আইরিশদের িবপক্ষে বাংলাদেশের সহজ জয়


প্রকাশিত : মে ২০, ২০১৭ ||

খেলার খবর: আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে কিউইদের ধারে কাছেও ছিল না টাইগাররা। সেই বাংলাদেশই পরের ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরিয়েছে। আয়ারল্যান্ডকে এক কথায় ওয়ানডে খেলা শিখিয়েছে মাশরাফির দল। ১৮১ রানে তাদের গুটিয়ে দিয়ে ২৭.১ ওভারে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।  এই জয়ে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই রইলো বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড।
১৮২ রানের ছোট লক্ষ্যে খেলতে নেমে নির্ভারই ছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। বোলিংয়ে আইরিশদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও তাদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন দুজন। দুই ওপেনারের ব্যাটেই ১০ ওভারে ৬৯ রান পার করে টাইগাররা। তবে ১৪তম ওভারে ছন্দ আর ধরে রাখতে পারেননি ওপেনার তামিম। ৪৭ রানে কেভিন ও’ব্রায়েনের লাফিয়ে ওঠা বলে তাকে তালুবন্দী করেন নিয়েল ও’ব্রায়েন। তার ৫৪ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার। তামিম কিছুটা সতর্ক ভঙ্গিতে খেললেও তার চেয়ে ঝড়ো গতিতে খেলেন ছন্দে ফেরা সৌম্য। ৪০ বলেই করে ফেলেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি। ধীরে ধীরে শতকের কাছেই ছিলেন। কিন্তু ৮৩ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। তার সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৬ রানের জুটি গড়েন সাব্বির। ৩৫ রানে তাকে ডকরেলের হাতে তালুবন্দী করান ম্যাককার্থি। যদিও শেষ দিকে মুশফিক এসে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ২ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জয় তুলে নেয় ২৭.১ ওভারে।

এরআগে বাংলাদেশ আইরিশদের গুটিয়ে দেয় ১৮১ রানে। এমন ম্যাচে অভিষেক ওয়ানডেতেই চমক দেখিয়েছেন সানজামুল। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে এড জয়েসকে হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে লং অনে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দেন আয়ারল্যান্ডের এ ব্যাটসম্যান। এরপর ৪৪তম ওভারেও ভেলকি দেখান তিনি। ব্যারি ম্যাকার্থিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ১২ রানে তাকে সাজঘরের পথ ধরান সানজামুল। বিপর্যস্ত সেই আইরিশদের শেষ দিকে একাই টেনে নিচ্ছিলেন জর্জ ডকরেল।। কিন্তু ৪৭তম ওভারে তাকেও বিদায় করেন অধিনায়ক মাশরাফি। মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৫ রান করেন তিনি। একইওভারের চতুর্থ বলে সেই মুশফিকের হাতেই শেষ ব্যাটসম্যান পিটার চেজকে তালুবন্দী করান মাশরাফি। আয়ারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ১৮১ রানে।

এর আগে অবশ্য আইরিশদের ভিত্তি নাড়িয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন স্টারলিংয়ের উইকেট।  দ্বিতীয় স্পেলেও তিনি ফেরান আয়ারল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান নিয়াল ও’ব্রায়েনকে (৩০)। থার্ড ম্যানে তামিম ইকবালের সহজ ক্যাচ হন আইরিশ ব্যাটসম্যান। পরের বলে কেভিন ও’ব্রায়েনের উইকেটটি পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। কয়েক ইঞ্চির জন্যে সাব্বির রহমান ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। বাংলাদেশ আউটের আবেদন করলে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল মাটিতে লেগে সাব্বিরের হাতে গেছে। সেই মোস্তাফিজ ৩১.৪ ওভারে আর ব্যর্থ হননি। তার বলে কেভিনকে তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন।  কেভিন বিদায় নেন ১০ রানে। এক ওভার বিরতি দিয়ে ফের উইকেট নেন মোস্তাফিজুর। বিতর্কিতভাবে দেওয়া এই আউটে ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম।

এই সিরিজে বাকিরা সাফল্য পেলেও নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিব। কিন্ত এই ম্যাচ দিয়েই ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম উইকেট পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে (১২) বোল্ড করেন। মোসাদ্দেক হোসেন তার আগে নেন আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট। আগের ওভারেই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে শর্ট এক্সট্রা কভারে জীবন দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে মাশরাফি মুর্তজাকে উইকেটবঞ্চিত করার পর নিজেই সেই আক্ষেপ কাটান তিনি। ক্রিজে শক্তিশালী হয়ে ওঠা আয়ারল্যান্ড অধিনায়ককে ফিরতি ক্যাচ বানিয়েছেন মোসাদ্দেক। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রানে আউট হন পোর্টারফিল্ড।

শুক্রবার টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুটা দারুণভাবেই করে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওভারে রুবেল হোসেন করেন মেডেন। আর পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। তাদের কোনও রান না দিয়েই উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি পেসার। সেই মুস্তাফিজই ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। অধিনায়ক মাশরাফি ৬.৩ ওভারে ১৮ রানে দুই্ উইকেট  ও ৫ ওভারে ২২ রান খরচে দুই উইকেট নেন সানজামুল। আর একটি করে নেন মোসাদ্দেক ও সাকিব আল হাসান।