিভিন্ন প্রকার লতা, গুল্ম, ঘাস, পরগাছা ও পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ।
গোলপাতা সুন্দরবনের একটি অতি মূল্যবান প্রাকৃতিক অর্থকরী সম্পদ। সুন্দরবনের প্রায় সর্বত্রই গোলপাতা জন্মে থাকে। তবে নদী ও খালের ধারে এবং নতুন চর বা দ্বীপে অধিক পরিমাণে গোলপাতা জন্মাতে দেখা যায়, নামে গোল হলেও গোলপাতা আসলে গোলাকার নয়, লম্বা লম্বা। এর পাতা সবুজ বর্ণের অনেকটা নারিকেল গাছের পাতার মতো। তুলনামূলকভাবে কম দাম, শক্ত ও অধিক টেকসই হবার কারণে বিভিন্ন প্রকার ঘরের ছাউনির কাছে ‘গরিবের ঢেউটিন’ হিসেবে খ্যাত গোলপাতার জুড়ি নেই। ঘর ছাউনির কাজে গোলপাতার সর্বাধিক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া গোলপাতা দিয়ে কুড়ে ঘর, গোলাঘর, চালাঘর, গোশালা, কাঠগোলা নৌকার ছাউনি, দোকান প্রভৃতির ছাউনির কাজ করা হয়। বহুমুখী ব্যবহার ও সহজলভ্যতার কারণে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রায় ১৬টি জেলার দরিদ্র ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরবাড়ি ও আশ্রয়স্থাল নির্মাণে গোলপাতা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এখন যদিও অনেক টিন ও ইটের ঘর তৈরি হচ্ছে তবুও তিন চতুর্থাংশ ঘরবাড়ি এখনও গোলাতা দিয়ে তৈরি হয়।
সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত গোলপাতা সংগ্রহের কাজ চলে। প্রতি বছর সুন্দরবন হতে প্রায় ৭০-৮০ হাজার মেট্রিক টন গোলপাতা সংগৃহীত হয় এবং একাজে মৌসুমে প্রায় ৩০ হাজার লোক প্রতি বছর নিয়োজিত থাকে। সুন্দরবন থেকে যারা গোলপাতা সংগ্রহ করে তাদেরকে বাওয়ালি বলে। যদিও বাঘের আক্রমণের কারণে গোলপাতা সংগ্রহ করা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তথাপিও জীবন ও জীবিকার তাড়নায় এতো অধিক সংখ্যক লোক এ পেশায় নিয়োজিত থাকে। এছাড়া নদী পথে গোলপাতা পরিবহনে ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার নৌকা ব্যবহৃত হয়। সুতরাং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গোলপাতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও এর যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
সুন্দরবন শুধু গাছপালাতেই সমৃদ্ধ নয়, এবনে নানারকম জীবজন্তু ও পশুপাখি বসবাস করে। সুন্দরবনে মোট ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণি রয়েছে। সুন্দরবনের সবচেয়ে সব আকর্ষণ বিশ্ব বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এ বাঘের গায়ে রয়েছে ডোরা কাটা দাগ। এছাড়া এ বনে আরও উল্লেখযোগ্য প্রাণিগুলো হলোঃ চিত্রল ও মায়া হরিণ, বানর, বন্য শুকর, লোনা পানির কুমির, অজগর, কচ্ছপ, গুইসাপ, ডলপিন, উদ বিড়াল, বন বিড়াল, বন মোরগ ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। সুন্দরবন সংলগ্ন ছোট বড় নদ-নদীতে আছে কুমির, হাঙ্গর ও প্রায় ২১০ প্রজাতির মাছ। সুন্দরবন নানাবিধ পাখির এক অপরূপ আবাসস্থান। সুন্দরবনের প্রায় সর্বত্রই পাখি দেখা যায়। বস্তুত পাখিদের জন্য সুন্দরবন অভয়ারণ্য। সারা বছর ধরেই পাখির কলকাকলীতে সুন্দরবন মুখরিত থাকে। ধারণা করা হয় সুন্দরবনে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এদের মধ্যে সাদা চিল, সাদা ঈগল, শকুন, কানাবক, চিতা বক, বাজ, লাল চিল, মাছরাঙ্গা, মদনটাক, জঙ্গলা, ঘুঘু, শালিক, পেঁচা, শ্যামা, কোয়েল, দোয়েল, বন মোরগ, বুনোহাঁস, চাতক, গাংচিল, কাঠ ঠোকরা, কাদা খোঁচা, শংখচিল, পানকৌড়ি, কাকাতুয়া, কোকিল সহ বিচিত্র পাখির মিলনমেলা রয়েছে এবনাঞ্চলে। এসব বাদে প্রতিবছর শীত মৌসুম এলে ঝাকে ঝাঁকে নানা ধরনের অতিথি পাখির সমাগম ঘটে সুন্দরবনে।
মধু সুন্দরবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। এবনের মধু যেমন সুস্বাদু, তেমনি খাঁটি। বিভিন্ন ফুলের মৌসুমে বিভিন্ন মধু পাওয়া যায় সুন্দরবনে। এবনের মধুর মধ্যে খলসী ও সিঙুর ফুল হতে সংগৃহীত মধু স্বাদে ও গন্ধে সবচেয়ে উত্তম ও সুস্বাদু। তাছাড়া গেওয়া, গরান, বাইন, কেওড়া, পশুর, গর্জন, ধুন্দল, সুন্দরী ও অন্যান্য বৃক্ষের ফুল থেকেও মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সুন্দরবন হতে প্রতি বছর গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার মণ মধু আহরিত হয়। বাস্তবে বছরে ১৫ হতে ১৬ হাজার মণ মধু সুন্দরবন থেকে আহরিত হয়ে থাকে। মধু সংগ্রহের সময় মৌয়ালরা প্রচুর মোমও সংগ্রহ করে থাকে। যারা মধু সংগ্রহ করে তাদের মৌয়াল বা মৌলে বলা হয়। গ্রীষ্মকালে বিশেষ করে এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাস মধু সংগ্রহ মাস নামে পরিচিত। মধু মৌসুমে বন বিভাগের অনুমতি বা পাশ নিয়ে শত শত মৌয়াল দলবদ্ধ হয়ে ছোট-বড় নৌকাযোগে সুন্দরবনে যায় এবং মৌচাক ভেঙ্গেঁ মধু সংগ্রহ করে। সুন্দরবনে মধুর সন্ধান এক মজার ব্যাপার। মৌয়ালরা খড়কুটা একত্র করে ‘উকোঁ’ বা ‘তড়পা’ তৈরি করে সঙ্গেঁ রাখে। এতে আগুন ধরিয়ে জঙ্গলে ধুঁয়া ছেড়ে দিলে মৌমাছি বের হয়ে মৌচাকের দিকে এগিয়ে যায়। তখন মৌয়ালরা তাদের পিছু ধাওয়া করে মৌচাকের সন্ধান পায় এবং ওই মৌচাক ভেঙ্গেঁ মধু সংগ্রহ করে। জঙ্গলে মধু খোঁজা খুব কষ্টসাধ্য ও বিপদজনকও বটে। মধু খুঁজতে হয় গাছের উপরের দিকে নজর দিয়ে, তাই শ্বাপদ শংকুল সুন্দরবনে বিচরণকারী ভয়ংকর বাঘের দিকে মৌয়ালীদের লক্ষ্য সাধারনতঃ কম থাকে। একারণে প্রতি বছর মধু আহরণের সময় বেশ কিছু মৌয়াল বাঘের পেটে যায়।
সমগ্র সুন্দবনের প্রায় ৩১.১৫% এলাকা জুড়ে বয়েছে বিশাল জলভাগ। বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস এই সুন্দরবনের বৃহৎ জলরাশি জুড়ে রয়েছে মৎস্য সম্পদ। সুন্দরবনের এই মৎস্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়া, ১ প্রজাতির লবষ্টার ও ৪২ প্রজাতির মলাস্কা (শামুক-ঝিনুক)। এবনের মাছের মধ্যে ভেটকি, রূপচাঁদা, দাঁতিনা, চিত্রা, কাইন মাগুর, পাঙ্গাস, লইট্যা, ছুরি, মেদ, পারসে, পোয়া, তাপশি, ভাঙ্গঁন বা ভাঙ্গাল, বাগদা, গলদা, টেংরা, সামুদ্রিক ইলিশ, বাইলা, পুঁটি, চাপিলা, পটকা, বাঁশপাতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সুন্দরবনের নদ-নদী ও খালে সারা বছরই জেলেরা কম বা বেশি মৎস্য আহরণ করে। তবে মৎস্য মৌসুমে প্রায় ৪০ হাজার জেলের নৌকা মাছ ধারার জন্য বনে প্রবেশ করে। প্রতি বছর সুন্দরবনের জলভাগ থেকে আহরিত হয় হাজার হাজার মেট্রিক টন সাদা মাছ, বাগদা চিংড়ি, শুটিকি মাছ এবং জীবিত কাঁকড়া; যা বিদেশে রফতানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এছাড়া সুন্দরবন হতে যে বিপুল পরিমাণ শামুক ও ঝিনুক আহরিত হয় তা আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। সুন্দবনের মৎস্য সম্পদকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে, অপরদিকে দেশের জনগনের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সুন্দরবন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুরলার চর অবস্থিত। এটি বাগেরহাট জেলার শরনখোলা উপজেলার আওতাধীন। এই চর দুবলার জেলে পল্লী নামেও পরিচিত। দুবলার কর্মকান্ড মূলতঃ মৌসুমী মৎস্য আহরণ ভিত্তিক। দুবলার চরের কার্যক্রম সাধারণত প্রতি বছর অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলে। এ সময়ে এখানে মৎস্য আহরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ করা হয়। দুবলার চর থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মন শুটকী মাছ উৎপাদন হয়।
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বন্যপ্রাণির আনাগোনা ও সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। তাই প্রতি বছর বহু দেশী-বিদেশী পর্যটক, গবেষক, ছাত্র-শিক্ষক ও সাংবাদিক সুন্দরবনে আগমন করে। সুন্দরবনের
পর্যটন শিল্প সঠিকভাবে বিকশিত হলে এই খাত হতে অধিক পরিমাণে রাজস্ব আয় করা সম্ভব। সেই সাথে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বনের ওপর চাপ কমবে।
মূল্যবান প্রাণিজ, জলজ ও বনজ সম্পদ মিলিয়ে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের আঁধার এ সুন্দরবন শুধু জীব-বৈচিত্র্যের উৎস নয়। একই সঙ্গে সুন্দরবন সংলগ্ন বাওয়ালি, মৌয়াল, জেলে ও কাঁকড়া সংগ্রহকারী মিলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ তাদের জীবন ও জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।
সুন্দরবন শুধু সৌন্দর্য আর জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বনাঞ্চল নয়, এবনভূমি আমাদের সামুদ্রিক তথা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও নিরাপদ রেখেছে। প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়-ঝঞ্জার তীব্র আঘাত থেকে এবন আমাদের উপকূলীয় জনপদকে হাজার বছর ধরে রক্ষা করে আসছে। উপরন্তু, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ বন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সুন্দরবন আমাদের বনজ ও প্রানিজ সম্পদের এক বিশাল উৎস। একই সঙ্গেঁ বাংলাদেশের পরিবেশ ও অর্থনীতিতে এবনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর বিশ্ব সম্পদ ও ঐতিহ্য কমিটি ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে ৫২২তম বিশ্ব ঐতিহ্য (ডড়ৎষফ যবৎরঃধমব) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই বিশ্ব বিখ্যাত এবন কেবল বাংলাদেশের সম্পদ নয়- বিশ্ববাসীরও সম্পদ।
প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গড়ে ওঠা সুন্দরবন ক্রমশঃ সম্প্রসারিত হওয়াই ছির যুক্তিযুক্ত। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টোটা। সুন্দরবন সম্প্রসারিত হওয়া তো দূরের কথা বরং সংকুচিত হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশের প্রভাব পড়েছে গাছপালা ও প্রানিকুলের ওপর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বৈশ্বিক উষ্ণতা, পরিবেশ দূষণ, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সমুদ্রের লবণাক্ত পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক জোয়ারের প্রভাবে উপকুলে ভাঙন, সুন্দরী গাছে আগামরা রোগাক্রমন, সুন্দরবনের বৃক্ষরাজিতে মাঝে মধ্যে অগ্নিকান্ড ইত্যাদির সাথে সাথে বিভিন্ন সম্পদ আহরণের নামে মানুষের নিষ্ঠুরতা সুন্দরবনের পরিবেশ তথা জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ব্যাপকভবে গাছপালা হ্রাস পেয়ে বন ফাঁকা হতে চলেছে যার প্রভাব প্রাণিকুলের ওপরও পড়ছে। এর ফলে বিপন্ন হচ্ছে এবনের সৌন্দর্য, ঐতিহ্য আর ভবিষ্যৎ। সুন্দরবনের এই সংকটজনক অবস্থা উত্তরণের লক্ষে এবন সংরক্ষণ ও উন্নয়নে দ্রুত কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত আবশ্যক।
সুন্দরবন সারা পৃথিবীতে তুলনাহীন। বিশ্ববিখ্যাত সুন্দরবন কেবল বাংলাদেশের সম্পদ নয়-এবন এখন বিশ্ববাসীরও সম্পদ। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আমাদের গৌরব, গর্বের ধন। সম্পদ, প্রাচুর্যে ও বিচিত্র্যে পরিপূর্ণ এই সুন্দরবন। এর গৌরব, সৌন্দর্য ও সম্পদ সংরক্ষণের জন্য আমাদের আরও অধিক সচেতন ও সচেষ্ট হতে হবে। কেননা, বন বাঁচলে আমরা বাঁচব। বাংলাদেশ বাঁচবে। লেখক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা