সংবাদ সম্মেলনে ব্রহ্মরাজপুরের প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক বললেন হাইব্রীড নেতারা কেটে নিলেন তার চটকা গাছ


প্রকাশিত : জুলাই ১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ওরা সব হাইব্রীড নেতা। আগে কেউ স্মাগলিং করতো। কেউ করতো ডেকোরেশনের ব্যবসা। এখন দেখি আওয়ামী লীগ যুবলীগের বড় বড় নেতা। আজ তারাই আমার তিনটি চটকা গাছ কেটে নিয়েছে। আমি একজন দরিদ্র প্রতিবন্ধী মানুষ। এ ক্ষতি কিভাবে পুষাবো আমি।
শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন সদর উপজেলার ব্রম্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার গ্রামের প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক মুনছুর আলি। তিনি বলেন তারা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে আমার গাছ তিনটি কেটে নিলো। অথচ জেলা চেয়ারম্যান তাদেরকে গাছ কাটতে বলেন নি। তিনি বরং দুই পক্ষকে বসিয়ে মীমাংসা করার কথা বলে দিয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ আবদুর রশীদকে। কিন্তু হাইব্রীড নেতারা তা অমান্য করে পুলিশের ভয় দেখিয়ে গাছগুলি কেটে ফেলেছে।
মুনছুর আলি বলেন, আমি বড়খামারের জব্বার কারিকরের কাছে আমার নিজের জমি থেকে দুই শতক বিক্রি করেছিলাম। ওই জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো ছিল। সম্প্রতি মাপ জরিপে ওই জমিতে থাকা তিনটি বড় আকারের চটকা গাছ আমার ভাগে পড়ে। ওই গাছগুলি তিনি অহেতুক দাবি করতে থাকেন। বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য ব্রহ্মরাজপুর ইউপি চেয়ারম্যানের উপর ভার দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান বলেন, ঈদের পরে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেবেন’।
মুনছুর আলি বলেন, এসব কিছুর তোয়াক্কা না করে আজ শুক্রবার খুব সকালে জব্বার কারিকরের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন যুবলীগ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন লিটন, হাইব্রীড নেতা স্মাগলার লুৎফর রহমান ও কাদেরের হুকুমে শ্রমিকরা তার তিনটি চটকা গাছ কেটে ফেলেছে। তিনি বলেন, তারা বারবার পুলিশের ভয় দেখায় আমাকে। আরও বলে নজরুল সাহেব গাছ কাটতে বলেছেন। অথচ জেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তাদের গাছ কাটতে বলেন নি। তিনি রশীদ সাহেবকে দায়িত্ব দেন নিষ্পত্তি করতে। তারা সে সব কথা না শুনে গাছ কেটে নিয়েছে।
মুনছুর আলি এর প্রতিকার দাবি করেছেন সাতক্ষীরা পুলিশ মহোদয়ের কাছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিবন্ধী ছেলে মো. সলেমান ও চাচাতো ভাই মো. শাহজাহান।