মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সুরাইয়াকে নিয়ে শঙ্কা কাটেনি পরিবারের


প্রকাশিত : July 23, 2017 ||

 

ডেস্ক রিপোর্ট: মায়ের কোলে শিশু সুরাইয়ামাগুরায় মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া দুই বছরে পা দিচ্ছে রবিবার (২৩ জুলাই)। দুই বছর পূর্ণ হলেও আর আট-দশটা বাচ্চার মতো স্বাভাবিক নয় সুরাইয়ার বেড়ে ওঠা। একটি চোখ অন্ধ, দাঁড়াতে পারে না, কথাও বলতে পারে না শিশুটি। তাই জন্মদিনের আনন্দের পাশাপাশি বাবা-মা শঙ্কিত কন্যার ভবিষ্যত নিয়ে।

২০১৫ সালের এই দিনে মাগুরায় নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হন সুরাইয়ার মা নাজমা বেগম। এতে গর্ভে থাকা শিশু সুরাইয়াও বিদ্ধ হয়। গুরুতর অবস্থায় মাগুরা সদর হাসপাতালে এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুরাইয়া ভূমিষ্ঠ হয়। সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর সারাদেশে তা ব্যাপক আলোচিত হয়।

সরকারসহ অসংখ্য মানুষ সুরাইয়ার প্রতি সহযোগতিার হাতও বাড়িয়ে দেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা শেষে নাজমা বেগম ও সুরাইয়া সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে যান। তবে ধীরে ধীরে সুরাইয়ার বেড়ে ওঠার মধ্যে দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিকতা।

মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় সুরাইয়াদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা নাজমা বেগম সুরাইয়াকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি বললেন, ‘কোনও রকম বসতে পারলেও সুরাইয়া দাঁড়াতে পারছে না। অস্পষ্ট দুই একটা শব্দ ছাড়া কোন কথাও বলতে পারে না সে। একটি চোখ ইতোমধ্যে অন্ধ হয়ে গেছে। অন্যটির অবস্থাও ভালো নয়। চোখের চিকিৎসার জন্য প্রতি ছয়মাস পর পর ঢাকা যেতে হয়। বাংলাদেশ আই হসপিটালের কনসালটেন্ট ডা. কাজী সাব্বির আনোয়ারের কাছে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছে সুরাইয়া। তিনি জানিয়েছেন, সুরাইয়ার ডান চোখ আর ভালো হবে না। বাম চোখ আরও পরীক্ষা করতে হবে।’

স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে সুরাইয়াকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে থেকে প্রতিমাসে ফিজিওথেরাপির জন্য যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে নিয়মিত যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান নাজমা বেগম। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিচালিত মাগুরার প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ও সাহায্য কেন্দ্রে সুরাইয়াকে এখন ফিজিও থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভুইঞা বলেন, ‘আমি সামান্য চায়ের দোকানি। নিয়মিত ঢাকা গিয়ে চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ঢাকায় যে চিকিৎসকরা সুরাইয়াকে দেখেছেন, তারা সবাই আমাদের প্রতি বেশ সহানুভূতিশীল। তারা বলেছেন, উন্নত চিকিৎসা পেলে সুরাইয়া ভালো হয়ে উঠত।’ জন্মদিনের আয়োজন সম্পর্কে নাজমা বেগম বলেন, ‘আসলে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত থাকি। তারপরও জন্মদিনে ঘরোয়াভাবে যেটুকু করা যায় সেটুকুই করব।’