তালায় কপোতাক্ষের নাব্যতা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : জুলাই ১৪, ২০১৭ ||

তালা (সদর) প্রতিনিধি: কপোতাক্ষের নাব্যতা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে তালা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালা উপজেলা পানি কমিটি ও এলাকাবাসির পক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পানি কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. ময়নুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের (১ম পর্যায়)র’ আওতায় গত বছর পাইকগাছার কাশিমনগর থেকে নিম্নে বালিয়া পর্যন্ত ১৭ কি.মি. নদী খনন সমাপ্ত না হওয়ায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নদী খনন বিশেষ প্রভাব ফেলেনি। ইতোমধ্যে পাউবোকে ম্যানেজ করে অবশিষ্ট নদী খনন কাজ যেনতেনভাবে সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের জুনে কাজের মেয়াদ শেষ হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী বালিয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত খননকাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। এতে করে চলতি বর্ষা মৌসুমে নতুন করে জলাবদ্ধতার আশংকায় রীতিমত আতংতে রয়েছেন নদী উপকূলবাসি।
বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, প্রকল্পে উপজেলার পাখিমারা বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু করার পর নদী খননের কথা থাকলেও তা না মেনে বিভিন্ন অংশে দায়সারা কাজ করছে কতৃপক্ষ। এতে নদী খননে কোন উপকার তো হবেইনা উপরন্তু সরকারের কোটি কোটি টাকা পানিতে যাচ্ছে। নিম্ন অববাহিকা থেকে নদী খনন করতে করতে উপরের দিকে যেতে হবে। এসময় তিনি যান্ত্রিকভাবে নদী খননের পাশাপাশি খনন কাজে এলাকার শ্রমিকদের যুক্ত করে শ্রমিকদের দিয়ে খননকৃত মাটি দিয়ে দু’পাশে মজবুত বাঁধ নির্মাণ পূর্বক অভ্যন্তরীণ পানি নিস্কাশনের জন্য বাঁধের উপর আউটলেট পাইপ স্থাপনের দাবি জানান।
অথচ প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী টিআরএম চালু না করে এমনকি নি¤œ অববাহিকা থেকে খনন শুরু না করে পাউবোর যোগসাজসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো দায়সারাভাবে নদী খনন করেছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, খনন ও বাঁধ নির্মাণ কাজে শ্রমিকদের নিযুক্ত এবং বাঁধে আউটলেট পাইপ বসানো হয়নি। কেবলমাত্র লোক দেখানো দুটি স্থানে ৬-৭ ফুট করে এলাকায় মাটি না ফেলে ফাঁকা রাখা হয়েছে। তাছাড়া প্রকল্পের মূল ডিজাইন পরিবর্তন করে নদীকে অপ্রশস্ত করা হয়েছে এবং সাইড স্লোপ হ্রাস করা হয়েছে। সর্বশেষ যে ১৭ কি.মি. নদী খনন করা হয়েছে তাও অসম্পূর্ণ। অনেক জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি, ক্রসবাঁধগুলো সম্পূর্নভাবে অপসারণ করা হয়নি গতবছর বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টির পানির তোড়ে ক্লোজারগুলোর একাংশ ভেঙ্গে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত সেগুলো তারা সম্পূর্ণ অপসারণ না করে সেভাবেই রেখে দিয়েছে। যার শেষাংশের খনন কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে।
ফলে কপোতাক্ষ নদের উজানের বর্ষার পানি খনন হওয়া অংশে এসে চাপ সৃষ্টি করবে এবং নিম্নের খনন অসমাপ্ত এলাকায় বাঁধাগ্রস্থ হযে পানি নিস্কাশিত হতে পারবে না। বিস্তীর্ণ এলাকার পানি অপ্রশস্থ নদীর মধ্যে এসে বাঁধ ভেঙ্গে অথবা উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত করবে। পাশাপাশি দু’পাশের স্তুপকৃত মাটির বাঁধে প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী আউটলেট পাইপগুলো স্থাপন না করার কারণে অভ্যন্তরীণ পানি নিস্কাশিত হতে পারবে না। ফলে অববাহিকায় বসবাসকারী প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ আবারো জলাবদ্ধতা ও বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা জোরদার হয়েছে। যদি প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ করা হতো তাহলে যথাসময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন ও আউটলেট পাইপগুলো স্থাপন করা যেত। নিম্ন অববাহিকা থেকে যদি নদী খনন কাজ শুরু করলে পূর্বের এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতোনা। এমনকি আতংকেরও কোন কারণ থাকতনা। এমন অবস্থায় পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, পানি নিস্কাশনের জন্য ক্রসবাঁধগুলো অতি দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে বালিয়া কাট পয়েন্ট সংলগ্ন পুরানো ধারার সাথে সংযোগ দেয়া। খননকৃত খাল ও নদীর দু’পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধসমূহ মেরামত করা এবং অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধে আউটলেট পাইপ স্থাপন করা। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আজিজ-সুশীল পল্লী সংলগ্ন নদীর ধার দিয়ে বাঁধ না দেয়ায় ভরা জোয়ারে পল্লীর বসতি ঘর প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। যে কারণে উক্ত স্থানে বাঁধ নির্মাণ করা। নদী খনন, স্তুপকৃত মাটির ব্যবস্থাপনা, সেকশনের ক্রস বাঁধ ও পাটা-জাল অপসারণ (নতুনভাবে স্থাপিত) এবং আউটলেট পাইপগুলো স্থাপনের কাজ যথাসময়ে সমন্বয়পূর্বক সম্পন্ন করা। টিআরএম বিল অভ্যন্তরে স্থাপিত নেট-পাটা অপসারণ করার মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে বিল ব্যবস্থাপনা করারও তাগিদ দেন।
জনপদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে পানির প্রবাহ সচল রাখতে খননে মূল নক্সার প্রতিফলনের পাশাপাশি কাজের গতি বৃদ্ধিরও তাগিদ দেয়া হয়। জুন’২০১৭ চলমান প্রকল্পের মেয়াদ (প্রথম পর্যায়) শেষ হলেও খনন কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর বর্ধিত করা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করতে হবে। এখনই এ বিষয়ে এলাকার জনগণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে। জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে আলোচনা ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহন কোনভাবেই কাম্য নয় বলেও মত দেন তিনি।