সদর ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিবাহ


প্রকাশিত : জুলাই ১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানব সম্পদ উন্নয়নের স্বার্থে এদেশে নারী-পুরুষের আইন সম্মত বিবাহের বয়স ১৮ ও ২১ বছর হলেও প্রতিদিনই ঘটছে বাল্য বিবাহের ঘটনা। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল পড়ুয়া শিশুরাই বেশী বাল্য বিবাহের শিকার হয়। ফলে বেশীরভাগ মেয়েদের শিক্ষা জীবন শিশু বয়সে শেষ হয়ে যাচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার শুরু থেকেই বাল্যবিবাহ ও অন্যান্য আর্থ-সামাজিক কারণে কন্যাশিশুরা ঝরে পড়ছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা জীবন সফলভাবে শেষ করার আগেই দেশের বেশীরভাগ কন্যা শিশুরা বাল্যবিবাহের ফাঁদে পড়ে শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে বাধ্য হচ্ছে। ঠিক এমন সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসন যখন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই-সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নে আরো একটি বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হয়েছিল।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন (সজল)’র হস্তক্ষেপে এ বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেলো রায়পুর স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়–য়া এ স্কুল ছাত্রী। শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের নির্দেশনায় সদর উপজেলা প্রশাসন এ বাল্যবিয়ে বন্ধ করে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন (সজল) এই শিক্ষার্থীকে ১৮ বছর উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের কোন পরিকল্পনা আয়োজন করিবেন না মর্মে মেয়ের বাবা খোরশেদ সরদারের নিকট থেকে মুচলেকা নেন।
এব্যপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন (সজল) বলেন, ‘বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। বাল্য বিবাহ বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নানামুখী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আমরা তা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই না সদর উপজেলায় আর কোন বাল্য বিবাহ হোক। তিনি আরো বলেন, আমরা খবর পেয়ে মেয়েটির বাল্য বিয়ের চেষ্টা বন্ধ করেছি। এখন দেখার বিষয় মেয়েটির শিক্ষা জীবন রক্ষা পায় কি না। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমরা এটাও চেষ্টা করছি তাকে যেন অন্যত্র নিয়ে ১৮ বছর না হওয়ার আগে গোপনে বিয়ে দেয়া না হয়। তাকে বাল্যবিয়ের ঝুকিতে থাকা মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসুন আমরা আমাদের মেয়ে শিশুদের শিক্ষা প্রাপ্তি নিশ্চিত করি। তাদের অপরিণত বয়সে বিয়ের দেয়ার চেষ্টা না করি। শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যেন তাদের জীবন গড়তে সহায়তা করতে পারি।