কলারোয়া বঙ্গবন্ধু কলেজে পরীক্ষায় প্রথম হয়েও অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাচ্ছেন না আবদুল ওহাব


প্রকাশিত : মে ৮, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারি বিধি মোতাবেক পরিচালিত পরীক্ষা ও সাক্ষাতকারে প্রথম স্থান লাভ করেও কলারোয়া বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাচ্ছেন না আবদুল ওহাব। গত ছয়মাস যাবত তাকে নিয়োগ না দিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে আবদুল ওহাবের বিরুদ্ধে বিএনপির  রাজনীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে একটি নাশকতার মামলাও দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সোমবার এ ব্যাপারে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলেজটির পরিচালনা পরিষদ সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক এমএ ফারুক। এ সময় অধ্যক্ষ পদপ্রার্থী আবদুল ওহাব উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে এমএ ফারুক এসবের পেছনে একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির হাত রয়েছে দাবি করে বলেন তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যয়নপত্র পাঠিয়ে এই নিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কলারোয়া বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নজিবুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করায় তার স্থলে অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এ ব্যাপারে  ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত পাঁচ সদস্যের নিয়োগ বোর্ডের হয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মহাপরিচালক যথাক্রমে অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন পরিচালনা পরিষদ সভাপতি এএম ফারুক, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অসীম কুমার ও শিক্ষক প্রতিনিধি নিলুফার ইয়াসমিন। তিনি বলেন, পরীক্ষা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতে কলারোয়ার যুবলীগ নেতা শাহজাদা এক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সার্কিট হাউস  ঘেরাও করে তিনজন প্রার্থীকে সেখান থেকে বের করে দেন। এ সময় পুলিশি হস্তক্ষেপে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। তিনি বলেন, শাহজাদা দাবি করেন পরীক্ষায় আবদুর রহিমকে প্রথম স্থান দিতে হবে অন্যথায় পরীক্ষা হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, নিয়োগ বোর্ডের লিখিত পরিক্ষা ও সাক্ষাতকারে  প্রথম হন আবদুল ওহাব। এ ছাড়া দ্বিতীয় হন মো. মাহবুবুর রহমান ও যৌথভাবে তৃতীয় হন আবদুর রহিম ও বখতিয়ার রহমান। নিয়োগ বোর্ডের এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কলেজ পরিচালনা পরিষদ এতে অনুমোদন দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে কাগজপত্র পাঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় নিয়োগ বিষয়ক চুড়ান্ত কাগজপত্র তৈরির মূহুর্তে তালা কলারোয়ার একজন জনপ্রতিনিধি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক চিঠি পাঠিয়ে বলেছেন, আবদুল ওহাব স্থানীয় উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি। তাকে নিয়োগ দিলে এলাকায় উত্তজনা বৃদ্ধি পাবে। তিনি এই নিয়োগ বন্ধ রাখার সুপারিশ করেন। ঠিক একই সময়ে গত ৭ জানুয়ারি  আবদুল ওহাবের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানার একটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অধ্যাপক এমএ ফারুক কলারোয়া বিএনপি ও কলারোয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের লিখিত প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলেন অধ্যক্ষ প্রার্থী আবদুল ওহাব কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত নন। তার বিরুদ্ধে কখনও কোথাও মামলা ছিল না, নেইও। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে ওই জনপ্রতিনিধি তাকে (এমএ ফারুককে) প্রলোভন দেখিয়ে  প্রকাশ্যে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ হিসাবে আবদুর রহিমকে নিয়োগ দিলে আমি আপনাকে ১০ লাখ টাকা দেব। এরপরই তিনি বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে সাক্ষাত করে তা জানিয়ে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল ওহাবের অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ  করেছেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে দেয়া এমএ ফারুকের বক্তব্য নাকচ করে অধ্যাপক আব্দুর রহিম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ফারুক সাহেবের বক্তব্যটি আপত্তিকর। তালা কলারোয়ার সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ আমাকে বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে আব্দুর রহিমকে নিয়োগ দেয়ার জন্য ও নিয়োগের বিনিময়ে রহিম দশ লক্ষ টাকা দেবেন বলে প্রস্তাব করেন।’ এমপি’র ডিও লেটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিতে ডিগ্রী পর্যায়ের কলেজের ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রার্থী আব্দুল ওহাব উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন যা বিধি বহির্ভুত।