গাবুরায় চেয়ারম্যানের আধিপত্য না মানায় যুবলীগ নেতাকে মারপিট করে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ


প্রকাশিত : May 14, 2017 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আধিপত্য মেনে না নেওয়ায় এবার যুবলীগ নেতাকে মারপিট করে মাদক মামলায় ফাঁসালো গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই যুবলীগ নেতা শেখ নূরুল ইসলাম গাবুরা এলাকার মৃত. শেখ আব্দুস সামাদের পুত্র।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেখ নূরুল ইসলাম শনিবার সকাল ১০টায় গাবুরা এলাকায় শ্যামনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা (বাংলা ভাই)সহ জেলা ও উপজেলা যুবলীগ, আ.লীগ, তাঁতীলীগ, নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি সর্বস্তরের যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গঠনে মুজিব সৈনিকদের করণীয় শীর্ষক সভার আয়োজন করেন। এ উপলক্ষ্যে তিনি শুক্রবার দিন থেকে অনুষ্ঠানস্থলের সাজসজ্জা শুরু করেন। এদিকে উক্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আলী আযম টিটু।

যে কারণে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামকে হুশিয়ারী দিয়ে বলেন উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলা ভাইকে কেন দাওয়াত করেছিস। তোর অস্তিত্ব বিলিন করে দেবো। এ পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে অনুষ্ঠান স্থলের পাশ থেকে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আতাউর, সিদ্দিকসহ ২০/৩০ জন নূরুল ইসলাম আটক করে নিয়ে যায়। এসময় তারা অনুস্থান স্থল, তার মৎস্যঘেরে ভাংচুর-লুটপাট করে এবং অনুষ্ঠানে যাবতীয় সরঞ্জামাদি ও তার কাছে থাকা ২৬ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। এরপর সুবিধা মত স্থানে নিয়ে তারা নুরুল ইসলামকে লোহার রড দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। এতে নূরুল ইসলামের ডান চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। এরপর চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে ১৪ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১২ পুরিয়া গাজা দিয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এসময় তার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে জানান তারা।

এলাকাবাসী জানান নুরুল ইসলামকে আটক করে মারপিটের সময় থানা পুলিশকে খবর দিলেও পুলিশ তাকে উদ্ধারের এগিয়ে আসেনি। অথচ চেয়ারম্যান কর্তৃক ম্যানেজ হয়ে থানা পুলিশ তার নামে একটি মামলা রেকর্ড করেছে। যার নং- ২৪। কিন্তু মামলা হওয়া উচিত ছিলো চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

আহত নুরুল ইসলামের মাতা নসিরন বিবি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে কোন দিন একটি বিড়িও মুখে দেয়নি। শুধু মাত্র চেয়ারম্যানের কথা না শোনায় তাকে মারপিট করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার ছেলে যুবলীগের একজন কর্মী। অথচ বর্তমান সরকারের সময়ে তাকে এভাবে নির্দয় ভাবে মার খেতে হয়েছে, আবার মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি জেনেও শ্যামনগর থানা পুলিশ ওইদিন রাতে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তার কলিজার টুকরাকে এভাবে মারপিট ও মিথ্যা মামলা ফাঁসানোর ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ওই সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

আহত নূরুল ইসলাম বলেন, আমি চেয়ারম্যানের কর্তৃত্ব না মানার কারণে আজকে আমার উপর এধরনের নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। আমি প্রশাসনসহ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অঙ্গসংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে এঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

অপর দিকে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে এলাকার শত শত মানুষের ছুটে আসেন। এসময় তারা বলেন, নুরুল ইসলামকে আমরা কোন দিন একটি বিড়িও খেতে দেখিনি অথচ তার নামে ইয়াবা ও গাজা বিক্রির মামলা। এটি কিভাবে সম্ভব হতে পারে এ প্রশ্ন আপনাদের কাছে?

এঘটনায় শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন নুরুল ইসলামকে ১৪ পিচ ইয়াবা ও ১২ পুরিয়া গাজাসহ থানায় সোপর্দ করেছে। আবার তিনি নিজেই বাদী হয়ে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের মাধ্যমে আমরা সঠিক ঘটনা জানতে পারবো।

তবে শুক্রবার রাতে নুরুল ইসলামকে থানা আনা হলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়নি। তার শারিরীক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তাকে কোন প্রকার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাংলা ভাই বলেন, যারা চেয়ারম্যান টিটুর মতের বিরোধীতা করেন তাদেরকে মারপিট ও মিথ্যা মামলার বোঝা মাথা নিতে হয়। টিটু চেয়ারম্যান প্রশাসনের সহযোগিতায় অত্র ইউনিয়নের সকল মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। তার আনুগত্যা প্রকাশ না করবে তাকে হয় জেলে যেতে হবে তা না হলে নির্যাতনের শিকার হতে হবে। নুরুল ইসলাম তার আনুগত্যা প্রকাশ করেনি বলে আজ তার এই অবস্থা। সে এখনো পর্যন্ত থানায় রয়েছে। সে গুরুতর আহত হলেও পুলিশ তার চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এলাকাবাসী ওই অত্যাচারী চেয়ারম্যানের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জি এম আলী আযম টিটু বলেন, নুরুল একজন মাদক ব্যবসায়ী। আমার লোকজন তাকে মাদকসহ আটক করে থানায় দিয়েছে মাত্র। এ ছাড়া আর কিছু না।