বিধবা পূর্ণিমা রানীর সংসার চলে চা বিক্রি করে


প্রকাশিত : এপ্রিল ২০, ২০১৭ ||

খলিষখালী (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: নাম পূর্ণিমা রানী সরকার। বয়স প্রায় ৩৮। এক কন্যা সন্তানের জননী। স্বামী সন্তান নিয়ে পর্ণিমা রানী ভালোভাবে দিন কাটাতো। কিন্তু বিগত ৪বছর পূর্বে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায় স্বামী পরিমল সরকার। স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারে চলে আসে ঘোর অমাবস্যা। স্বামীর উপার্জনে সংসার চলত। কিন্তু সংসারে যদি কর্তা না থাকে তাহলে সংসার কিভাবে চলে? অভাব অনাটনের মধ্যে খেয়ে না খেয়ে এক মাত্র কন্যা কে নিয়ে বড় বিপদে পূর্ণিমা রানী সরকার। ভাতের অভাবে অবশেষে পরের জমিতে মজুরি কাজ করে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের সন্ধান মেলে। কিন্তু বর্ষার সময় যখন কাজ থাকে না তখন সংসার চালাতে বড় কষ্ট হয়। এভাবে চলতে থাকে পূর্ণিমা রানীর জীবন সংগ্রাম। হঠাৎ একদিন খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদে মাইকিংয়ের মাধ্যমে পূর্ণিমা জানতে পারেন ইউনিয়ন পরিষদে স্বপ্ন প্রকল্পের গ্রামীন হত দরিদ্র অসহায় নারীদের বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে। যথা সময়ে পূর্ণিমা রানী পরিষদে উপস্থিত হয়ে লটারির মাধ্যমে চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়ে স্বপ্ন প্রকল্পের সাথে যুক্ত হন। যোগদান করার পর ২শত টাকা দিয়ে একটি সঞ্চয় হিসাব খোলা হয়। ঐ টাকা থেকে ৫০টাকা করে প্রতি মাসে সঞ্চয় হিসাবে জমা দিত পূর্ণিমা রানী। দীর্ঘদিন টাকা জমা রাখার পর পূর্ণিমা রানী তার গ্রাম তালা উপজেলার নির্ভিত পল্লী গোপাল ডাঙ্গা গ্রামে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান দেন। বর্তমানে পূর্ণিমা রানীর প্রতিদিন ২/৩ শত টাকা রোজগার হয়। খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপির অর্থায়নে এবং সুশীলন এনজিও এর সহযোগিতায় গঠিত হয় এই স্বপ্ন প্রকল্প। খলিষখালী ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোজাফ্ফার রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় খুব সহজেই স্বপ্ন প্রকল্প তার সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছে। এদিকে চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোজাফ্ফার রহমান জানান স্বপ্ন প্রকল্পের উদ্দ্যেশ্য ছিল গ্রামীন হত দরিদ্র নারীদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা। শুধু পূর্ণিমা রানী নয় পূর্ণিমার মত আরো অনেক অসহায় নারী এই স্বপ্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো জানান এই প্রকল্পের ৮টি বাস্তব মুখি প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসা ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষন পেয়ে পূর্ণিমা রানী তার নিজের জীবন বাস্তবে কাজে লাগিয়েছে। শুধু তাই নয় পূর্ণিমা রানী সামাজিকভাবে তার এলাকায় মর্যদার সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি গ্রামে কোন ঘটনা ঘটলে পূর্ণিমা রানীকে সেই সালিশে ডাকা হয়। এর প্রকৃত উদাহরণ স্বপ্ন প্রকল্প। এদিকে এ প্রতিবেদক পূর্ণিমা রানীর কাছে তার জীবন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদে যদি স্বপ্ন প্রকল্প না আসত তাহলে আমার জীবনটা হয়ত আগের মত থাকত। পূর্ণিমা রানীর এখন একটায় স্বপ্ন তার দোকানকে আরো বড় করে তোলা  যায় এবং তার  মাধ্যমে আয় করে একমাত্র কন্যাকে নিয়ে ভালভাবে সংসার চালাতে পারে।