স্মৃতির মণিকোঠায় সাংবাদিক আনোয়ার আহমেদ


প্রকাশিত : জুলাই ১৬, ২০১৭ ||

মো. আবদুর রহমান
সদ্য প্রয়াত খুলনার ‘দৈনিক জন্মভূমি’র বার্তা সম্পাদক জনপ্রিয় সাংবাদিক আনোয়ার আহমেদের সাথে আমার প্রথম  পরিচয়ের দিন তারিখ ঠিক মনে নেই। তখন তিনি খুলনার প্রথম ‘দৈনিক জনবার্তা’র বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। আজ থেকে প্রায় ২৭/২৮ বছর আগে আমি খুলনা জেলা কৃষি অফিসে (উপ-পরিচালকের দপ্তর) কাজ করতাম। অফিসের কাজ শেষে কখনও বিকেলে আবার কখনও বা সন্ধ্যায় কৃষি বিষয়ক সংবাদ (প্রেস রিলিজ) কিংবা নিজের লেখা প্রবন্ধ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই তার কাছে হাজির হতাম। সহাস্যে এগুলো রাখতেন এবং পত্রিকায় ছাপিয়ে দিতেন। যা দেখে খুব আনন্দ পেতাম এবং লেখালেখির ব্যাপারে আরও উৎসাহী হতাম।
স্মরণযোগ্য যে, ভুল ত্রুটিগুলো তিনি নিজ হাতে সংশোধন করে চমৎকার শব্দ দিয়ে সংবাদের শিরোনাম করে দিতেন। মুলতঃ আনোয়ার আহমেদ ছিলেন একজন দক্ষ সাংবাদিক এবং উন্নত মনের মানুষ। সদা হাস্যেজ্জ্বল ও সদালাপী এবং কথাবর্তায় ও চলনে-বলনে তিনি ছিলেন আদর্শনীয়। তিনি আত্মীয়-অনাত্মীয়, পরিচিত ও অপরিচিত সকলের সঙ্গে প্রীতিপূর্ণ ও রুচিসম্মত ব্যবহার করতেন।
তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর অতীতের এরকম অনেক স্মৃতি, অনেক কথাই হৃদয়ে জাগছে; অনেক ছবিই যেন স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে। আজ সাংবাদিক আনোয়ার ভাইয়ের নামটি উচ্চারনের সাঙ্গে সঙ্গে এক ঝাঁক স্মৃতি চোখের পানিতে বিন্দুতে বিন্দুতে যেন দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তর ঘটিয়ে চলে। সাংবাদিক আনোয়ার আহমেদ গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ৬ টায় রাজধানী ঢাকার লিজেন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি…….রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর  বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
এই সুন্দর পৃথিবী থেকে সকলকেই চলে যেতে হবে একদিন। এর কোন ব্যতিক্রম নেই। এটাই পৃথিবীর ধারা, জীবনেরও ধারা। ‘জন্মিলে মরিতে হবে/অমর কে কোথা কবে,। চিরস্থির করে নীড়/হায়রে জীবন নদে’। এধারা সবার জন্য সত্যি, সব সময়ের জন্য সাত্যি। এধারা অনুযায়ীই পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্খীদের শোক সাগরে ভাসিয়ে সবার মাঝ থেকে চিরতরে চলে গেলেন জনপ্রিয় সাংবাদিক আনোয়ার আহমেদ।
আপদামস্তক একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে সাংবাদিক আনোয়ার ভাই সর্বদা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে গণমাধ্যমের সেবক হিসেবে কাজ করেছেন। সহকর্মীদের আপন করে নেওয়া এবং হাতে-কলমে কাজ শেখানো ছিল তার নেশা ও পেশা। সাংবাদিক আনোয়ার আহমেদ খুলনার সাংবাদপত্র জগতে প্রায় ৪০ বছর অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করেছেন। কাজ-কর্মে তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি খুলনা ও ঢাকায় কর্মরত অনেক প্রতিভাবান ও প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকের শিক্ষা গুরু হিসেবে কিংবদন্তী হয়ে আছেন। বাংলা ভাষার উপর প্রবল দক্ষতা, ভাষার সুনিপুন শব্দ ব্যবহারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী। একজন চলমান কবি ও লেখক হিসেবেও তিনি সুখ্যাতি লাভ করেন। ‘দৈনিক জনবার্তা’র সম্পাদকীয় অত্যন্ত চমৎকার ভাষায় তিনি লিখতেন। খুলনার সাংবাদপত্র জগতে তিনি সব চেয়ে বেশি সময় ধরে বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি ‘দৈনিক জন্মভূমি’-তে বার্তা সম্পাদক পদে যোগদান করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করে গেছেন।
সাংবাদিক আনোয়ার ভাই আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি আজ দেশের মাটির কোলে চির নিদ্রায় শুয়ে আছেন। আর একটা শূন্য হাহাকার আমাদের মাঝে রেখে গেছেন। আনোয়ার ভাই রয়েছেন আমামর স্মৃতিতে সমুজ্জ্বল। তার স্মৃতি প্রতিনিয়ত আমার মনের মণিকোঠায় ভেসে উঠে। তাকে আমি সর্বক্ষন স্মরণ করি। তার শুন্যতা অনুভব করি প্রতি মুহুর্তে যা কখনই পূরণ হওয়ার নয়ধ। পরিশেষে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর নিকট মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জাপন করছি। লেখক: উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।