স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা ও হুমকির অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে


প্রকাশিত : মে ২০, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধ: কলারোয়ায় অবৈধভাবে স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা ও হুমকি-ধামকির প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার ঝিকরা গ্রামের মৃত শেখ আবু জাফরের স্ত্রী ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মীর হায়তুন্নবী মেয়ে মোছা. হোসনেয়ারা খাতুন।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার স্বামী যখন মারা যান, তখন আমার শ্বশুর বেঁচে ছিলেন। স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় জমি জমা ভাগ বন্টন করা হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর তার ৪ ছেলে ও দুই পোতা (আমার দুই ছেলে)’র নামে ১৮ শতক জমি দানপত্র করে দেন। দানপত্র সূত্রে আমার দুই ছেলের নামে ৪ শতক জমি ১৯৯০ সালে রেকর্ড হয়। সে মোতাবেক আমি উক্ত জমিতে দীর্ঘ ২৭ বছর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি।
আমার শ্বশুরের ২য় স্ত্রী মৃত রোকেয়া খাতুনের পূর্বের পক্ষের সন্তান লাবসা এলাকার মৃত শেখ আশু’র ছেলে শেখ হাফিজুর রহমান স্থানীয় শেখ বদিউজ্জামান ও আমজাদ হোসেনের উস্কানিতে উক্ত সম্পত্তি জোর পূর্বক দখলের পায়তারা শুরু করে। তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে সফল করার জন্য বিগত ২০১৩ সালের নাশকতা মামলার আসামি ঝিকরা গ্রামের শেখ জিল্লুর ছেলে আশিকুর রহমান বাপ্পি, রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে আবু সাঈদ গংদের ব্যবহার করে একের পর হুমকি-ধামকি, মারপিট, ভাংচুর অব্যাহত রেখেছে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, শেখ হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে গত ১৯শে এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ৮/১০ সন্ত্রাসী আমার বাড়িতে প্রবেশ করে। আমার  পরিবারে উচ্ছেদের লক্ষ্যে বসত বাড়ি ভাংচুর, নগদ ২০ হাজার টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। এ সময় আমার ছেলে ও বৌদের মারপিট করে শ্লীলতাহানি ঘটনায়। এঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করি। এ মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক উক্ত সম্পত্তিতে আসামীদের না যাওয়ার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু উল্লেখিত ব্যক্তিরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় আমার বসতবাড়ির উপর হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এছাড়া  আমজাদ হোসেন   ২০১৪ সালে একটি প্রাইভেটকারে ফেন্সিডিল নিয়ে আসার সময় পুলিশের হাতে আটক হয় সে।
তিনি আরো বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার। অথচ একজন চোরাকারবারি ও তার সহযোগি কর্তৃক আজ আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।  আমি উক্ত ষড়যন্ত্রকারী হাফিজুর, আমজাদসহ তার সহযোগিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে প্রধান মন্ত্রী ও সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।