চোরাচালান ও হুন্ডির টাকায় ব্রহ্মরাজপুরের নব্য কোটিপতি বিকাশ বেপরোয়া: সরকারি রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি


প্রকাশিত : মে ২০, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি সড়কের ব্রহ্মরাজপুর বাজারের দক্ষিণপাশে সড়কের উপর পানি থৈ থৈ করছে। সড়ক বিভাগ এ পর্যন্ত তিন ট্রাক পরিত্যক্ত খোয়া ফেলেছে। তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। কারণ পরিত্যক্ত ঘ্যাসের চ্যাং দেয়ার ফলে সাইকেল, মটরসাইকেল, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নারী ও শিশু সহ আহত হচ্ছে অনেকেই। জামা কাপড় ভিজে নষ্ট হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারছে না।

 

সড়ক দখল করে রাখা হয়েছে ইট বালি খোয়া। সড়কের এজিংসাইড ব্যারিকেট দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় বিকাশ ঘোষ ও সুভাষ ঘোষেরা। রাস্তা বন্ধ করার কারণ শুনতে গেলে সাধারণ মানুষের উপর তেড়ে আসছেন বিকাশ ঘোষ ও সুভাষ ঘোষগং। বাঁশখুটি ও কাঠের তক্তা দিয়ে সরকারি রাস্তার পথ বন্ধ করে দেয়ায় ডিবি গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বাধা দেয় বিকাশ ঘোষ ও সুভাস ঘোষ।

 

 

স্কুলের কয়েকজন ছাত্রী বাধা পেয়ে সড়কের পানি ঠেলে পার হবার সময় পড়ে গিয়ে বইখাতা ভিজে যায়। হাতে পায়ে আঘাতও পায় তারা। এমন পরিস্থিতিতে স্কুলের পিওন রবিউল ইসলাম মন্টু সরকারি রাস্তার উপর বিকাশ ঘোষের দেয়া ব্যারিকেট তুলে দিতে বললে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে সেখানে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ সৈয়দ আলী হাজির হয়ে বিষয়টি সরেজমিনে দেখে বিকাশ ঘোষকে সরকারি রাস্তার উপর থেকে সরঞ্জাম দুই ঘন্টার মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করায় এবং মিথ্যাচার করায় এলাকাবাসি এ সময় বিকাশ ঘোষকে ভৎসনা করেন। এদিকে এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিকাশ ঘোষ মিথ্যা অভিযোগ এনে সদর থানায় স্কুলের পিওন রবিউল ইসলাম মন্টুর নামে জিডি করেছে। এতে এলাকাবাসির মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে বিকাশ ঘোষ। চোরাচালান ও হুন্ডির টাকার জোরে বিকাশ ঘোষ এলাকার মানুষকে যখন তখন অপমান অপদস্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

এলাকাবাসি জানায় বিকাশ ঘোষ কদিন আগেও বাড়ি বাড়ি ফেরিকরে দুধ বিক্রি করতো। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে তার বোন বিয়ে দেয়া। বোনাইয়ের সাথে চোরাচালান ও হুন্ডির ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছে বিকাশ ঘোষ। টাকার জোরে সে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসির। এলাকাবাসি আরো জানায়, মানুষ সরকারি রাস্তায় হেঁটেও পার হতে পারছে না। শুধু তাই নয়, বিকাশ ঘোষ ও সুভাষ ঘোষ মার্কেট করার কারণে তাদের মার্কেটের সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের বেশ কয়েকটি বড় আকৃতির মেহগনি ও শিশুচটকা গাছ পরিকল্পতভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে। গাছের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে শিকড় বেরিয়ে যাচ্ছে। এভাবে সড়ক দখল চলতে থাকলে গাছগুলো খুব শিঘ্রই মারা যাবে। বিষয়টি কে দেখবেন? এলাকাবাসি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।