পাইকগাছা-কয়রায় ঝড়ো হাওয়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম দুর্ভোগে ৪৩ হাজার গ্রাহক


প্রকাশিত : এপ্রিল ২১, ২০১৭ ||

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: বুধবারের ঝড়ো হাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিপর্যয়। আর এ বিপর্যয়ের ফলে বুধবার দিনে ও রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পাইকগাছা-কয়রার ৪৩ হাজার গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েন। আর আগে গত ২ সপ্তাহ যাবৎ ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বুধবারের বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল বলে দাবি করেছেন।
সূত্র মতে, খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্থানীয় জোনাল অফিসের আওতায় বর্তমানে পাইকগাছা-কয়রায় ৪৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। যার মধ্যে আবাসিক ৩৯ হাজার ও বাণিজ্যিক সহ অন্যান্য গ্রাহক রয়েছে ৩ হাজার ৭শ। বর্তমান জোনাল অফিসের আওতায় পিক আওয়ার সহ প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১ থেকে ১২ মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ সরবরাহ রয়েছে বলে দাবী করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মোঃ ফজলুর রহমান। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট এ কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী চাহিদার শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে কোন প্রকার লোডশেডিং থাকার কথা না। অথচ পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে সমস্যা রয়েছে দীর্ঘদিন। কোন কোন সময় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বেশির ভাগ সময় নানা কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা যায়। যদিও এটাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লোডশেডিং বলতে রাজি নয়। উল্লেখ্য, এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও গত ২ সপ্তাহ যাবৎ সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা রাতে এবং দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। আর বুধবার কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার ফলে দেখা দেয় হালকা ঝড়ো হাওয়া। আর এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের উপর চরম বিপর্যয় দেখা দেয়। বুধবার সকাল থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় গোটা এলাকা। দিনে কয়েকবার এবং সন্ধ্যায় অসংখ্যবার যাওয়া আসা করলেও সারা রাত বিদ্যুতের কোন দেখা মেলেনি। এতে একদিকে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয় সাধারণ মানুষের বৈদ্যুতিক সংশ্লিষ্ট দৈনন্দিন কার্যক্রম। স্থবির হয়ে যায় উৎপাদন মুখি সকল কার্যক্রম। আর লেখাপড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় স্কুল ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী অমৃকা সাহা নিশা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ এতটাই অস্বাভাবিক রয়েছে যে লেখাপড়া ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। চিংড়ি বিপনন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ জালাল উদ্দীন জানান, বর্তমানে এই মূহুর্তে চিংড়ি উৎপাদনের ভরামৌসুম চলছে। প্রতিদিন এলাকা থেকে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আর এ সকল চিংড়ি ও মাছের গুণগত মান সঠিক রাখার জন্য বরফের কোন বিকল্প নেই। অথচ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় বরফ (আইস) উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চিংড়ি চাষী এবং ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। অপরদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন যাওয়া আসার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে কম্পিউটার ও প্রেস ব্যবসায়ী বায়েজিত জানান। এ ব্যাপারে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ সরবরাহ থাকায় বিদ্যুতের কোন প্রকার লোডশেডিং নেই। তবে চলমান সংস্কার কাজ, অধিক দূরত্বে বিদ্যুৎ লাইন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ লাইনের বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে মাঝে মধ্যে সরবরাহ বিঘিœত হয়। আর বুধবার বিদ্যুতের যে বিপর্যয় দেখা দেয় এর জন্য ঝড়ো হাওয়াকে দায়ী করে বিদ্যুৎ বিভাগের এ কর্মকর্তা জানান, দেশের কোথাও এত অধিক দূরত্বে বিদ্যুৎ লাইন ব্যবস্থা নাই, যার ফলে ঝড় বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে লাইনের বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি দেখা দেয়। বুধবারের ঝড়ো হাওয়ায় লাইনের বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি দেখা দেয়। যা চিহ্নিত করে মেরামত করতে যথেষ্ট সময় লাগে। এ জন্য এদিন দিনে এবং রাতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ডুমুরিয়ার আংশিক, তালা, পাইকগাছা ও কয়রা এলাকার জন্য যদি বিদ্যুতের একটি গ্রীড সাব-ষ্টেশন স্থাপন করা যায় তাহলে অত্র এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। আর বিশেষজ্ঞদের এমন অভিমত বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন এলাকাবাসি।